রবিবার ৪ অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ ১৮ নভেম্বর, ২০১৮ রবিবার

মেধাবীদের বঞ্চনা আর কত

 

  •  জসিম উদ্দিন

‘দিনটি হতে পারতো আমাদেরও। আমরাও হয়তো ফেসবুকে পোস্ট দিতাম, পরিবারে হাসি ফুটত। কিন্তু হয়নি। এই না হওয়ার কষ্টটা কেবল যারা ভুক্তভোগী, তারা ছাড়া কেউ কখনোই বোঝেনি, বোঝে না, বুঝবেও না।’ ৩৫তম বিসিএস পরীক্ষার মাধ্যমে চাকরিতে যোগ দিয়ে গতকাল বন্ধুরা যখন সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে আনন্দ প্রকাশ করেছেন, তখন এভাবেই ফেসবুকে লিখে হতাশা প্রকাশ করেছেন বিসিএসে পুলিশ ক্যাডার পাওয়া একজন প্রার্থী। তার মতো হতাশায় আছেন আরো ৮৭ জন। ঢাকার একটি পত্রিকায় এই খবর প্রকাশ হয়েছে ৩ মে।
নিয়োগবঞ্চিত এমন প্রার্থীদের ৫৫ জন অভিযোগ করেছেন, তাদের রাজনৈতিক বিবেচনায় আটকে দেয়া হয়েছে। আড়াই লাখ প্রতিযোগীর সাথে মেধার লড়াই করে তারা মনোনীত হয়েছিলেন। প্রত্যেকটি পরীক্ষায় যোগ্যতার পরিচয় দিয়ে উত্তীর্ণ হওয়া এই প্রার্থীদের যখন ঠেকিয়ে দেয়া হয়েছে, তখন আমরা রাজনৈতিক বিবেচনায় উল্টো ফল হওয়ার ইঙ্গিত দেখতে পাচ্ছি। পরীক্ষায় উত্তীর্ণ না হয়েও কারা এই সৌভাগ্যবান প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তা কর্মচারী নিযুক্ত হয়ে যাচ্ছেন সেটা মিডিয়ায় এভাবে নামধাম দিয়ে প্রকাশ হওয়ার সুযোগ সম্ভবত কম।
ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ছাত্রলীগের এক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় সেটি প্রকাশ্যে বললেন। গত রোববার বুয়েটে আয়োজিত প্রশিক্ষণ শিবিরে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ করে তিনি বলেন, লিখিত পরীক্ষায় টিকবে, তারপর নিয়মমতো আমি প্রত্যেকের চাকরির জন্য চেষ্টা করব। নেত্রীর নির্দেশ অনুযায়ী আমি তোমাদের জন্য চাকরির ব্যবস্থা করার চেষ্টা করব।’ ক্ষমতাসীন দলের শীর্ষ নেতারা যখন প্রকাশ্যে এমন ঘোষণা দিচ্ছেন তখন মেধাবীরা কিভাবে উত্তীর্ণ হওয়ার পরও রাজনৈতিক বিবেচনায় বাদ পড়ে যাচ্ছেন ৩৫তম বিসিএসে চূড়ান্ত নিয়োগের সময় সেটি দেখা গেল। পাবলিক সার্ভিস কমিশন চূড়ান্ত ফল প্রকাশের পর শুরু হয় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের গেজেট প্রকাশের পালা। মন্ত্রণালয় গেজেট প্রকাশের আগে নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের ব্যাপারে ‘পুলিশি যাচাই’ চলে। নিয়ম অনুযায়ী পুলিশের বিশেষ বিভাগ এসবি এ কাজটি করে। বর্তমান সরকারের প্রথম মেয়াদ থেকে এই যাচাইয়ের কাজে যুক্ত হয়েছে প্রত্যক্ষ ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের নিয়ন্ত্রণ। এসবির সাথে আরো কয়েকটি গোয়েন্দা সংস্থা এবং ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় লোকেরা এর সাথে যুক্ত হয়েছেন। কেস স্টাডি থেকে দেখা যাচ্ছে জনপ্রশাসনে নিয়োগ পেতে যাওয়া ব্যক্তিদের কুষ্ঠি বিচার করছেন সরকারি দলের নেতারা। মেধা যোগ্যতার চেয়ে এই রাজনৈতিক নেতাদের বিচার বিবেচনা প্রধান হয়ে উঠছে।
