শুক্রবার ২৩ শ্রাবণ, ১৪২৭ ৭ আগস্ট, ২০২০ শুক্রবার

মানবতার মূর্ত প্রতীক চট্টগ্রামের একজন অমায়িক দানবীর মহর্ষী অদুল কান্তি চৌধুরী

সুভাষ সাহা: হিন্দু,মুসলিম,বৌদ্ধ,খৃষ্টান ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে আজীবন মানবসেবায় কাজ করে যেতে চান অদুল কান্তি চৌধুরী ।

“যদা যদা হি ধর্মস্য গ্লানির্ভবতি ভারত।
অভ্যুত্থানমধর্মস্য তদাত্মানং সৃজাম্যাহম।”

অর্থাৎ যখনই ধর্মের অঃধপতন হয় এবং অধর্মের অভ্যুত্থান হয়,তখন ভগবান নিজেকে প্রকাশ করে অবতীর্ণ হন।

চট্টগ্রামের বোয়ালখালি উপজেলায় তেমনি একজন মানবতাবাদী অদুল কান্তি চৌধুরীর নাম অনেকের মুখেমুখে। এ প্রসঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ে স্নাতকোত্তর সমাজকর্মী রাজীব কুমার সাহা বলেন, দেবতুল্য অদুল কান্তি চৌধুরীর সাথে পরিচয় না হলে আজ-অব্দি জানাই হতো না তিনি এতো বড় মাপের একজন অসাধারণ মানবিক গুণসম্পন্ন মানুষ।

অসাম্প্রদায়িক চেতনায় উদ্ভুদ্ধ অদুল কান্তি চৌধুরী একজন ধর্মপরায়ন, মানবিক গুণসম্পন্ন বাংলাদেশী দেশপ্রেমিক নাগরিক। করোনার দুঃসময়ে মানবতার পাশে ‘অদুল – অনিতা ফাউন্ডেশনঃ বাংলাদেশে করোনা ভাইরাস কোভিড-১৯ মহামারির শুরু থেকেই সমাজহিতৈষী অদুল কান্তি চৌধুরীর সাহায্য সহযোগিতার বিশাল কর্মযজ্ঞের খবরাখবর চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে।

জনপ্রতিনিধি না হয়েও একজন সফল ব্যবসায়ী ও শিল্পোদ্যোক্তা অদুল কান্তি চৌধুরী সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে হতদরিদ্রদের মাঝে উদার হস্তে দান করে যাচ্ছেন। “অদুল-অনিতা ফাউন্ডেশনের” স্বেচ্ছাসেবীরা অগণিত অভাবগ্রস্থ পরিবারের ঘরে ঘরে পৌঁছে দিচ্ছেন পর্যাপ্ত খাদ্যসমগ্রী। প্রতিদিনই ত্রানের বহর নিয়ে ছুটে চলেছে দুর্গম পাহাড়ী উপজাতি আদিবাসী সহ বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের দোরগোড়ায়।

এ প্রসঙ্গে রাজীব সাহা এ প্রতিনিধিকে জানান, ‘অদুল-অনিতা’ ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে ইতোমধ্যে ৮ হাজারের অধিক হতদরিদ্র পরিবারের মাঝে কোটি টাকার অধিক সমমূল্যের ত্রাণসামগ্রী উপহার বিতরণ করা হয়েছে। এ ত্রাণ কার্যক্রম এখনো অব্যহত আছে। অদুল কান্তি চৌধুরীকে কেউ কেউ তুলনা করেন টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের কৃতীসন্তান ক্ষণজন্মা মহর্ষি দানবীর রণদা প্রসাদ সাহার সাথে।

মানবপ্রেমে উদ্ভুদ্ধ রণদা প্রসাদ সাহা(আর পি সাহা)১৯ ৭১ সালের ৭ মে তারিখে পাক হানাদারদের হাতে গুম হওয়ার আগপর্যন্ত দীর্ঘ ২৮/ ২৯ বছরে নিজের কষ্টার্জিত অর্থে ধর্মবর্ণ নির্বিশেষে সকলের জন্য হাসপাতাল, নার্স ইন্সটিটিউট, স্কুল-কলেজসহ বহু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন। এর মধ্যে ভারতেশ্বরী হোমস, দেবেন্দ্র কলেজ, মির্জাপুর হাসপাতাল অন্যতম।

