বুধবার ১৩ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ ২৭ মে, ২০২০ বুধবার

রাতের আঁধারে দরজায় খাবার রেখে আসেন কাউন্সিলর

অনলাইন ডেস্ক: কোনো ক্যামেরাম্যান নেই। নেই কোনো ব্যানার। সঙ্গে শুধু ৪-৬ জন লোক। যাদের সবার দুই হাতে খাদ্য সামগ্রী। খাদ্য সামগ্রীগুলো রেখে দেয়া হচ্ছে অসহায়দের ঘরের দরজার সামনে। আসার সময় দরজায় কয়েকটি টোকা দিয়ে আসছেন তারা। ঘরের বাসিন্দারা দরজা খুলে কাউকে খুঁজে পান না। তবে যা পান তা অবাক করার মতো। দরজার সামনেই একটা ব্যাগ। ব্যাগের মধ্যে চাল, ডাল, তেল, পেঁয়াজ, আলু ও আটাসহ খাদ্য সামগ্রী।

এ সময় মনের অজান্তেই চোখ দিয়ে পানি চলে আসে ঘরের বাসিন্দাদের। পরে খবর নিয়ে জানতে পারেন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ৪ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আরিফুল হক হাসান ও তার লোকজন এসব খাদ্য সামগ্রী দরজার সামনে রেখে গেছেন।

এলাকাবাসী জানায়, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের সিদ্ধিরগঞ্জের ৪ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আরিফুল হক হাসান জাতীয় শ্রমিক লীগের সাবেক সভাপতি আব্দুল মতিন মাষ্টারের বড় ছেলে। এ নিয়ে দ্বিতীয়বার তিনি নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন। ইতোপূর্বে শীত এবং অন্যান্য দুর্যোগের সময় দরিদ্র ও অসহায় এলাকাবাসীর সাহায্যে এগিয়ে আসা আরিফুল হক হাসান করোনা দুর্যোগের সময় রাতের আঁধারে অসহায় এলাকবাসীর ঘরে খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে দিচ্ছেন। অসহায় ওয়ার্ডবাসীকে লজ্জায় না ফেলতে এবং সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতেই এমন কৌশলে অবলম্বন করেছেন। একই কারণে খাদ্য সামগ্রী বিতরণের খবর কোনো গণমাধ্যম এমনকি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও প্রচার করতে দেননি নিজ কর্মী ও সহযোগীদের। করোনার শুরুতে মসজিদে কোরআন খতম ও এলাকাবাসীকে সচেতন করতে লিফলেট বিতরণ করেছিলেন তিনি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাউজিং এলাকার এক বাসিন্দা বলেন, এবার প্রথম ত্রাণ পেলাম। তাও ঘরের দরজার সামনে। সবাই ত্রাণ দিয়ে ছবি তুলতে চায়। কিন্তু কোনো প্রকার ছবি তোলা ছাড়া দরজার সামনে খাদ্য সামগ্রীর ব্যাগ পেলাম, যা অবাক করার মতো। এভাবে সবাই যদি রাতে ত্রাণ দিতো তাহলে আমাদের মতো মধ্যবিত্তের অনেক উপকার হতো। আমরা লজ্জা থেকে বাঁচতাম।

এ বিষয়ে কাউন্সিলর আরিফুল হক হাসান জানান, করোনাভাইরাসের ভয়াবহতা থেকে দেশবাসীকে রক্ষা করতে সরকার গত ২৬ মার্চ থেকে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে। এতে আমার ৪ নং ওয়ার্ডে দিন এনে দিন খাওয়া মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়ে। তার ওপর লকডাউন। এমন পরিস্থিতিতে কর্মহীন অসহায় মানুষগুলোর ঘরে ক্রমান্বয়ে খাবার সংকট দেখা দেয়ার খবর জানতে পারি। সেই প্রেক্ষিতে গোপনে সেই সব মানুষের তালিকা করি। পরবর্তীতে তালিকা অনুয়াযী আমার লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে রাতে তাদের বাড়ির দরজায় খাদ্য সামগ্রীর ব্যাগ রেখে আসি। আসার সময় বন্ধ দরজায় কয়েকটি টোকা দিয়ে আসি, যাতে লোকগুলো বুঝতে পারে। খাদ্য সামগ্রী গ্রহণের সময় কাউকে যাতে সংকোচে বা লজ্জায় পড়তে না হয় এ জন্যই এই কৌশল বলে জানান তিনি। (জাগোনিউজ)

বিষেরবাশিঁ.কম/ সংবাদদাতা /নিরাক

Categories: নারায়ণগঞ্জের খবর,সারাদেশ

Leave A Reply

Your email address will not be published.