যাচাই করার পিএসসির যে ফরমেট রয়েছে একজন নাগরিকের ব্যাপারে প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়ার জন্য সেটি যথেষ্ট। ওই ফর্মে ১৬ ধরনের তথ্য যাচাই করা হয় নিয়োগ পেতে যাওয়া একজন ব্যক্তির ব্যাপারে। শিক্ষার্থীরা কোথায় লেখাপড়া করেছেন, সর্বশেষ পাঁচ বছর কোথায় থেকেছেন। ফৌজদারি বা অন্য কোনো মামলায় গ্রেফতার, অভিযুক্ত বা দণ্ডিত হয়েছেন কি না এই তথ্য যাচাই করা হয়। একজন নাগরিক দেশের প্রচলিত আইন মেনে চলছে কি না, এই যাচাইয়ের মাধ্যমে তা বোঝা যায়। এসবির এমন যাচাই একজন ব্যক্তির জন্য যথেষ্ট হলেও এখন এর সাথে যুক্ত করা হয়েছে প্রার্থীর পরিবারের রাজনৈতিক পরিচয়। কোনো রাজনৈতিক দলের মতাদর্শের প্রতি সমর্থন থাকা কিংবা কোনো দল করা বাংলাদেশের অপরাধ হিসেবে বিবেচিত নয়। রাজনৈতিক দলগুলো এ দেশের মানুষের আশা-আকাক্সক্ষার বাস্তবায়নে তাদের কার্যক্রম চালায়। সেই ক্ষেত্রে একজন ব্যক্তির জনপ্রশাসনে নিয়োগের জন্য কোনো দলের প্রতি সমর্থন বাধা হতে পারে না। খবরে প্রকাশ হয়েছে, এ রকম রাজনৈতিক বিবেচনার কারণে গত কয়েকটি বিসিএসে শতাধিক প্রার্থীর নিয়োগ আটকে দেয়া হয়েছে।
৩৫তম বিসিএসে এই ধরনের বিবেচনায় আটকে যাওয়া প্রার্থী সংখ্যা ৮৬। এদের বেশির ভাগ অভিযোগ করছেন শুধু নিজেদের রাজনৈতিক পরিচয় নয় পরিবার ও আত্মীয়স্বজনের রাজনৈতিক পরিচয়ও ঘেঁটে দেখা হয়েছে। বিশেষ করে বিএনপি-জামায়াতের লোক কি না সেটি নিশ্চিত করে জানা হয়েছে। রাজনৈতিক বিবেচনা নিলে এ দেশে ৬০ শতাংশের বেশি মানুষ আওয়ামী লীগ করে না। এখন এই বিবেচনায় প্রার্থীদের বাছাই করা শুরু করলে জাতি মূলত ৬০ শতাংশ মেধাকে বঞ্চিত করল। যেখানে কোটার মাধ্যমে আগেই সরকারি চাকরির ৫৫ শতাংশ সংরক্ষণ করা হয়েছে। একজন চাকরি প্রার্থীর বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি মামলার বিষয় রয়েছে কি না সেটি যাচাইয়ের বিষয় ছিল প্রাসঙ্গিক। বঞ্চিত পুলিশ ক্যাডারের একজন একটি পত্রিকাকে জানায়, ‘আমার আট বছর বয়সে বাবা মারা যান। বাবা বিএনপির সমর্থক ছিলেন। তিনি মারা যাওয়ার ২০ বছরে আমাদের পরিবারের কেউ রাজনীতি করেনি। মা অনেক কষ্ট করে আমাদের চার ভাইবোনকে পড়াশোনা করিয়েছেন। আমার বিসিএস পাসে পরিবার খুব উৎফুল্ল হয়েছিল। কিন্তু গেজেটে আমার নাম এলো না। আমার অপরাধটা কী?’ এটা কি সেই গল্পের মতো হয়ে গেল না। ভাটিতে থাকা মেষ শাবককে বাঘ অভিযোগ করছিল ‘বেটা তুই পানি ঘোলা করছিস’। মেষ শাবক বিনয়ের সাথে তার ভাটিতে থাকার বিষয়টি জানিয়ে দিলো। এবার বাঘ বলল তুই ঘোলা না করলেও তোর বাবা পানি ঘোলা করেছে। একটি রাজনৈতিক দলের সমর্থক হওয়া কোনোভাবে অপরাধ হতে পারে না। সেখানে বাবার সমর্থক হওয়ার কারণে ছেলেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে বাংলাদেশের সরকারি চাকরি থেকে।
এমন প্রার্থীও পাওয়া গেছে ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় নেতাদের সাথে বিরোধের জেরে সরকারি চাকরি থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। এক নারী প্রার্থী বলেন, তার বাবা কোনো রাজনৈতিক দলের সাথে যুক্ত নন। পারিবারিক বিরোধকে পুঁজি করে তাকে ও তার বাবাকে জামায়াত বলে অভিযোগ তোলেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি। পত্রিকার সাথে সাক্ষাৎকারে তার চাকরি না হওয়ার জন্য এই কারণকে দায়ী বলে তিনি মনে করছেন। ক্ষমতায় থাকার সুযোগ নিয়ে