রবিবার ৮ আশ্বিন, ১৪২৫ ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ রবিবার

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়: কলঙ্কজনক ঘটনায় ছি ছি

  • অনলাইন ডেস্ক

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য প্যানেল নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সিনেট ভবনের বাইরে ছাত্র ও শিক্ষকদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনাকে অনভিপ্রেত ও দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. এএসএম মাকসুদ কামাল। তারা বলছেন, নজিরবিহীন এ ঘটনা পুরো শিক্ষা পরিবারের জন্য কলঙ্কজনক।

শনিবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি নির্বাচনের লক্ষ্যে সিনেট সভা শুরু হওয়ার কিছুক্ষণ আগে বিশ্ববিদ্যালয় সিনেটে শিক্ষার্থী এবং গ্র্যাজুয়েট প্রতিনিধি না থাকার প্রতিবাদে এবং ডাকসু নির্বাচনের দাবিতে সিনেট ভবনের বাইরের ফটকে শিক্ষার্থীরা জড়ো হয়। এক পর্যায়ে তারা সিনেট ভবনের বাইরের ফটক ভেঙে ভেতরের ঢুকতে চাইলে এবং কিছু শিক্ষক তাদের বাধা দিতে গেলে হাতাহাতি এবং ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে।

রোববার ওই ঘটনা তদন্তে কমিটি করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। তিন সহকারী প্রক্টরের সমন্বয়ে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রধান করা হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ফজলুর রহমানকে। কমিটির অপর দুই সদস্য হচ্ছেন রসায়নের অধ্যাপক আফতাব আলী শেখ এবং ভুগোল ও পরিবেশ বিভাগের অধ্যাপক মাকসুদুর রহমান।জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক কোষাধ্যক্ষ এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়েরর উপাচার্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন: আমি মিডিয়ার খবরে বিষয়টি সম্পর্কে জেনেছি। এ ধরনের ঘটনা আসলেই দুঃখজনক। শুধু একটি বিশ্ববিদ্যালয় নয়, পুরো শিক্ষা পরিবারের জন্যই এ ঘটনা অনভিপ্রেত।

এ ধরনের ঘটনা কারও কাম্য নয় মন্তব্য করে অধ্যাপক এএসএম মাকসুদ কামাল চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন: শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের পরষ্পরের প্রতি আস্থাশীল হতে হবে। তাদের পরষ্পরবিরোধী অবস্থান কোনভাবেই মেনে নেওয়ার মতো নয়।

ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন: শিক্ষার্থীরা কেন গেট ভেঙে ভেতরে ঢুকতে যাবে? বাইরে প্রতিবাদ করলেও পারতো। আবার যখন ঢুকেই পড়েছে তখন শিক্ষকরাই বা তাদের সঙ্গে ধস্তাধস্তিতে জড়াবেন কেন? আর অন্য একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম কেন ক্ষুন্ন করলো সেটাও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থা নেওয়া উচিত বলে মনে করেন আর্থ এন্ড এনভায়রনমেন্ট অনুষদের এ ডিন।

হাতাহাতির ওই ঘটনায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষকের নাম এসেছে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ কাজী ফারুক হোসেন নামের ওই শিক্ষক তাদের সঙ্গে ধস্তাধস্তি করেন এবং গায়ে হাত তোলেন।
ওই আন্দোলনের সমন্বয়কারী এবং মাস্টার্সের শিক্ষার্থী মাসুদ আল মাহদী চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, আমরা সিনেট ভবনের সামনে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু আমাদেরকে বাইরের গেটেই আটকে দেয়া হয়। এরপর আমরা ভেতরে ঢুকতে চাইলে সহকারী প্রক্টর রবিউল ইসলামসহ কয়েকজন শিক্ষক আমাদের দিকে তেড়ে এসে গায়ে হাত তোলেন। এর মধ্যে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষকও ছিলেন বলে আমরা পরে জানতে পারি।

নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের ওই শিক্ষক সম্পর্কে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মীজানুর রহমান বলেন: কেউ যদি আমাদের কাছে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জগন্নাথের শিক্ষক কাজী ফারুক হোসেন।

শিক্ষার্থীদের ওপর হাত তোলার ঘটনা ঘটেনি দাবি করে চ্যানেল আই অনলাইনকে তিনি বলেন: আমি যখন দেখলাম কিছু বাম সংগঠনের নেতাকর্মী আমাদের শিক্ষকদের গায়ে হাত তুলছেন, তখন আমি তাদের প্রতিহত করার চেষ্টা করেছি মাত্র।ঘটনাস্থলে আসার কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন: সূর্যসেন হল ক্রিকেট টুর্নামেন্টে আমি একটি দলের মালিক। বিকেলে খেলা থাকায় আমি ওইদিন ক্যাম্পাসে আসি। সিনেট ভবনের সামনে দিয়ে আসার সময় দেখলাম কিছু শিক্ষার্থী গেট ঠেলাঠেলি করছে। একপর্যায়ে গেট খুলে তারা যখন শিক্ষকদের গায়ে হাত তুলছে তখন আমি গিয়ে তাদের প্রতিহত করার চেষ্টা করি।

‘আমি নিজেও একজন শিক্ষক এবং এই বিশ্ববিদ্যালয়েরই ছাত্র। আমার সামনে যখন আমার শিক্ষকদের গায়ে হাত তোলা হয় তখন আমি তা প্রতিহত করার চেষ্টা করি। কারও গায়ে হাত তোলার ঘটনা ঘটেনি।’

জগন্নাথের ওই শিক্ষকের হয়ে কথা বলছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর অধ্যাপক ড. এএম আমজাদও।

চ্যানেল আই অনলাইনকে তিনি বলেন: ওই শিক্ষক আমাদেরই ছাত্র। আইইআর এ এমফিল করছে। সে যখন দেখেছে তার শিক্ষকরা আক্রান্ত হচ্ছেন তখন হয়তো সে তা ঠেকানোর চেষ্টা করেছে।

শিক্ষার্থীদের গায়ে শিক্ষকরা ইচ্ছাকৃতভাবে ধস্তাধস্তিতে জড়াননি দাবি করে তিনি বলেন: শিক্ষকদের ঠেলে যাওয়ার সময় তাদের (শিক্ষার্থীদের) ঠেকাতে গেলে হয়তো তাদের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি হয়। তবে কোন শিক্ষক ইচ্ছাকৃতভাবে কারও সঙ্গে ধস্তাধস্তিতে জড়াননি।

ওইদিন আসলেই কী ঘটেছিল তা তদন্ত করে বের করতেই কমিটি করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

 

বি.বা/ডেস্ক/ক্যানি

Categories: শিক্ষা

Leave A Reply

Your email address will not be published.