বিজ্ঞাপনটি দেখতে ক্লিক করুন

সাম্প্রতিককালে এই বাংলায় এমনি আরেকজন অসাধারণ মানবিক গুণসম্পন্ন অন্তর্মুখী মহৎ মানুষের আবির্ভাব ঘটেছে,যাঁর মধ্যে দানবীর রণদা প্রসাদ সাহার বহু মানবিক গুণাবলির প্রতিচ্ছবি দেখা যায়। তিনি হলেন অদুল কান্তি চৌধুরী, যাঁর বয়স ৫৬। বাবা ক্ষুদিরাম চৌধুরী ও মা নীরুবালা চৌধুরীর জ্যাষ্ঠ পুত্র অদুল কান্তি চৌধুরীর স্বপ্ন ছিল স্থপতি হওয়ার। কিন্তু পড়াশোনা করেছেন ইলেক্ট্রক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে।

১৯৮৭ সালে ভাগ্যান্নেষণে পাড়ি জমান দুবাই। সেখানে টানা ৮ বছর প্রখর রোদ্রে পুড়ে নিজেকে তৈরি করেন। ১৯৯৬ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাতে স্বল্প পুঁজি দিয়ে আল্ মুহারিক ট্রেডিং নামে প্রথম ব্যবসা শুরু করেন। ২০০০ সালে আল মুহারিক পাম্প ট্রেডিং নামে দ্বিতীয় প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিশ্ববিখ্যাত বহু ব্রান্ডের সাথে পাল্লা দিয়ে মধ্যপ্রচ্যের একচেটিয়া বাজার দখল করে বাংলাদেশী ব্রান্ডকে প্রতিষ্ঠিত করেন। তারপর আর পোছনে তাকাতে হয়নি।

গত ১৫ পছরে ব্যবসা বেড়ে ইন্ডাস্ট্রিসহ ১২ টিরও বেশি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন আরব আমিরাতে। ব্যবসায় সাফল্য আসার পর থেকেই শ্রী চৌধুরী সামাজিক কর্মকাণ্ডে নিজেকে উদারভাবে সম্পৃক্ত করেন।

প্রচার প্রচারণার আড়ালে সমাজ বিনির্মাণে তাঁর বিশাল কর্মযজ্ঞ ইতোমধ্যে অনেকের নজর কেড়েছে। বোয়ালখালিতে মায়ের নামে নিরুবালা চৌধুরী একাডেমি, নিরুবালা চৌধুরি অডিটোরিয়াম, নিরুবালা কম্পিউটার ল্যাবসহ বহু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেন। গড়ে তুলেছেন বৃদ্ধাশ্রম, এতিখানা, উপাসনালয়।

খাগড়াছড়ি তে ছোট গাছবান শিবমন্দির, মেধস আশ্রমে কামাখ্যা মন্দির, কধুরখালি মিলনমন্দিরে দুতলা কৃষ্ণ মন্দির, বালুয়ারা দীঘিরপার শিবমন্দির, নেহালপুরে বাসুদেব যুগাশ্রম, সীতাকুণ্ডে শঙ্করহাটে অতিথি নিবাস, কালীছড়ির কালীমন্দির, পটিয়ায় দক্ষিণভূর্ষি লক্ষ্মীনারায়ণ মন্দির, চেরাছরা লক্ষ্মীনারায়ণ মন্দির, ভান্ডারজুড়ি রাধাবিগ্রহ মন্দিরসহ অসংখ্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান।এছাড়া চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মন্দিরের নান্দনিক স্থাপিত শৈলীর নির্মাণকাজও শেষ পর্যায়ে।

ছোটভাই স্কুল শিক্ষক প্রবীর চৌধুরী বলেন, “গরীব ঘরের বিবাহযোগ্যা মেয়ের বিয়ে , চিকিৎসা, পড়াখরচ, গৃহহারাদের ঘর নির্মাণসহ হিন্দু মুসলমান বৌদ্ধ খৃষ্টানসহ ধর্মবর্ণ নির্বিশেষে সকলের জন্য সাধ্যমতো সবকিছু করেন অদুল কান্তি চৌধুরী।।

অদুল-অনিতা ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা চট্টগ্রামের কৃতী সন্তান অদুল কান্তি চৌধুরী বৃহত্তর চট্টগ্রামের সমতল – অসমতল ভূমির বিস্তৃত এলাকার সকল সম্প্রদায়ের কাছে জনপ্রিয় একটি নাম। অভাব অনটনে জর্জড়িত পার্বত্য অঞ্চলের ক্ষয়িষ্ণু ও বিলুপ্ত প্রায় উপজাতি গোষ্ঠীসহ উপকারভোগীদের হৃদয়ে দানবীর অদুল কান্তি সাক্ষাৎ দেবতা।

এতো বিত্ত বৈভভ,অর্থসম্পদের মালিক হয়েও তিনি শুধুমাত্র নিজের পরিবার নিয়ে সুখের সাগরে গা ভাসাননি। হতদরিদ্র মানুষদের জন্য কিছু করার সংকল্প থেকে বিচ্যুত হননি একচুলও।

কাড়ি কাড়ি বৈদেশিক মূদ্রা বিদেশি ব্যাংকে মজুদ না করে দেশের অসহায় মানুষের জন্য কী করা যায় সেই ভাবনা অদুল চৌধুরীকে তাড়িত করে প্রতিমুহূর্তে। অদুল চৌধুরী আসলে অন্য ধাতুতে তৈরী একজন অন্যরকম মানুষ।

কাজী নজরুল ইসলামের ‘দারিদ্র্য কবিতার’ দুই লাইন-আবারো স্মরণ করতে হয়….