প্রতিপক্ষকে সুযোগ থেকে থেকে বঞ্চিত করার এমন কাজ অবশ্যই নিন্দনীয়। অন্য একজনের বাবাকে ২০১৪ সালের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অনেকগুলো মামলা করা হয়। তিনি এই নিয়োগের চার মাস আগে মারাও যান। কিন্তু তার সন্তানকেও এই ওসিলায় বঞ্চিত করা হয়। মেধাবীদের এভাবে ছুতো ধরে ধরে চাকরির সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। যেখানে অযোগ্য প্রার্থীরা বিশেষ দল কিংবা সংরক্ষিত আসনে কারণে সুযোগ পেয়ে যাচ্ছেন।
মেধাবীরা সংখ্যালঘু হয়ে যাওয়ার পরও তাদের ওপর এমন খড়গ নেমে আসছে। তাদের জন্য শতকরা হারে যে সংখ্যাটা রাখা হয়েছে সেটিকেই এখন কোটা বলতে হবে। মাত্র ৪৫ শতাংশ সরকারি চাকরি সবার প্রতিযোগিতার জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। অন্য দিকে ৫৫ শতাংশ চাকরি অনেকটাই সংরক্ষণ করা হয়েছে। কোটায় নিয়োগের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা অবলম্বন হচ্ছে এমনটা দাবি করতে পারবে না সরকার। ৩০ শতাংশ চাকরি রাখা হয়েছে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য। মুক্তিযোদ্ধাদের সন্দেহমুক্ত তালিকা এখনো তৈরি করা যায়নি। সরকার বদলালে মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকাও বদলে যায়। অনেক ক্ষেত্রে এমনও দেখা যায় অস্ত্র হাতে নিয়ে জীবনবাজি রেখে যারা মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছেন সরকার বদলে তারা হয়ে গেছেন মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী। আবার যারা মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতায় সরাসরি নেমেছিলেন তারা হয়ে যান ঘোরতর মুক্তিযোদ্ধা। অন্য দিকে মুক্তিযুদ্ধের সনদ জালিয়াতির ঘটনা সব সময় ঘটতে দেখা যায়। খোদ সরকারের বড় কর্মকর্তারা মুক্তিযুদ্ধের ভুয়া সনদ জোগাড় করে চাকরিতে সুযোগ সুবিধা বাগিয়ে নেয়ার খবর আমরা দেখেছি।
স্বাধীনতা অর্জনের পরপরই মুক্তিযুদ্ধের কোটা প্রাসঙ্গিক ছিল। এখন এই কোটায় তাদের সন্তানরা প্রকৃতপক্ষে সুবিধা পেতে পারে কি না সেটি বিবেচনার দাবি রাখে। বিশেষ করে যখন এই কোটার নামে দুর্নীতির একটি বড় কারণ ঘটছে সেই প্রেক্ষিতে। অন্য দিকে চাকরি প্রার্থী অসংখ্য মেধাবীরা যখন বঞ্চিত হচ্ছেন। জেলা কোটা রাখা হয়েছে ১০ শতাংশ, নারী কোটা রাখা হয়েছে ১০ শতাংশ। জেলা কোটার বিষয়টিও ভাবার প্রয়োজন রয়েছে। স্বাধীনতার ৪০ বছর পর সরকারি চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে সব জেলায় একটি ভারসাম্য তৈরি হয়েছে। পার্বত্য এলাকার মানুষেরা বিশেষত উপজাতি কোটার সুযোগ পান। সেখানে শিক্ষা দীক্ষায় ব্যাপক উন্নতি ঘটেছে। বাংলাদেশের সংবিধান নারী ও উপজাতীয়দের জন্য সরকারি চাকরিতে কোটা সংরক্ষণের বাধ্যবাধকতা আরোপ করেছে। মূলত অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর জন্য সেটি দরকার। কিন্তু এর সংখ্যানুপাত অবশ্যই পরিমিত হতে হবে। অন্যকে বঞ্চিত করে নয়।
