মঙ্গলবার ৫ অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ ১৯ নভেম্বর, ২০১৯ মঙ্গলবার

নতুন ট্রাফিক আইনে সাজার পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে

অনলাইন ডেস্ক: গত সোমবার (০৪ নভেম্বর) সকালে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত ‘সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮’ নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপি কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম বলেন, নতুন সড়ক আইনকে পুঁজি বা জিম্মি করে কোনো সার্জেন্ট বা ট্রাফিক কর্মকর্তা অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সড়কে দায়িত্ব পালনকারী প্রত্যেক ট্রাফিকের গায়ে ক্যামেরা লাগানো থাকবে। মামলা দেওয়ার সময় ছবি না তোলা থাকলে সেই ট্রাফিকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রীর কথা মতে আমরা এক সপ্তাহ নতুন সড়ক পরিবহন আইনে মামলা করছি না জানিয়ে ডিএমপি কমিশনার বলেন, এই আইনটি প্রয়োগের আগে আমরা কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি। আগামী সপ্তাহ থেকে সড়ক পরিবহন আইন প্রয়োগ করা হবে।

তিনি বলেন, নতুন ট্রাফিক আইনে সাজার পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে। ফলে সবার মধ্যে আইন মানার প্রবণতা বাড়বে। এতে ট্রাফিক ব্যবস্থা আরও উন্নত হবে। ছাত্র আন্দোলনের সময় পুলিশের ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা, সচিবসহ সরকারী কর্মকর্তাদের নামে মামলা দেয়া হয়েছিল। বর্তমানে ৯৯% যাত্রী হেলমেট পড়ছে। গুটি কয়েক পড়ছে না যাদের অধিকাংশই পুলিশ ও সার্জেন্ট।

এই আইনে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে পুলিশ স্বচ্ছ থাকবে। আমরা পুলিশের সবাইকে বলে দিয়েছি ট্রাফিকের লোকজন যদি আইন অমান্য করে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেবো। আইনের ধারাগুলোতে সর্বনিম্ন টাকার পরিমাণ লেখা না থাকলে সর্বোচ্চ শাস্তির পরিমাণ রয়েছে।

সেক্ষেত্রে পুলিশ কীভাবে মামলা দেবে জানতে চাইলে কমিশনার বলেন, নতুন আইন যদি কেউ প্রথমবার ভঙ্গ করে তাহলে তাকে সামান্য পরিমাণ জরিমানা করা হবে। একই সঙ্গে তাকে একটি লিফলেট দেওয়া হবে যে পরবর্তীতে এই একই অপরাধ করলে তাকে আইন অনুযায়ি পুরো জরিমানা বা শাস্তি ভোগ করতে হবে। এক সপ্তাহ নতুন আইনে কোন মামলা হবে না। এরপর থেকে রশিদের মাধ্যমে মামলা নেওয়া শুরু হবে। আর পজ মেশিনের সার্ভার আপডেট করার পরে এ পদ্ধতিতে মামলা নেওয়া শুরু হবে।

পথচারীরা জেব্রা ক্রসিং বা ফুট ওভারব্রিজ দিয়ে পার না হলে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা জরিমানা। এই পরিমাণটি আগে ছিল ২০০ টাকা। অথচ রাজধানীর অনেক সড়কে ওভারব্রিজ বা জেব্রা ক্রসিং নেই। সেক্ষেত্রে কীভাবে মামলা দেয়া হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, যেসব জায়গায় জেব্রা ক্রসিং নাই ট্রাফিক বিভাগের কর্মকর্তারা তাদের রাস্তাপারাপারে সাহায্য করবে।

আইন প্রয়োগের আগে জনসাধারণকে সচেতন করা হচ্ছে জানিয়ে কমিশনার বলেন, বাস টার্মিনাল ও গুরুত্বপূর্ণ ইন্টারসেকশনে সচেতনতামূলক সচেতনতামূলক লিফলেট বিলি করা হচ্ছে। এছাড়াও গণমাধ্যমে সড়ক পরিবহন আইন সম্পর্কে নিয়মিত প্রচারণার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা প্রায় ৮০০ জন সার্জেন্ট ও টিআইকে নতুন আইন সম্পর্কে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তাদেরকে নতুন আইনের বই দেয়া হয়েছে। একমাস পরে তাদের পরীক্ষার মাধ্যমে আইন সম্পর্কে যাচাই করা হবে।

কেস স্লিপের মাধ্যমে মামলা দেয়া হবে জানিয়ে কমিশনার বলেন, ডিএমপিতে পজ মেশিনের মাধ্যমে মামলা দেয়া হয়। নতুন আইনের জন্য পজ মেশিন সফটওয়্যার আপডেটের কাজ চলছে। আমরা সামনে সপ্তাহ থেকে এ আইনটি বাস্তবায়নে যাবো। এ কারণে কেস স্লিপের মাধ্যমে মামলা দেয়া হবে। পজ মেশিন আপডেট শেষ হলে কেস স্লিপের মাধ্যমে মামলা দেয়া হবে না।

সড়ক পরিবহন আইনে বিভিন্ন নুতন বিধান যুক্ত হয়েছে উলেখ করে কমিশনার বলেন, এই আইনে সাজার পরিমাণ উলেখযোগ্য বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে মানুষ সাজার ভয়ে হলেও আইন মানবে বলে আমরা মনে করি। উন্নত বিশ্বের মত এই আইনে ড্রাইভিং লাইসেন্সের বিপরীতে পয়েন্ট পদ্ধতি রয়েছে। আইন অমান্য করলে পয়েন্ট কমতে থাকবে। এক পর্যায়ে বরাদ্দকৃত পয়েন্ট শেষ হলে ড্রাইভিং লাইসেন্স বাতিল হয়ে যাবে। কন্ট্রাকটর নিয়োগ ও লাইসেন্স নেওয়ার বিধান রয়েছে। সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিপূরণ ও যাত্রীদের বীমার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

ড্রাইভিং স্কুলের মাধ্যমে চালকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে এই আইনে। এছাড়াও সড়ক দুর্ঘটনায় কেউ নিহত হলে সর্বোচ্চ ৫ বছরের কারাদণ্ড ৫ লক্ষ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। সেই সঙ্গে কিছু কিছু অপরাধের কারণে বিনাপরোয়ানায় গ্রেপ্তারের বিধান রয়েছে এই আইনে।

কমিশনার বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় কেউ মারাত্মক আহত ও নিহত হলে থানায় মামলা হবে। চালকের পয়েন্ট কর্তনের বিষয় সার্ভারে সংরক্ষিত থাকবে, এতে বুঝা যাবে ড্রাইভিং লাইসেন্সের কত পয়েন্ট কাটা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, সড়ক পরিবহন আইনে অপরাধের দায়ে কাউকে জরিমানা করা হলে, সেক্ষেত্রে আপিলের সুযোগ আছে। জরিমানার ক্ষেত্রে আমরা একটি পদক্ষেপ নিবো যে প্রথমবার কেউ অপরাধ করলে তাকে সহনীয় পর্যায়ে জরিমানা করে তাকে বলা হবে এই অপরাধে তার এতো সাজা ছিল। ভবিষ্যতে একই অপরাধ করলে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হবে। সেই সঙ্গে তাকে একটি সচেতনতামূলক লিফলেট দেয়া হবে।

বিষেরবাঁশি.কম/ডেস্ক/মৌ দাস/আহসান শিপু

Categories: আইন-আদালত,সারাদেশ

Leave A Reply

Your email address will not be published.