সোমবার ১১ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ ২৫ মে, ২০২০ সোমবার

নারায়ণগঞ্জের পালপাড়ায় অঘোষিত লকডাউন

অনলাইন ডেস্ক: নারায়ণগঞ্জ জেলার বন্দর এলাকায় করোনায় এক নারীর মৃত্যুর ঘটনায় সেখানে লকডাউনের পর এবার নারায়ণগঞ্জ শহরের পুরাতন পালপাড়ায় জ্বর ঠান্ডা ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে এক যুবকের মৃত্যুর ঘটনায় ওই এলাকায় প্রবেশের দুই মুখ টিন দিয়ে বন্ধ করে দিয়েছে এলাকাবাসী। যাতে করে বহিরাগত কেউ প্রবেশ না করতে পারে কিংবা ওই এলাকার কেউ অপ্রয়োজনে বাইরে বের না হতে পারে।

গতকাল (৩ এপ্রিল) শুক্রবার রাতে পালপাড়া এলাকার বঙ্গবন্ধু সড়কের পাশে একটি মুখ গেইট দিয়ে তালা দেওয়া হয়। এছাড়াও অন্যদিকে ফকিরটোলা মসজিদের পাশে টিন দিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়।

এলাকাবাসী জানান, সম্প্রতি পালপাড়া এলাকার একটি বহুতল ভবনের বাসিন্দা এক যুবক ঠান্ডা জ্বর সহ শ্বাস কষ্টে আক্রান্ত হয়। এ নিয়ে সে শহরের নয়ামাটি এলাকায় হোসিয়ারী দোকানেও যাওয়া আসা করে। কিন্তু বৃহস্পতিবার বিকেলে ওই যুবক গুরুতর অসুস্থ হয়ে পরে। তখন পরিবারের সদস্যরা তাকে প্রথমে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে ডাক্তার তাকে ঢাকা কুর্মিটোলা হাসপাতালে পাঠানোর নির্দেশ দেয়।

পরে স্বজনরা তাকে ঢাকা কুর্মিটোলা হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করে। সেখানেই ওই যুবক মারা যায়। পরে সেখানে নমুনা সংগ্রহ করা হয়। ওইসময় সেখানকার ডাক্তাররা স্বজনদের হোম কোয়ারেন্টিনে থাকার জন্য নির্দেশ দেন।

তবে ওই যুবককের শরীরে করোনা ভাইরাস ছিল না কিংবা ভাইরাসের উপসম দেখা দিয়েছে কিনা কিছুই নিশ্চিত করে বলেনি। পরে স্বজনরা যুবককের মৃত দেহ এনে তড়িগড়ি করে শহরের মাসদাইর শশ্মানে দাহ করে।

এসময় শ্মশানে ঠান্ডা জ্বর ও শ্বাসকষ্টে মারা যাওয়ার কথা ছড়িয়ে পরলে সেখানকার পূজারী সহ সৎকারের সহযোগিরা সকলেই পালিয়ে যায়।

ওই এলাকার বাসিন্দা ও নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর অসিত বরণ বিশ্বাস গণমাধ্যমকে বলেন, এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ওই যুবক করোনা ভাইরাস আক্রান্ত ছিল ধারণা করা হচ্ছে। যেহেতু এখনও পর্যন্ত আইইডিসিআর থেকে কোন কিছু জানানো হয়নি তারপরও সর্তকতার জন্য এলাকাবাসী বহিরাগতদের প্রবেশ ও অতিজরুরী প্রয়োজন ছাড়া এলাকার বাইরে যাওয়া নিষেধ করেছে। এজন্য ওই এলাকায় প্রবেশের দুইটি রাস্তার একটি গেইটে তালা দিয়েছে আর অন্যটিতে টিন দিয়ে বন্ধ করে দিয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, সচেতন হওয়ার জন্য এ উদ্যোগ নিলেও মানুষের মধ্যে একটা ভয় কাজ করছে ওই ভবনের আর কেউ করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত আছে কিনা। সেজন্য আমরা তাদের ঘর থেকে বের হতে নিষেধ করেছি। একই সঙ্গে তাদের নমুনা পরীক্ষার জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।  শনিবার নারায়ণগঞ্জ স্বাস্থ্য বিভাগের  সহায়তায় তাদের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হবে। তারপরই নিশ্চিত হওয়া যাবে কেউ আক্রান্ত আছে কিনা। তবে সবাইকে সচেতন ও সর্তক হওয়ার জন্য এক অঘোষিত লকডাউনের মতোই থাকতে বলা হয়েছে।

সূত্র: নিউজ নারায়ণগঞ্জ

বিষেরবাঁশি.কম/ডেস্ক/মৌ দাস

Categories: নারায়ণগঞ্জের খবর

Leave A Reply

Your email address will not be published.