বর্তমান সরকার কোটা ব্যবস্থাকে স্থায়ী করে দেয়ার জন্য আগ্রহ দেখাচ্ছে। বরং তারা অভিযোগ তোলার চেষ্টা করে থাকে অতীতে কোটা সংরক্ষণ করা হয়নি। মূল ব্যাপার হচ্ছে প্রজাতন্ত্রের কর্মপরিচালনার জন্য ন্যূনতম যোগ্যতার প্রয়োজন রয়েছে। এমন সর্বনিম্ন যোগ্যতা যখন কোটায় আসা ব্যক্তিদের মধ্যে পাওয়া যায়নি সেটি তখন শূন্য থেকেছে। বর্তমান সরকারের আমলে এমন অপূর্ণ কোটা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পূরণ করার চেষ্টা দেখা গেছে। এতে করে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো একদিকে যোগ্য জনবল থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। অন্য দিকে মেধাবী যারা উপযুক্ত দায়িত্ব পালন করতে পারত তারা দেশকে সেবা দেয়ার সুযোগ পাচ্ছে না। অর্থাৎ একটি জাতি যেখানে নিজেদের জন্য দক্ষ মেধাবী লোকদের দ্বারা পরিচালিত হওয়ার সুযোগ ছিল সেটি তারা স্বেচ্ছায় গ্রহণ করছে না। এটি বোকামি ছাড়া অন্য কিছু বলা যায় না।
কোটা ব্যবস্থার সংস্কারের তাগিদ দেখা দিলেও বিষয়টিকে কৌশলে এড়িয়ে যাওয়া হচ্ছে। এই ক্ষেত্রে মুক্তিযুদ্ধ প্রসঙ্গটিকে ব্যবহার করছে সরকার এবং একটি গোষ্ঠী। প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধারা একটি স্বাধীন সার্বভৌম উন্নœত জাতি গঠনের জন্য যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন। তারা এমনটি ভাবেননি দেশ স্বাধীন হলে তারা সরকারি চাকরির সুযোগ নেবেন। এমন ভাবনা তাদের নিশ্চয়ই থাকেনি যে এর সুবিধা তাদের অনাগত প্রজন্মও পেতে থাকবে। বরং তাদের কাক্সিক্ষত দেশ গঠনের জন্য দরকার উন্নত গতিশীল প্রশাসন। সেজন্য দরকার জনপ্রশাসনের এক দল মেধাবী কর্মকর্তা। কিন্তু কোটার এমন এক ফাঁদ এখন পাতা হয়েছে এতে দুর্নীতির সুযোগকে বাড়ানো হয়েছে। কোটা আর রাজনৈতিক বিবেচনার সবার ওপরে স্থান করে নিয়েছে। একটি দুর্বল গতিহীন অকার্যকর প্রশাসন ছাড়া এর দ্বারা অন্য কিছু আশা করা যেতে পারে না।
কোটা সংস্কারে বিষয়টি ৮০-এর দশক থেকে উঠেছে। এ ব্যাপারে প্রায় সবার ঐকমত্য প্রকাশিত হয়েছে যে মেধাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া হবে। সেই লক্ষ্যে সরকার এমন অঙ্গীকার করে যে ক্রমান্বয়ে কোটাকে সীমিত করা হবে। এ লক্ষ্যে ১০ বছর সময় ১৯৮৭ থেকে ১৯৯৭ সালের মধ্যে কোটা বিলুপ্ত হওয়ার প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়েছিল। এই পদক্ষেপকে সরকারগুলো রাজনৈতিক কারণে বাস্তবায়ন করেনি। বর্তমান সরকার বরং কোটাকে একটি রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে নিয়েছে। সরকারি নিয়োগে কোটার ব্যবহার নিয়ে তাদের আগ্রহ অনেক বেশি। এর মাধ্যমে সরকার জনপ্রশাসনের মধ্যে নিজেদের প্রভাববলয় তৈরি করতে চান। এমনটা সম্ভবত তারা ধারণা করছেন যে কোটার মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া প্রশাসনের কর্মকর্তারা তাদের সরকারকে সব সময় শক্তি জোগাবে। এমন ধারণা কোনোভাবে বিবেচনাপ্রসূত হতে পারে না। এমন ধারণা থেকে সরকারের পিছু হটে আসা উচিত। মেধা ও যোগ্যতা যেকোনো নিয়োগের প্রদান মাপকাঠি হওয়া প্রয়োজন। কোনোভাবে মেধার তুলনায় কোটা চাকরি পাওয়ার প্রধান মাপকাঠি হতে পারে না। একই সাথে রাজনৈতিক বিবেচনাকে নিয়োগ পদোন্নতিসহ জনপ্রশাসনের সব স্তর থেকে বাইরে রাখতে হবে। তাহলে একটি গতিশীল কার্যকর প্রশাসন গড়ে তোলা সম্ভব হতে পারে।

Categories: শিক্ষা,সারাদেশ,সাহিত্য

Leave A Reply

Your email address will not be published.