‘হে দারিদ্র,তুমি মোরে করেছো মহান্,
তুমি মোরে দানিয়াছ খৃষ্টের সম্মান’

দারিদ্রই তাঁকে মহান করেছে একথা তিনিও অস্বীকার করেন না।

অর্থবিত্তের মাফকাঠিতে নয়,জ্ঞানগরিমা ও মানবিক গুণাবলির দিক থেকে শ্রী রণদা প্রসাদা সাহার সাথে শ্রী অদুল কান্তি চৌধুরীর রয়েছে এক অপূর্ব মিল যেন মূদ্রার এপিঠ ওপিঠ। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় ন্যুনতম সরকারি সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত অনগ্রসর পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর জন্য অন্ন, বস্ত্র, শিক্ষা ও মাথাগোঁজার ব্যবস্থা করে ইতোমধ্যে তিনি সবচেয়ে বেশি প্রশংসা কুড়িয়েছেন।।

অদুল চৌধুরী বলেন, ইটপাথরের মন্দিরকে মানব মন্দিরে রূপান্তরিত করতে না পারলে মানবজীবন অর্থহীন। মান্দির হবে মানুষে মানুষে ভাতৃত্ববোধ তৈরির সুতিকাগার। ধর্ম হচ্ছে বিশ্বাস, যা হৃদয়ে ধারন করতে হয়।

অহিংসায় দিক্ষিত হয়ে নিজ নিজ ধর্মবশ্বাসকে হৃদয়ে রোপন করতে হবে। বিশ্বাসটা শেকড়ে প্রোথিত করতে না পারলে কোন অর্জনই টেকসই হয় না। সনাতনিদের বৈদিক শিক্ষার ভিত্তিটা মজবুত করতে হবে।

তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, গোত্র-গোষ্ঠীর বিভাজনের ফলে সনাতনীরা ক্রমশঃ সঙ্কটের বেড়াজালে আটকে যাচ্ছে! এর অবসান দরকার। সবাইকে একহয়ে জীবন্ত ঈশ্বরের সেবাকে অগ্রধিকার দিতে হবে। অসহায় দরিদ্রদের পাশে দাঁড়াতে হবে।।

শ্রী চৌধুরী আরো বলেন,’যে ঈশ্বরকে চোখে দেখিনা,অথচ এই ঈশ্বরকে উপলক্ষ্য করে কোটি টাকার আলোকসজ্জা ও বাজি পোড়াতে দ্বিধা করিনা! অনাহারী মানুষের পাতে একবাটি আহার দেয়া, স্বনির্ভর করতে সাহায্য করাই অনেক বেশি পুন্যির কাজ।

এঁদের সেবা করলে ঈশ্বর খুশি হন। মানবতাই ধর্ম। ধর্মই মানবতা।।

এইসব মহতী কার্যক্রমের সঙ্গে অদুল কান্তি চৌধুরীকে সার্বক্ষণিক পাশে থেকে সহযোগিতা করেন মানবতার আরেক মূর্ত প্রতীক তাঁর সহধর্মিনী শ্রীমতি অনিতা চৌধুরী। এই দম্পতির এক কন্যা অঙ্কিতা ও পুত্র অঙ্কুসকেও যুক্ত করেছেন ফাউন্ডেশন ও ট্রাস্টের কার্যক্রমের সাথে। লন্ডন, আমিরাতে পড়াশোনা করা অঙ্কিতা, অঙ্কুসের জীবনযাপনও সাধারণ। সহজেই মিশে যেতে পারে গ্রামের খেটে খাওয়া দিনমজুর ও চাষীদের সাথে।

অদুল-অনিতা দম্পতী,তাদের দুই সন্তান ‘ফাউন্ডেশন’ ও ট্রাস্টের উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি কামনা করেন শ্রী রাজীব কুমার সাহা।

বিষেরবাশিঁ.কম/ডেস্ক/মৌ দাস

Categories: খোলা বাতায়ন,চিত্র-বিচিত্র,বিনোদন

Leave A Reply

Your email address will not be published.