মঙ্গলবার ৩০ আষাঢ়, ১৪২৭ ১৪ জুলাই, ২০২০ মঙ্গলবার

না.গঞ্জে ১৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর খোরশেদের স্ত্রী করোনায় আক্রান্ত

অনলাইন ডেস্ক: রেড জোন নারায়ণগঞ্জ জেলায় করোনা হিরো খ্যাত সিটি কর্পোরেশনের ১৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদের স্ত্রী আফরোজা খন্দকার লুনা করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। তবে কাউন্সিলর খোরশেদ ও তার সন্তানেরা সুস্থ আছেন।

আজ রবিবার (২৪ মে) খোরশেদ সামাজিক ফেসবুকে এ তথ্য জানান। তিনি লিখেন, ‘হাসবুনিল্লাহি ওয়া নিমাল ওয়াকিল। আমার স্ত্রী আফরোজা খন্দকার লুনা কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হয়েছেন। আমি ও সন্তানেরা এখনো সুস্থ আছি। বাসার মধ্যেই তাকে আইসোলেশনে রাখা হয়েছে। চিকিৎসা চলছে। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন অবশ্যই আমাদের হেফাজত করবেন ইনশাআল্লাহ। আপনাদের দোয়া চাই। আমাদের দাফন সৎকার, খাদ্য সহায়তা, টেলিমেডিসিন, প্লাজমা সংগ্রহ সহ সকল কার্যক্রম অব্যহত থাকবে ইনশাআল্লাহ।’

খোরশেদ জানান, ২২ মে নমুনা সংগ্রহ করা হলে ২৩ এপ্রিল তার ফলাফলে আমার স্ত্রী আফরোজা খন্দকার লুনা আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন। তিনি বাড়িতেই ছিলেন এবং কোথাও যাননি, কিভাবে আক্রান্ত হয়েছে সেটি নিশ্চিত নই। তবে এখন পর্যন্ত নানা কাজ করেছি, করছি ২২ তারিখ আমিও নমুনা দিয়েছিলাম তবে আমার নেগেটিভ এসেছে।

বিজ্ঞাপনটি দেখতে ক্লিক করুন

করোনার সময়ে আলোচিত এ মুখের কার্যক্রমের প্রশংসা দেশ ছাড়িয়ে বিশ্ব মিডিয়ায়ও উঠে আসে। তিনি তার স্ত্রী আক্রান্ত হলেও তার সকল কার্যক্রম অব্যাহত রাখবেন বলে জানান। ঈদের দিনও তারা সব ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।

প্রসঙ্গত কাউন্সিলর খোরশেদ এখন পর্যন্ত তার টিম ৫৫ টি লাশ দাফন করেছে করোনার শুরু থেকে। এর মধ্যে ১৮টি করোনা পজিটিভ, ৭টি স্বাভাবিক মৃত্যু ও বাকিগুলো করোনার উপসর্গে মারা গেছেন।

ইতোমধ্যে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন থেকে শত শত লাশ দাফনের সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিলেও কার্যত করোনা আক্রান্ত কিংবা করোনার উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর পর মানুষ খোরশেদের টিমকে ফোন দিচ্ছেন এবং তাদের উপর আস্থা রাখছেন। এ ছাড়াও ঈদের পরদিন থেকে আক্রান্ত হয়ে সুস্থ হওয়া ব্যক্তিদের যারা সেচ্ছায় রক্তের প্লাজমার জন্য রক্তদান করতে চান তাদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে রক্তগ্রহণ কার্যক্রম করবেন তার টিম।

খোরশেদ জানান, সম্প্রতি কয়েকটি লাশের দাফনের সময় আমরা শরীরে অন্যরকম দাগ ফুটে উঠতে দেখতে পাচ্ছি। এগুলো করোনা আক্রান্ত ও উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়াদের। এরকম দাগের উপসর্গ আমেরিকাতে আক্রান্তদের মৃত্যুর পর পাওয়া গেছে বলে জেনেছি। যদি এটি হয়ে থাকে তাহলে খুবি ভয়াবহ দিক এটি। আমরা ঈদেও প্রস্তুত রয়েছি।

খোরশেদ নিজের উদ্যোগে করোনার শুরু থেকেই তার ওয়ার্ডের বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা করেন, হ্যান্ড স্যানিটাইজার সঙ্কট হওয়ার পর নিজে হাজার হাজার বোতল তৈরি করে বিতরণ করেন, ঘরে ঘরে খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দিচ্ছেন। করোনায় আক্রান্তদের দাফন পাশাপাশি সৎকার কাজের অংশ নিচ্ছেন। এলাকায় সড়কে ও ঘরে জীবানুনাশক স্প্রে করছেন, যানবাহন জীবাণুমুক্ত করতে স্প্রে অব্যহত রেখেছেন, ডিজিটাল পদ্ধতিতে অনলাইন ও মাইকে ঘরে ঘরে দোয়ার ব্যবস্থা করেছেন, মানুষকে সচেতন করতে নিয়মিত প্রতি এলাকায় মাইকিং করাচ্ছেন, নিজের সর্বোচ্চ চেষ্টা করে স্বেচ্ছাসেবীদের নিয়ে টিম গঠন করে এলাকায় এলাকায় আড্ডা বন্ধ করতে অনুরোধ করছেন এবং তার ওয়ার্ডবাসীর স্বাস্থ্যসেবা ও পরামর্শে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিয়ে টেলি মেডিসিনসেবা চালু করেছেন তিনি।

এছাড়া শুধু তার ওয়ার্ড নয়, নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন এলাকার করোনা আক্রান্ত ব্যক্তিদের মরদেহ দাফনে কেউ এগিয়ে না এলেই তিনি ও তার স্বেচ্ছাসেবক টিম এগিয়ে আসছেন। তার ওয়ার্ডসহ বিভিন্ন এলাকায় তিনি বিনামূল্যে সবজি বিতরণ কার্যক্রমও শুরু করেছেন এবং এটি ঈদের পরও অব্যাহত থাকবে।

সূত্র: নিউজ নারায়ণগঞ্জ

বিষেরবাশিঁ.কম/ডেস্ক/মৌ দাস

Categories: নারায়ণগঞ্জের খবর

Leave A Reply

Your email address will not be published.