শনিবার ৮ কার্তিক, ১৪২৭ ২৪ অক্টোবর, ২০২০ শনিবার

আরও অনেক মালেক হয়তো আছে : স্বাস্থ্য সচিব

বিষেরবাঁশী ডেস্ক: কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ ও বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেপ্তার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের গাড়িচালক আব্দুল মালেক ওরফে মালেক ড্রাইভারকে কেন এখনো বরখাস্ত করা হয়নি তা জানতে চাওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য সচিব এম এ মান্নান। আজ সোমবার দুপুরে তিনি এ কথা জানান।

তিনি জানান, অধিদপ্তরে ফোন করে জানতে চাইবেন, কেন মালেককে এখনো বরখাস্ত করা হয়নি। মালেক বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের পদক্ষেপ কী তা জানতে চাইলে সচিব বলেন, ‘তার বিরুদ্ধে নিশ্চয়ই সরকারি চাকরি বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া এখনি বরখাস্ত করার মতো যথেষ্ট কারণ আছে।‘

সচিব আরও বলেন, ‘শুধু একজন মালেকই নয়, আরও অনেক মালেক হয়তো এখানে আছে। আমরা তাদের বিষয়ে অনুসন্ধান শুরু করেছি। কাউকে ছাড় দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না, ছাড় পাওয়ার সুযোগ নাই।’

গতকাল রোববার রাজধানীর তুরাগ থানাধীন কামারপাড়ার ৪২ নম্বর বামনেরটেক হাজী কমপ্লেক্সের তৃতীয় তলার বাসা থেকে মালেককে গ্রেপ্তার করা হয়। আজ সোমবার পৃথক দুই মামলায় সাত দিন করে তার মোট ১৪ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন ঢাকা ম্যাট্রেপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট শহিদুল ইসলাম।

র‌্যাব জানায়, ড্রাইভার মালেকের বিরুদ্ধে অবৈধ অস্ত্র ব্যবসা, জাল টাকার ব্যবসা, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে। সে তার এলাকায় সাধারণ মানুষকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে শক্তির মহড়া ও দাপট প্রদর্শনের মাধ্যমে ত্রাসের রাজত্ব সৃষ্টি করেছে এবং জনজীবন অতিষ্ঠ করে তুলেছিল। মালেক পেশায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিবহন পুলের একজন ড্রাইভার এবং তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী। তার শিক্ষাগত যোগ্যতা অষ্টম শ্রেণি। তিনি ১৯৮২ সালে সর্বপ্রথম সাভার স্বাস্থ্য প্রকল্পে ড্রাইভার হিসেবে যোগদান করেন। পরে ১৯৮৬ সালে স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিবহন পুলে ড্রাইভার হিসেবে চাকরি শুরু করেন। বর্তমানে তিনি প্রেষণে স্বাস্থ্য ও শিক্ষা অধিদপ্তরের কর্মরত রয়েছেন।

সূত্র জানায়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে ড্রাইভার্স অ্যাসোসিয়েশন নামে একটি সংগঠন তৈরি করে নিজে সেই সংগঠনের সভাপতি হয়েছেন। এই পদের ক্ষমতাবলে তিনি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ড্রাইভারদের ওপর একছত্র আধিপত্য কায়েম করেছেন। ড্রাইভারদের নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতির নামে তিনি বিপুল পরিমাণ অর্থ আদায় করতেন। এছাড়া তিনি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক প্রশাসনকে জিম্মি করে বিভিন্ন ডাক্তারদের বদলি ও পদোন্নতি এবং তৃতীয়-চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী নিয়োগের নামে বিপুল পরিমাণ অর্থ আদায় করেছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে সিন্ডিকেট করে সীমাহীন দুর্নীতির মাধ্যমে শত শত কোটি টাকা অবৈধভাবে আয় ও বিদেশে পাচার এবং জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুদকের উপ-পরিচালক মো. সামছুল আলম গত বছরের ২২ অক্টোবর তাকে দুদকে তলব করেন। তবে তার বিরুদ্ধে দুদক এখনো অনুসন্ধান শেষ করতে পারেনি।

বিষেরবাঁশী ডেস্ক/সংবাদদাতা/হৃদয়

Categories: জাতীয়,সারাদেশ

Leave A Reply

Your email address will not be published.