রবিবার ১৩ মাঘ, ১৪২৬ ২৬ জানুয়ারি, ২০২০ রবিবার

অবশেষে বির্তকৃত সেই এএসআই মোমেন আলম ক্লোজড

অনলাইন ডেস্ক: নারায়ণগঞ্জে অবশেষে বির্তকৃত সেই এএসআই মোমেন আলমের চ্যাপ্টার ক্লোজড। বিভিন্ন গণমাধ্যেমে সংবাদ প্রকাশসহ প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে ভূক্তভোগীদের অভিযোগের তদন্ত করে প্রশাসনিক কারনের তাকে ক্লোজড করা হয়।

গতকাল শনিবার (০৭ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জ পুলিশের বিশেষ শাখার পরিদর্শক মমিনুল ইসলাম (ডিআই-১) সিদ্ধিরগঞ্জ থানার এএসআই মোমেন আলমকে প্রশাসনিক কারনে ক্লোজড করা হয় বলে নিশ্চিত করেন।

সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, বিতর্কিত সধ্য বিদায় হওয়া এএসআই মোমেন আলম গত ৫’আগষ্ট ২০১৯ইং তারিখে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় যোগদানের পর থেকে অধ্যবদি এলাকাবাসীসহ থানা পুলিশের কনষ্টেবল ও অফিসারদের বিরুদ্ধে অফিসার ইনচার্জের কানে বিভিন্ন কুৎসা রটিয়ে অতিষ্ট করে তুলছিল। তার বিরুদ্ধে অভিযোগের অন্ত নেই।

জানা যায়, সাদা পোশাকে এএসআই মোমেন কখনো র‌্যাব আবার কখনো ডিবি পুলিশ পরিচয়ে এলাকার বিভিন্ন মানুষকে তুলে নিয়ে ক্রস ফায়ার ও মাদক মামলার ভয় দেখিয়ে মোটা অংকের টাকা আদায় করেছে।

সূত্রে আরো জানা যায়, এএসআই মোমেন আলমের বিরুদ্ধে আইজিপি, ডিআইজি (ঢাকা রেঞ্জ) ও পুলিশ সুপার নারায়ণগঞ্জ বরাবর অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগটি করেন থানার বার্মাশিল এলাকার মৃত মফিজ উদ্দিনের ছেলে ইলিয়াছ। তাকে দু’বার এএসআই মোমেন আলম গত ১৭ অক্টোবর ১৯ইং নিজবাড়ী থেকে অপহরন করে নাভানা সিটিতে নিয়ে ১’লাখ ৬২’ হাজার টাকা মুক্তিপন আদায় করে ছেড়ে দেয়।

গত ১৬ অক্টোবর ১৯ইং থানার নয়াপাড়া এলাকার বাদলের ছেলে সুমনকে অপহরন করে নাভানা সিটিতে নিয়ে প্রায় ২’লাখ ২০’হাজার টাকা মুক্তিপন আদায় করে ছেড়ে দেয়। গত ১৩ অক্টোবর থানার সাইলো এলাকা থেকে টুন্ডা শাহিন ও তার ছেলেকে অপহরন করে নাভানা সিটিতে নিয়ে ১’লাখ ২০’হাজার টাকা মুক্তিপন আদায় করে ছেড়ে দেয়। গত ১ অক্টোবর নাসিক ৬নং ওয়ার্ড কাউন্সিরর রুহুলের ভাতিজা সজিব মোল্লাকে অপহরন করে নাভানা সিটিতে নিয়ে ১’লাখ ৭২’হাজার টাকা মুক্তিপন আদায় করে ছেড়ে দেয়।

গত সেপ্টেম্ভর মাসে মুন্সিগঞ্জ জেলার গজারিয়া থানা এলাকা থেকে প্রথমে র‌্যাব, পরে নারায়ণগঞ্জ ডিবি পুলিশ পরিচয়ে মিঠু নামে এক ব্যাক্তিকে ফায়ারের ভয় দেখিয়ে তুলে নিয়ে আসে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার এসআই কামাল হোসেন ও এএসআই মোমেন আলম। পরে মিঠুর স্ত্রী দিলারার কাছ থেকে নগদ ২’লাখ ৭০ হাজার টাকা আদায় করে।

উল্লেখ্য এএসআই মোমেন আলম নাভানা সিটিকে র্টচার সেল বানিয়ে ক্রস ফায়ার ও মামলার ভয় দেখিয়ে প্রত্যেকের কাছ থেকে মুক্তিপন হিসেবে এ টাকা আদায় করেন। বিভিন্ন গণমাধ্যেমে সংবাদ প্রকাশসহ প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে ভূক্তভোগীদের অভিযোগের তদন্ত করে প্রশাসনিক কারনের এএসআই মোমেন আলম ক্লোজড করা হয়।

গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জ পুলিশের বিশেষ শাখার পরিদর্শক মমিনুল ইসলাম(ডিআই-১) সিদ্ধিরগঞ্জ থানার এএসআই মোমেন আলমকে প্রশাসনিক কারনের ক্লোজড করা হয় বলে নিশ্চিত করেন।

বিষেরবাঁশি.কম/ডেস্ক/মৌ দাস/রাসেদ উদ্দীন ফয়সাল

Categories: নারায়ণগঞ্জের খবর

Leave A Reply

Your email address will not be published.