সোমবার ১১ ফাল্গুন, ১৪২৬ ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ সোমবার

বিএনপি নেতা আলাউদ্দিন ভূইয়ার বিরুদ্ধে মামলা নেওয়া যাবেনা: ওসি সিদ্ধিরগঞ্জ

অনলাইন ডেস্ক: নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি’র বিরুদ্ধে সন্ত্রাসীদের মদত দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত ৩০’ডিসেম্বর রাত সাড়ে ৯’টায় থানার সানারপাড় পিডিকে পাম্পের পশ্চিম পাশে গাড়ী ধোয়াকে কেন্দ্র করে মোহাজ্জেম হোসেন শাহিন নামে এক ব্যাক্তিকে পুলিশি হয়রানীসহ মারধর করে ডান চোখে গুরুতর আঘাত প্রাপ্ত হলেও সন্ত্রাসী বিএনপি নেতা আলাউদ্দিন ভূইয়ার বিরুদ্ধে মামলা নিচ্ছেনা থানা পুলিশ।

ভূক্তভোগী মোহাজ্জেম হোসেন শাহিন জানায়, গাড়ী ধোয়াকে কেন্দ্র করে বিএনপি নেতা সফর উদ্দিন ভূইয়ার ভাই আলাউদ্দিন ভূইয়ার সাথে কথা কাঠাকাঠি হয়। আলাউদ্দিন ভূইয়া একটি গাড়ী ধোয়ার গ্যারেজ করে। মোহাজ্জেম হোসেন শাহিনকে তার গাড়ী ধোয়ার গ্যারেজটি বন্ধ করে দিতে বলে। সানারপাড় পিডিকে পাম্পের পশ্চিম পাশে থাকা শাহিনের গাড়ী ধোয়ার গ্যারেজটি বন্ধ না করায় সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি কামরুল ফারুকের নির্দেশে উপ-পরিদর্শক সাইদুজ্জামান মোহাজ্জেম হোসেন শাহিনকে তার গ্যারেজ থেকে গত ২০’অক্টোবর ১৯ ইং তারিখ রাতে তুলে নিয়ে যায়।

পরে তাকে রাত ভর হাত, মুখ ও চোখ বেঁধে থানায় নিয়ে অমানুষিক নির্যাতন চালায়। এক পর্যায়ে মোহাজ্জেম হোসেন শাহিন জ্ঞান হারিয়ে ফেললে তাকে নিয়ে গভীর রাতে নারায়ণগঞ্জ ৩’শ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে জরুরী বিভাগে চিকিৎসা দেয়। এক পর্যায়ে শাহিনর জ্ঞান ফিরলে উপ- পরিদর্শক সাইদুজ্জামান তার নিকট ৩’লাখ টাকা দিলে ছেড়ে দিবে বলে।

শাহিন জানায় আমার কাছে ৭০’হাজার টাকা আছে। উপ-পরিদর্শক সাইদুজ্জামান ৭০’হাজার টাকা নিয়ে শাহিনকে ভোর ৫’টায় গ্যারেজে নিয়ে ছেড়ে দেয়। এরই ধারাবাহিকতায় গ্যারেজটি বন্ধ না করায় গত ৩০’ডিসেম্বর ১৯ ইং তারিখ রাত সাড়ে ৯’টায় আলাউদ্দিন ভূইয়াসহ তার সহযোগী ওহাব, মেহেদী, হাসানসহ অজ্ঞাত নামা ১৫/২০’জন সন্ত্রাসী শাহিনকে বেধরক মারধর করে। সন্ত্রাসীদের আঘাতে শাহিনের শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ক্ষতসহ ডান চোখ মারাত্বক আঘাত হয়।

এ ঘটনায় শাহিন থানায় গেলে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি কামরুল ফারুক আলাউদ্দিন ভূইয়ার বিরুদ্ধে মামলা নেওয়া যাবেনা, প্রয়োজনে তোমাকে সিঙ্গাপুর নিয়ে চোখের চিকিৎসা করা হবে। অন্যান্যদের বিরুদ্ধে মামলা দিলে দিতে পার। ওসি’র এই কথা গুলো সন্ত্রাসীদের মদত দেওয়া মনে করে সচেতন মহল।

ভূক্তভোগী শাহিন আরো জানায়, আমি পুলিশ সুপার মহাদয় বরাবর উপ-পরিদর্শক সাইদুজ্জামান ও ওসি কামরুল ফারুকের বিরুদ্ধে অভিযোগ করবো।

এ ব্যাপারে উপ-পরিদর্শক সাইদুজ্জামান বলেন, জমিজমার বিরোধ নিয়ে অভিযোগের ভিত্তিতে মোহাজ্জেম হোসেন শাহিনের কাছে জানতে চাইলে সে কোন কাগজ দেখাতে পারেনি। পরে তাকে ও বাদিকে থানায় নিয়ে আসলে ওসি স্যারের সামনে কথা বলি। সেখানে সে অসুস্থ হয়ে পরলে তাকে খানপুর হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়। তাকে একটি থাপ্পরও মারা হয়নি, তার প্রেসার বেড়ে গিয়েছিল। টাকা নেওয়ার কথাটি বিত্তিহীন। ও.সি কামরুল ফারুকের মোবাইলে ফোন করলে তিনি বলেন আমি একটি মিটিংএ আছি পরে কথা বলেন।

বিষেরবাঁশি.কম/ডেস্ক/মৌ দাস/রাসেদ উদ্দীন ফয়সাল

Categories: অপরাধ ও দুর্নীতি,নারায়ণগঞ্জের খবর

Leave A Reply

Your email address will not be published.