মঙ্গলবার ১৪ আশ্বিন, ১৪২৭ ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২০ মঙ্গলবার

৩১ বছর পর গৃহবধূ সগিরা মোর্শেদ হত্যা মামলার রহস্য উদ্ঘাটন

অনলাইন ডেস্ক: ১৯৮৯ সালে রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরীতে ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের কাছেই প্রকাশ্যে গুলি করে গৃহবধূ সগিরা মোর্শেদকে হত্যা করা হয়েছিলো। ৩১ বছর পর গৃহবধূ সগিরা মোর্শেদ হত্যা মামলার রহস্য উদ্ঘাটন করা হয়েছে। সগিরা মোর্শেদের মেয়ে ঐ স্কুলেই পড়ালেখা করত। হত্যার পর পরই মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ খুনিদের ছিনতাইকারী সাজিয়ে রক্ষা করে। যা আরেকটা ‘জজ মিয়া’ নাটক। ঐ সময়ে এক মন্ত্রীর চাপেই এ নাটক সাজানো হয় মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। তার আত্মীয় এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকায় মন্ত্রী প্রভাব খাটিয়ে মামলার তদন্ত ভিন্ন খাতে নিয়ে যান। এরই মধ্যে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) সগিরা মোর্শেদের স্বামীর বড় ভাই, ভাবিসহ চার জনকে গ্রেফতার করেছে। খুনি মারুফ রেজা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মাত্র ২৫ হাজার টাকার চুক্তিতে সগিরা মোর্শেদকে হত্যা করেন। রমনা মডেল থানার তৎকালীন ওসি সিরাজুল ইসলাম আমাদের বলেন, মাত্র ৩০ মিনিট রমনা থানায় মামলাটি পুলিশের কাছে ছিল। ময়নাতদন্ত শেষ করে এসেই দেখি, মামলাটি ডিবিতে হস্তান্তর করা হয়েছে। তৎকালীন পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা জানান, এটি যে কোনো ছিনতাইয়ের ঘটনা নয় তা স্পষ্ট। কারণ হত্যাকারীরা তাকে গুলি করে সরাসরি পালিয়ে যায়। এখানে কোনো ধরনের ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটেনি। গুলি করে হত্যার ধরন দেখে ঐ সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত একাধিক পুলিশ কর্মকর্তা গণমাধ্যমে বলেছিলেন, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। সগিরা মোর্শেদের হত্যার খবর ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজে ছড়িয়ে পড়লে ছাত্রী-অভিভাবকরা বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। স্কুলের ক্লাস দীর্ঘদিন বন্ধ থাকে। বিশ্ববিদ্যালয়সহ সারাদেশে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সগিরা হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ চলছিল। গত বৃহস্পতিবার বিকালে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন-পিবিআইয়ের সংবাদ সম্মেলনে হত্যার পরিকল্পনা ও কারণ জানানো হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গৃহবধূ সগিরা হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী সগিরার স্বামীর ভাই ডা. হাসান আলী চৌধুরী ও তার স্ত্রী সায়েদাতুল মাহমুদা। দুই বাসার বুয়াদের ঝগড়াকে কেন্দ্র করে এ হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছিল বলে জানায় পিবিআই। পারিবারিক দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে ২৫ হাজার টাকায় খুনি ভাড়া করে হত্যাকাণ্ডটি চালানো হয়। সগীরা মোর্শেদ সালাম হত্যাকাণ্ডে নিজেদের দোষ স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন নিহতের ভাশুর ডা. হাসান ও তার স্ত্রী। মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ১৯৮৯ সালের ২৫ জুলাই সগিরা মোর্শেদ সালাম ভিকারুননিসা নূন স্কুল থেকে মেয়েকে আনতে যাচ্ছিলেন। বিকাল ৫টার দিকে সিদ্ধেশ্বরী রোডে পৌঁছামাত্র মোটরবাইকে আসা ছিনতাইকারীরা তার হাতের সোনার চুড়ি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। তিনি দৌড় দিলে তাকে গুলি করা হয়। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পথেই সগিরা মোর্শেদ সালাম মারা যান। ঐ দিনই রমনা থানায় অজ্ঞাতনামাদের বিরুদ্ধে মামলা করেন সগিরা মোর্শেদ সালামের স্বামী সালাম চৌধুরী। ঘটনায় জড়িত তত্কালীন গোয়েন্দা পুলিশের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সগিরা মোর্শেদের পরিবার। বিষেরবাঁশি.কম/ডেস্ক/মৌ দাস

Categories: অপরাধ ও দুর্নীতি,সারাদেশ

Leave A Reply

Your email address will not be published.