রবিবার ২২ চৈত্র, ১৪২৬ ৫ এপ্রিল, ২০২০ রবিবার

ভারত সীমান্তে দেড় মাসে ১১ বাংলাদেশি হত্যা

বিষেরবাঁশি.কম: গত দেড় মাসে দেশের সীমান্ত এলাকায় প্রায় ১১ জন বাংলাদেশি নাগরিককে হত্যা করা হয়েছে। গণমাধ্যমে এক প্রশ্নের জবাবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদর দফতরে বাহিনীর পরিচালক (পরিকল্পনা) লে. কর্নেল সৈয়দ আশিকুর রহমান এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, ‘গত ২৫ ডিসেম্বর থেকে ৫ ফেব্রুয়ারি সকাল পর্যন্ত ১১ জন বাংলাদেশি নাগরিককে সীমান্তে হত্যা করা হয়েছে।’ জানুয়ারি মাসে সারাদেশের সীমান্ত এলাকায় অভিযান নিয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানানো হয়। গণমাধ্যমের এক প্রশ্নের জবাবে বিজিবি’র এই কর্মকর্তা বলেন, ‘সীমান্তে হত্যাকাণ্ডে যেটা সাধারণভাবে বোঝা যায় যে, সীমান্তের সন্নিকটে, তা কিন্তু না। অনেক সময় দেখা যায় ভারতীয় সীমান্তের ভেতরে ৫ থেকে ১৫ কিলোমিটারের ভেতরেও হয়। হয়তো দেখা যায় কোনও নিরীহ মানুষ ভারতের সীমান্তে ঢুকে যাচ্ছে, হয়তো গরু আনার জন্য গেছে, তাই অনেক সময় দেখা যায় আমাদের নির্দিষ্ট এলাকার বাইরেও এ ধরনের ঘটনা ঘটছে। যখন আমাদের ওপাশ থেকে মৃতদেহ হস্তান্তর করা হয়, তখনই আমরা জানতে পারি। এই সংখ্যাটা বেশি ঘটে যারা গরু ব্যবসার সঙ্গে জড়িত তাদের ক্ষেত্রেই। আমরা এটা দেখছি।’ ‘ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসফ ও বাংলাদেশি সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবির মধ্যে এ বিষয়ে তথ্য আদান-প্রদান হচ্ছে। মহাপরিচালক পর্যায়ে যে সম্মেলন হয়েছে, সেখানেও সীমান্ত হত্যা নিয়ে কথা হয়েছে। আমরা আবারও আলাপ আলোচনা করছি।’ উত্তরপর্বে বিজিবি’র এই কর্মকর্তা এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘সীমান্তে চোরাকারবারি অনেকে চিহ্নিত, অনেকে চিহ্নিত না। তবে সীমান্তে যারাই এ ধরনের কাজের সঙ্গে জড়িত আছে, তাদের আমরা নজরদারিতে রেখেছি। তারা যখনই কোনোকিছু পাচারের চেষ্টা করছে, তখনই আমরা তাদের গ্রেফতার করছি। গণমাধ্যমে তা জানানোও হচ্ছে।’ লে. কর্নেল সৈয়দ আশিকুর রহমান বলেন, ‘হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আমরা নিয়মিত প্রতিবাদ জানিয়ে আসছি। ব্যাটালিয়ন পর্যায়ে চিঠি দিয়ে প্রতিবাদ জানানো হয়। এছাড়া আমরা আমাদের সীমান্ত এলাকার মানুষদের সচেতন করছি, যাতে ভুল করে বা অন্য কোনও কারণে তারা যেন সীমান্ত এলাকা অতিক্রম না করে। এছাড়া আমাদের গোয়েন্দা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। সীমান্ত এলাকায় যেসব স্পর্শকাতর জায়গা রয়েছে, সেসব জায়গা চিহ্নিত করে আমরা জনবল বৃদ্ধি করেছি। এছাড়া স্বরাষ্ট্র, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা কাজ করছি। সমস্যা সমাধানে কূটনৈতিক উপায়েও কাজ চলছে।’ অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, করোনা ভাইরাস বিষয়ে সীমান্তে কোনও সহযোগিতার প্রয়োজন হলে বিজিবি অন্যান্য সংস্থাকে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত রয়েছে। তিনি আরো বলেন, জানুয়ারিতে দেশের সীমান্ত এলাকাসহ অন্য স্থানে অভিযান চালিয়ে সর্বমোট ৯৭ কোটি ১৮ লাখ তিন হাজার টাকা মূল্যের বিভিন্ন প্রকারের চোরাচালান ও মাদকদ্রব্য জব্দ করেছে। অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রমের দায়ে ৩৮ জন বাংলাদেশি নাগরিক ও ২ জন ভারতীয় নাগরিককে আটক করে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। জব্দকৃত অন্যান্য চোরাচালান দ্রব্যের মধ্যে রয়েছে সাড়ে ১৪ কেজি স্বর্ণ, পাঁচ হাজার ৮২৮টি ইমিটেশন গহনা, ৩৩ হাজার কসমেটিক সামগ্রী, ১৫০০টি শাড়ি, ২৭ হাজার শার্ট ও থ্রিপিস, কাঠ, চা পাতা, পাথরের মূর্তি, ২১টি ট্রাক, ছয়টি পিকআপ, একটি প্রাইভেটকার, ১১টি অটোরিকশা। এছাড়া দুটি পিস্তল, চারটি বন্দুক, দুটি ম্যাগজিন, ১০ রাউন্ড গুলি এবং ৫৪টি মোটরসাইকেল। বিষেরবাঁশি.কম/জামিউল আহসান সিপু/মৌ দাস

Categories: অপরাধ ও দুর্নীতি,আন্তর্জাতিক

Leave A Reply

Your email address will not be published.