মঙ্গলবার ২৪ চৈত্র, ১৪২৬ ৭ এপ্রিল, ২০২০ মঙ্গলবার

অনিয়মে নিমজ্জিত কুমারখালী উপজেলা স্বস্থ্য কমপ্লেক্স

বিশেষ প্রতিনিধি: কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার আকুল উদ্দিনের বিরুদ্ধে অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারীতা, সরকারি  চাকুরি বহি:ভূত বিদেশে যাতায়যাত, বহিরাগতদের দিয়ে রোগীদের নিকট থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়, সরকারি নিয়োগকৃত ড্রাইভার দিয়ে সরকারি গাড়ী না চালিয়ে বিশেষ সুবিধার কারনেব্যক্তিগত ড্রাইভার দিয়ে সরকারি গাড়ী চালানোসহ একাধিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অনৈতিক দাবির কারনে ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকর্মীদের সাথে বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে, যা মেটাতে দ্বারস্থ হয়েছেন স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের। ডাক্তার আকুল উদ্দিনের এই সকল অনিয়ম বন্ধে স্থানীয় সাংসদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগি মহল। অনুসন্ধানে জানাযায় প্রায় দেড় যুগ আগে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মেডিক্যাল অফিসার হিসাবে যোগদান করেন  ডাক্তার আকুল উদ্দিন (১১০৮৫৯)। এই সময়ের মধ্যে মাত্র মাস পাচেক দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চাকুরি রক্ষার্থে কুমারখালী থেকে যাতায়াত করতেন। দীর্ঘ দিন একই জায়গাতে চাকুরি করার সুবিধায় দুর্ণীতির খাতাটাও হয়েছে বড়। সমসাময়িক সময় দেখা গেছে কুমারখালী উপজেলা ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কর্মীরা তার অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রতিবাদ করার কারনে প্রায় অর্ধশত ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকর্মীকে মানুষিক ও অফিসিয়াল ভাবে হেনোস্থা করেন। তাদের অভিযোগ রয়েছে বার্ষিক বনভোজনের নামে সকল ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কর্মীদের কাছ থেকে দুই হাজার টাকা করে চাঁদা বাধ্যতামূলক নেওয়া হয়েছে। ডাক্তার আকুল উদ্দিনের নিয়ম বহি:ভূত আদেশ না মানলে, বা তার প্রতি আনুগত্য শিকার না করলে সেই ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কর্মীকে সরকারি পাওনা অথবা ঐছিক ছুটি দেওয়া হয়না। সে যদি অসুস্থও হোন। আবার অনেকের ক্ষেত্রে ছুটিও দরকার হয়না, তবে ছুটিতে থাকেন! স্বাস্থ্য কর্মিদের বদলী করা হয় ডাক্তার আকুল উদ্দিনের খেয়াল খুশি মত। আস্থা ভাজনদের ক্ষেত্রে উল্টো। প্রমান পাওয় যায় ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকর্মী ফারুককের ক্ষেত্রে। জেষ্ঠ্যতার ভিত্তিতে পদোন্নতি হওয়ার কথা থাকলেও  ফারুকের ১০ থেকে ১২ বছরের সিনিয়রদের বাদ রেখে ফিল্ড এ্যাসিসেস্টেন্ট ইন্সপেক্টরের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তাকে। স্বাস্থ্য কর্মীদের সাথে ডাক্তার আকুল উদ্দিনের চলমান বিরোধ মেটানোর জন্য স্বাস্থ্য কর্মীদের বিভিন্ন ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করছেন ডাক্তার আকুল উদ্দিনের আস্থা ভাজন এ্যাসিসটেন্ট ফিল্ড ইন্সপেক্টর নাসরিন আক্তার। অভিযোগ রয়েছে বিভিন্ন ইউনিয়ন ভায়া ক্যাম্পে নিজের এলাকার দায়িত্ব ফেলে নিয়ম বহি:ভূতভাবে ডাক্তার আকুল উদ্দিনের সফরসঙ্গী হিসেবে নিয়োমিত যেয়ে থাকেন নাসরিন আক্তার! ডাক্তার আকুল উদ্দিন মুল বেতনের ৩৫% বাড়ী ভাড়া হিসাবে পেয়ে থাকেন ১৪,৩৮৮ টকা। থাকেনও ইয়ারমার্ক কোয়াটারে, কিন্তু রাষ্ট্রকে দেন ডরমিটরির ভাড়া ৩,৫৯৭ টাকা! প্রতি বছর সরকারকে ফাঁকি দিচ্ছেন ১২৯৪৯২ টাকা। আবার স্ত্রী সন্তানরা আমেরিকাতে বসবাস করলেও সন্তানদের নামে শিক্ষা ভাতা তুলছেন নিয়োমিত। রাষ্ট্রকে