বৃহস্পতিবার ৯ কার্তিক, ১৪২৬ ২৪ অক্টোবর, ২০১৯ বৃহস্পতিবার

সপ্তাহে ৫ হাজার টাকা চাঁদা দাবি: প্রতিবাদ করায় দোকানদারকে হুমকি

অনলাইন ডেস্ক: রাজধানীতে কলাবাগান থানার পান্থপথের ফুটপাত এলাকায় চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে ফুটপাতের দোকানদার পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। চাঁদাবাজদের পক্ষ নিয়ে মামলার বাদীকে থানায় ডেকে নিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ মামলার বাদীকে বলেছে, ওদের বিরুদ্ধে মামলা করে কোন লাভ নেই। বরং মামলা তুলে নিয়ে ওদের কথা অনুসারে চাঁদা দিয়ে ফুটপাতে দোকানদারি করতে হবে। মামলার বাদী এ ব্যাপারে নিরাপত্তা চেয়ে পুলিশ সদর দপ্তরে আইজিপি’স কমপ্লেইন্টস মনিটরিং সেলে অভিযোগ দিয়েছেন।

মামলার বাদী জামাল উদ্দীন পান্থপথের ফুটপাতে পিঠার দোকানদার ছিলেন। সাপ্তাহিক ৫ হাজার টাকা চাঁদা না দেওয়ায় স্থানীয় চাঁদাবাজরা তার পিঠার দোকান ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিয়েছে।

তবে জামাল উদ্দিনের মামলা ও অভিযোগের বিষয়ে কলাবাগান থানার ওসি ইয়াছিন আরাফাত গতকাল বলেন, যে স্থানটি পিঠার দোকান স্থাপন করা হয়েছে সেটি অবৈধ। স্থানীয় ছেলেদের সঙ্গে জামাল উদ্দিনের দ্বন্দ্ব হয়। তারা পিঠার দোকানে উপস্থিত হলে, জামাল উদ্দিন ভাপা পিঠা বানানোর পাতিল থেকে গরম পানি এক ছেলের গায়ে ঢেলে দেয়। এতে ওই ছেলে গুরুতর আহত হয়। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্যের কাছে ওই ছেলেরা অভিযোগ দেয়। এর প্রেক্ষিতে জামাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে কলাবাগান থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পরে জামাল উদ্দিন আদালতে গিয়ে স্থানীয় ছেলেদের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেন। আমি দুই পক্ষকে থানায় ডেকে সমঝোতা করার চেস্টা করেছিলাম। কোন পক্ষই মানেনি। এখন মামলা অনুযায়ি বিষয়টি সমাধান হবে। থানায় তাকে ভয় ভীতি দেখানোর প্রশ্নই ওঠে না। পান্থপথের ফুটপাতে জামাল উদ্দিনের একটি পিঠার দোকান ছিল। দোকানটিতে তার দুই বোন পিঠা তৈরির কাজ করতেন।

গত এপ্রিল মাসে স্থানীয় চাঁদাবাজ গ্রুপের সদস্য মিন্টু খান, সজীব, আলমগীরসহ ১০/১২ জন তার দোকানে সাপ্তাহিক চাঁদা ৫ হাজার টাকা দাবি করে। চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে সন্ত্রাসীরা তাদের মারধর করে। এ ব্যাপারে জামাল কলাবাগান থানায় জিডি করতে গেলে, পুলিশ তার জিডি নেয়নি।

পরে ২৫ এপ্রিল ঢাকার আদালতে জামাল চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন। এরপর থেকে চাঁদাবাজরা তাকে হুমকি দিতে থাকে। ২৪ জুন রাত ১০ টার দিকে চাঁদাবাজ গ্রুপ এসে তার দোকানে হামলা চালায়। তারা লাথি দিয়ে পিঠা তