মঙ্গলবার ২৪ চৈত্র, ১৪২৬ ৭ এপ্রিল, ২০২০ মঙ্গলবার

শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসানের অন্যতম সহযোগী শাকিল গ্রেফতার

বিষেরবাঁশি.কম: রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে দুবাইয়ে অবস্থানরত ২৩ শীর্ষ সন্ত্রাসীর অন্যতম জিসান আহমেদ মন্টি ওরফে জিসানের অন্যতম সহযোগী মাজহারুল ইসলাম ওরফে শাকিলকে অস্ত্র ও গুলিসহ র‌্যাব গ্রেফতার করেছে। গতকাল শনিবার (২২ ফেব্রুয়ারী) দুপুরে মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ডে র‌্যাবের একটি চেকপোস্টে তল্লাশির সময় সিএনজি অটোরিকশা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। তার কাছ থেকে ২ টি বিদেশি পিস্তল, ২ টি ম্যাগজিনসহ ৬ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করেছে। তবে গ্রেফতার শাকিলের পরিবারের অভিযোগ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) থেকে গত ২০ ফেব্রুয়ারি রাত সাড়ে ১১টার দিকে শাকিলকে ধরে নিয়ে যায় র‌্যাব সদস্যরা। অথচ শনিবার দুপুরে তাকে অস্ত্র ও গুলিসহ গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। র‌্যাব সদর দপ্তর থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শাকিল মাজহার (৩৫) মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করার খবর পেয়ে ওই এলাকায় চেকপোষ্ট স্থাপন করা হয়। যানবাহনের তল্লাশির সময় একটি সিএনজি অটোরিকশা থেকে তাকে ২টি বিদেশী পিস্তল, ২ টি ম্যাগাজিন ও ৬ (ছয়) রাউন্ড গুলিসহ গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শাকিল জানায়, ২০০৯ সাল থেকে যৌথভাবে টেন্ডার কাজে জড়িত হয়ে পড়ে। রেলওয়েতে ছোট ছোট কাজের টেন্ডার নিয়ে কাজ করতেন। ২০১৫ সালে যুবলীগ নেতা খালেদ মাহমুদ ভূইয়ার সাথে বিরোধে জড়িয়ে পড়ে এবং রেলওয়ের টেন্ডার কাজ নিয়ে বিরোধ তৈরী হয়। ২০১৬ সালের জুন মাসে ঢাকা মহানগর দক্ষিণের যুবলীগের সহ-সম্পাদক রাজিব হত্যার এজাহারে নাম আসার ৪ দিন পর শাকিল চীনে চলে যায়। ২০১৭ সাল পর্যন্ত চীনে বসবাস করে। ২০১৮ সালে চীন থেকে দুবাই চলে যায়। দুবাই থাকা অবস্থায় শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসানের সাথে পরিচিত হয়। পরবর্তীতে জিসানের পক্ষে লেবার ব্রোকারের কাজ করত। শাকিল ২০২০ সালের ১২ জানুয়ারিতে দেশে আসে। মূলত তার দেশে আসার উদ্দেশ্য হল জিসানের নির্দেশ ও সহযোগিতায় তার সন্ত্রাসী কার্যক্রম নতুন করে প্রতিষ্ঠিত করে আন্ডারওয়ার্ল্ডের নেতৃত্ব দেওয়া। এ প্রেক্ষিতে শাকিল রাজধানীর একটি হাসপাতালে ভর্তি হয় এবং ভর্তির উদ্দেশ্য ছিল হাসপাতালে কোন অনাকাঙ্খিত ঘটনা সৃষ্টি করে জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়ে দেওয়া। র‌্যাবের অভিযানের ফলে তার এই হীন প্রচেষ্টা নসাৎ হয়েছে। শাকিলের চাচাতো ভাই ফাহিম মাহমুদ বলেন, শাকিলের হার্টের সমস্যা রয়েছে এবং ব্লাড প্রেশারও বেশি। মাথা ঘুরে পড়ে গেলে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি তাকে প্রথমে ধানমন্ডির একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে ২০ ফেব্রুয়ারি সকালে নেওয়া হয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ)। হাসপাতালের ডি ব্লকের চতুর্থ তলায় এসডিইউ-১৩ নম্বর বেডে তিনি চিকিৎসাধীন ছিলেন। ওইদিন রাত সাড়ে ১১টার দিকে শাকিল ও তার দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা শাওনকে কে বা কারা তুলে নিয়ে যায়। এরপর আমরা হাসপাতালের কোনও সহযোগিতা না পেয়ে শাহবাগ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করি। জিডি নম্বর-১৪৮০। পরে বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও তাদের পাওয়া যায়নি। শনিবার দুপুরে টেলিভিশনে দেখতে পাই যে মোহাম্মদপুর থেকে র‌্যাব শাকিলকে অস্ত্রসহ আটক করেছে। তবে শাওনের কোনও খোঁজ এখনও পাইনি। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা প্রথমে ধারণা করেছিলাম, যেহেতু শাকিল দুবাই থাকতেন; হয় তো মুক্তিপণের জন্য কোনও চক্র তাকে অপহরণ করেছে। এর জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজও চেয়েছিলাম। শাহবাগ থানা পুলিশের একটি টিম নিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিডিও ফুটেজ চাওয়া হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায় যে পুলিশের আগেই র‌্যাব ওই দিনের রাতের ভিডিও ফুটেজ নিয়ে গেছে। বিষেরবাঁশি.কম/আলমগীর হোসেন/মৌ দাস

Categories: অপরাধ ও দুর্নীতি,সারাদেশ

Leave A Reply

Your email address will not be published.