অর্থনৈতিক ফাঁকি নিজেই দিচ্ছেন না বিশেষ সুবিধা নিয়ে ফাঁকি দেওয়ার সুযোগ করে দিয়েছেন সিনিয়ার ষ্টাফ নার্স তাসলিমা আক্তার কেউ। ডরমিটরিতে থাকার নিয়ম ব্যাচেলারদের একটি করে রুম নিয়ে। প্রতি রুমের ভাড়া বাড়ী ভাড়ার ২৫%। কিন্তু তাসলিমা আক্তার স্বামী সন্তান নিয়ে পুরো ডরমিটরিতেই থাকেন ২৩৬৮ টাকায়। তিনিও রাষ্ট্রের ৮৫২৪৮ টাকা আত্মসাৎ করছেন দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে। তৃতীয় শ্রেণীর কোয়াটার বরাদ্দ ফ্যামিলি প্লানিং সহকারি সুলতানা পারভিনের কিন্তু থাকেন দ্বিতীয় শ্রেণীর কোয়াটার নিয়ে তৃতীয় শ্রেণীর কোয়াটারের ভাড়ায়, আর মিডওয়াইফ নাজমিন সুলতান ব্যাচেলর হয়েও ডরমিটরিতে না থেকে চতুর্থ শ্রেণীর একটি কোয়াটার নিয়ে বসবাস করছেন ১৭৫০টাকায় ডরমিটরির ভাড়ায়! হাসপাতালটিতে বহিরাগতদের দৌরাত্ব চোখে পড়ার মত। প্রমান মিলেছে সনো রুমের সামনে ডাক্তার আকুল উদ্দিনের ব্যক্তিগত সহকারি রওশন আরাকে দেখে। রশিদ বাদেই তিনি নিচ্ছেন সনোর টাকা! সরকারিভাবে আল্ট্রসনো গ্রাফীর খরচ বেধে দেওয়া হয়েছে উপরের পেট অথবা নিচের পেট ১১০ টাকা আর পুরো পেট ২২০ টাকা। কিন্তু সবার কাছ থেকেই নেওয়া হচ্ছে ২২০ টাকা। প্রতিদিন গড়ে ২০/২৫টি সনো হয়ে থাকে হসপিটালটিতে। ডাক্তার আকুল উদ্দিনের হাসপাতালের কেবিন বাণিজ্যও রমরমা। কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সতন্ত্র ৪টি কেবিন রয়েছে। নিয়মনুযায়ী সিট থাকার কথা ৪টি কিন্তু এই হাসপাতালে ৪টি কেবিনে সিট রয়েছে ৭টি। হাসপাতালের দ্বিতীয় তলার ১নম্বর কেবিনে সিট রয়েছে ২টি ২ ও ৩ নম্বর কেবিনে ১টি করে এবং ৪ নম্বর কেবিনে রয়েছে ৩টি । নিয়ম বহি:ভূতভাবে এ হাসপাতালের কেবিনগুলোতে অতিরিক্ত সিট স্থাপন করে আদায় করা হচ্ছে হাজার হাজার টাকা। রোগী ছাড়পত্রের সাথে রোগীকে যে ব্যাবস্থাপত্র দেওয়া হয় সেটা ডাক্তার আকুল উদ্দিনের পছন্দের কোম্পানিগুলোর ওষুধ কম্পিউটার লিখে প্রিন্ট করে দেওয়া হয়। কর্তব্যরত চিকিৎসক অথবা আবাসিক মেডিকেল অফিসার শুধু  প্রিন্ট করা ব্যাবস্থাপত্রে স্বাক্ষর করেন মাত্র। কিন্তু এই ব্যাবস্থাপত্র লেখার কথা কর্তব্যরত চিকিৎসক অথবা আবাসিক মেডিকেল অফিসারের। অভিযোগ রয়েছে ওষুধ কোম্পানিগুলো ডাক্তার আকুল উদ্দিনকে মাসিক সম্মানি প্রদান করে থাকেন। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার আকুল উদ্দিনের সরকারি গাড়িতে মাসিক ২৫০ লিটার পেট্রোল বরাদ্দ থাকলেও তিনি ব্যবহার করেন অকটেন। এছাড়াও সরকারি কাজে মাসে ২০০ লিটার তেল খরচ না হলেও টাকা উত্তোলন করা হয় ২৫০ লিটারের। অকটেন ব্যবহারের রহস্য উদঘাটনে জানা যায় ডাক্তার আকুল উদ্দিন তার ব্যক্তিগত গাড়িতে অকটেন ব্যবহার করেন। সরকারি গাড়ির বেঁচে যাওয়া তেল তিনি নিজের ব্যক্তিগত গাড়িতে ব্যবহার করেন। সরকারি নিয়োগ প্রাপ্ত গাড়ি চালক আব্দুস সামাদ হলেও তাকে দিয়ে বহিঃবিভাগের টিকিট দেওয়ানো হয়। আর গাড়ি চালায় ব্যক্তিগত ড্রাইভার শামিম অথবা শামিমের ভাই। আমেরিকাতে নাগরিকত্ব নিয়ে বসবাস করেন ডাক্তার আকুল উদ্দিনের দুই সন্তান আর স্ত্রী, নাগরিকত্ব রক্ষার্থে তিনিও যান বছর আন্তে। দ্বৈত নাগরিকে কিভাবে এদেশে প্রথম শ্রেণীর সরকারি চাকুরি করা যায়, তাই জনমনে প্রশ্ন। ডাক্তার আকুল উদ্দিনের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট অভিযোগ সম্পর্কে মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি ব্যস্ততায় এড়িয়ে যান। বক্তব্য নেওয়ার জন্য খুদে বার্তা পাঠানো হয়েছে কুষ্টিয়া-৪ আসনের মাননীয় সাংসদ ব্যরিষ্টার সেলিম আলতাফ জর্জ’কে। এই রিপোর্ট লেখা পযর্ন্ত তিনি কোন বক্তব্য দেননি। বিষেরবাঁশি.কম/ডেস্ক/মৌ দাস

Categories: জাতীয়,সারাদেশ

Leave A Reply

Your email address will not be published.