বৃহস্পতিবার ৯ কার্তিক, ১৪২৬ ২৪ অক্টোবর, ২০১৯ বৃহস্পতিবার

বর্ষা হত্যার পর এখন পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভূগছে

বিষেরবাঁশি.কম: নারায়ণগঞ্জে বন্দর উগজেলার যৌতুকের দাবিতে সুমাইয়া আক্তার বর্ষা নামে এক গৃহবধূকে হত্যার বিচারের দাবিতে মানববন্ধন হয়েছে। শনিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১ টায় নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের প্রঙ্গণ জুরে পরিবার ও এলাকাবাসীরা সম্মিলিত হয়ে মানববন্ধন করে।

এ সময় উপস্থিত ছিল নিহত বর্ষার মা শিউলী বেগম, বাবা মনসুর ভূঁইয়া, ছোট বোন সাবরিনা সুলতানা মিম, কন্যা জান্নাতুল ফেরদৌস নিজহার ও এলাকাবাসী।

মানববন্ধনে বক্ত্যবের শুরুতে গৃহবধূ বর্ষার বোন সাবরিনা আক্তার বলেন, আমার বোনকে হত্যা করার আধা ঘন্টা আগে আমার সাথে কথা বলেছে। আমার সাথে প্রাই অনেক কিছু শেয়ার করতো ।সেদিও অনেক কেদেঁছে। আমি আমার বোনের হত্যার বিচার চাই প্রশাসনের কাছে।

বর্ষার মা কে বক্তব্য দিতে বলা হলে সে কান্নায় ভেঙ্গে পরে যেন তার হৃদয় ভাঙ্গা কান্না প্রতিটা সন্তানকে প্রতিবাদী করে তুলছে। বর্ষার মা বলেন, আমি চাই আমার মেয়ের সুষ্ঠ বিচার হোক যাতে করে নয়নের মতো আর নয়ন না জন্ম নেয়।আমি আশাবাদী সরকার ও প্রশাসনের কাছে যে আমি আমার মেয়ের সঠিক বিচার পাবো।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন নারায়ণগঞ্জ মহিলা পরিষদের সভাপতি লক্ষী চক্রবর্তী তিনি বলেন, বর্তমান বাংলাদেশে নারী হত্যা দিনের পর দিন বেরেই চলছে। বর্ষা হত্যার সঠিক ভাবে তদন্ত করে তার সুষ্ঠ বিচার চাই। নারায়ণগঞ্জের এসপি ও জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করি তারা জাতে বর্ষা হত্যার সঠিক বিচার তার পরিবারকে দিতে পারে।

নাগরিক কমিটির আব্দুর রহমান বলেন, নারায়ণগঞ্জে পুরুষের নির্যাতন বেড়ে গেছে এখানে কোনো নারীকে নিরাপত্তা দিতে পারছে না প্রশাসন। বর্ষা হত্যা ঘটনায় পুলিশ একটা বলে আর সিভিল সার্জন আরেকটা বলে কিন্তু শেষে রিপোর্ট আসে ভিন্ন। বাংলাদেশ মহিলা প্রধান দেশ হয়েও আজ নারীদের,মায়েদের রাস্তায় দাড়িয়ে মানববন্ধন করতে হয়। সন্তানকে হারানোর পরও তাকে বিচারের দাবি জানাতে হয়। বাবা, ভাই, বোন আত্মীয় স্বজনকে চিৎকার করে কাদঁতে হয়। আমরা চাই মেডিক্যাল রির্পোট ভালো করে তদন্ত করে বর্ষা হত্যার বিচার হোক।

বর্ষার বাবা মনজুর ভুইয়াঁ ভারি কন্ঠেস্বরে বলেন, মেয়েকে মেরা ফেলার আধা ঘন্টা আগে কথা বলি। মনে হচ্ছে আমার মেয়ে আমাকে এখনো বাবা বলে ডাকছে। আমার মেয়েকে যারা মেরেছে তাদের বিচার চাই। মানববন্ধনের একপর্যায় সাংবাদিকদের জানান, তার মেয়েকে হত্যার পর তিনি মামলা করেন এখন প্রতিনিয়ত তাকে হুমকি দেয়া হচ্ছে মামলা তুলে নেয়ার জন্য। তাকে বলা হয়েছে তার এক মেয়েকে মেরেছে পরিবারের বাকিদের কেও মেরে ফেলা হবে। তিনি বলেন আমার পরিবারের সবাই নিরাপত্তাহীনতায় ভূগছি আমরা প্রশাসনের কাছে আমাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে আমার মেয়ে হত্যার সুষ্ঠ বিচার চাই।

মহিলা পরিষদের সাহানারা বেগম প্রশাসনকে উদ্দেশ্য করে বলেন, কোনো রকমের ছল করবেন না যাতে কোনো ফাঁক দিয়ে নয়ন বের না হতে পারবে । নিহতের মা কিছুক্ষণ আগে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েছে। কিছুই বলতে পারলো না তার সন্তারের জন্য। আজ মেয়েদের জীবনের কোনো মূল্য নাই। আমরা কেমন রাষ্টে বসবাস করি যে দেশে নারীরা যেকোনো সময় মারা যেতে পারে, হত্যা ও ধর্ষণের স্বিকার হতে পারে।

এ সময় আরো উপস্থিত ছিল সংহতি জানিয়ে উপস্থিত ছিলেন নাগরিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান, মহিলা পরিষদের জেলা সভাপতি লক্ষ্মী চক্রবর্তী, লিগাল এইড সম্পাদক শাহানারা বেগম, আন্দোলন সম্পাদক শোভা সাহা, জাগো হিন্দু পরিষদ নারায়ণগঞ্জ জেলা সভাপতি কৃষ্ণ কাজল ও সহ সভাপতি অজউ সূত্রধর।

উল্লেখ্য, গত ১৯ আগস্ট রাত আনুমানিক নয়টায় বন্দর উপজেলার কলাগাছিয়া ইউনিয়নের আলী সাহারদী এলাকায় স্বশুর বাড়িতে শারীরিক নির্যাতনের পর শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয় বর্ষাকে। এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে বর্ষার স্বামী মোস্তাফিজুর রহমান নয়নকে হত্যাকারী হিসেবে অভিযুক্ত করা হলে পুলিশ রাতেই তাকে গ্রেফতার করে। ২০১৩ সালে বন্দর উপজেলার কলাগাছিয়া ইউনিয়নের আলী সাহারদী এলাকার শহিদুল্লাহ মিয়ার বড় ছেলে মোস্তাফিজুর রহমান নয়নের সাথে বিয়ে হয় সুমাইয়া আক্তার বর্ষার। তাদের সাড়ে চার বছরের একটি কন্যা সন্তানও রয়েছে।

বিষেরবাঁশি.কম/সংবাদদাতা/ নিরাক

Categories: নারায়ণগঞ্জের খবর

Leave A Reply

Your email address will not be published.