মঙ্গলবার ১১ কার্তিক, ১৪২৭ ২৭ অক্টোবর, ২০২০ মঙ্গলবার

রিফাত হত্যার রায়; মিন্নি সহ মৃত্যু দন্ড প্রাপ্ত ৬

অনলাইন ডেস্ক:– বরগুনার রিফাত হত্যা মামলায় মিন্নি সহ ১০ জন প্রাপ্তবয়স্কর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। বুধবার বেলা পৌনে ২ টার দিকে বরগুনার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. আছাদুজ্জামান এই হত্যার রায় প্রদান করেন। রায়ে মিন্নি সহ ৬ জনের ফাঁসির আদেশ দেয়া হয় এবং বাকি ৪ জন কে খালাস করা হয়।

ফাঁসির আদেশ প্রাপ্তরা হলেন, রেজওয়ান আলী খান হৃদয় ওরফে টিকটক হৃদয়, আসামি রাকিবুল হাসান রিফাত ফরাজি, আল কাইউম ওরফে রাব্বি আকন, মোহাইমিনুল ইসলাম সিফাত,মো. হাসান এবং আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি।

রিফাত হত্যার অভিযোগ পত্রে রিফাত কে কেন হত্যা করা হয়েছে সেই বিষয়ে যা লেখা ছিল:

রিফাত শরীফ বরগুনা থানা এলাকায় ডিশলাইনের ব্যবসা করতেন। ১ নম্বর আসামি নয়ন বন্ড ও রিফাত শরীফ একসঙ্গে বরগুনা জিলা স্কুলে পড়ালেখা করেছেন। তাদের মধ্যে বন্ধুত্ব ছিল।

২০১৭ সালে রিফাতের সঙ্গে আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নির প্রেম হয়। পরে রিফাতের মাধ্যমে তার বন্ধু নয়ন বন্ডের সঙ্গে মিন্নির পরিচয় হয়। ২০১৮ সালে রিফাত শরীফ মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আহত হয়ে দেড় মাস চিকিৎসাধীন ছিলেন। এ সময়ে নয়ন বন্ডের সঙ্গে মিন্নির নতুন প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ২০১৮ সালের ১৫ অক্টোবর নয়ন বন্ডের বাড়িতে ৫ লাখ টাকা দেনমোহরে তাকে গোপনে বিয়ে করেন মিন্নি। বিয়ের বিষয়টি গোপন রেখে রিফাতের সঙ্গে পুরোনো প্রেমের সম্পর্ক চালিয়ে যান মিন্নি। এর কিছুদিন পর আগের একটি মামলায় নয়ন বন্ডকে কারাগারে পাঠায় আদালত। তাকে তালাক না দিয়েই ২০১৯ সালের ২৬ এপ্রিল রিফাতের সঙ্গে পুনরায় বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন মিন্নি।

নয়ন বন্ড জামিনে মুক্তি পেলে মিন্নি অত্যন্ত চতুরভাবে দুই স্বামীর সঙ্গেই সম্পর্ক বজায় রাখতেন। তিনি নয়ন বন্ডের বাড়িতে আসা-যাওয়া করতেন এবং তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক বজায় রাখতেন। এক পর্যায়ে রিফাত বিষয়টি জেনে যান এবং এ নিয়ে তাদের মধ্যে মনোমালিন্য শুরু হয়। তখন মিন্নি রিফাতের কাছে ডিভোর্স চান এবং নয়ন বন্ডের কাছে ফিরে যেতে চান।

রিফাতের সঙ্গে বিয়ের আগে ২০১৯ সালের মার্চ মাসে নয়ন বন্ড নিজের জন্মদিন পালন করেন। ওই জন্মদিনের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মিন্নি। সেই অনুষ্ঠানের ভিডিও মোবাইল ফোনে ধারণ করেছিলেন নয়ন বন্ডের বন্ধু হেলাল শিকদার। এ ভিডিও তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করেন। এটি দেখে রিফাত ২৪ জুন হেলাল শিকদারকে ডেকে নিয়ে ভিডিওটি সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করেন এবং তার মোবাইল ফোনটি নিয়ে যান। পরে হেলাল বিষয়টি নয়ন বন্ডকে জানান। নয়ন বন্ড বিষয়টি রিফাত ফরাজীকে জানান।

রিফাত ফরাজী মিন্নির স্বামী রিফাত শরীফের কাছে মোবাইল ফোনটি ফেরত চাইলে রিফাত তাকে গালাগাল করেন। বিষয়টি মিন্নিকে জানান নয়ন বন্ড। এ নিয়ে মিন্নির সঙ্গে রিফাত শরীফের ঝগড়া হয় এবং এক পর্যায়ে রিফাত শরীফ মিন্নির তলপেটে লাথি মারেন। এতে ক্ষুব্ধ মিন্নি প্রতিশোধ পরায়ণ হয়ে ফোনে ঘটনাটি নয়ন বন্ডকে জানান এবং পরদিন ২৫ জুন কলেজে যাওয়ার নাম করে নয়ন বন্ডের বাড়িতে যান। সেখানে মিন্নি পথের কাঁটা দূর করার জন্য নয়ন বন্ডের সঙ্গে রিফাত শরীফকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। মিন্নির কাছ থেকে প্রস্তাব পেয়ে নয়ন বন্ড ওই দিন বিকেলে বরগুনা সরকারি কলেজের শহীদ মিনারে আসামিদের সঙ্গে বৈঠক করে রিফাত শরীফকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। একইসঙ্গে আসামিদের পরদিন সকালে কলেজের সামনে উপস্থিত থাকতে বলেন।

পরে মিন্নি রিকশায় করে রিফাত শরীফের সঙ্গে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর মুমূর্ষু রিফাত শরীফকে বরিশাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করতে বলেন চিকিৎসকেরা। তখন মিন্নি তার জামাকাপড় রক্তে ভেজা, তাই বরিশাল যাওয়া সম্ভব নয়—এই অজুহাত দেখিয়ে নিজের বাবার বাড়িতে চলে যান এবং হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি নয়ন বন্ডকে মোবাইল ফোনে দ্রুত নিরাপদ স্থানে পালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন।

এর পরে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয় নয়ন বন্ড। আর সিসিটিভি ফুটেজ ও মামলার ভিত্তিতে আটক করা হয় ১০ জন আসামী কে।

বিষেরবাঁশী.কম/ডেস্ক/রূপা

Categories: আইন-আদালত,শীর্ষ সংবাদ,সারাদেশ

Leave A Reply

Your email address will not be published.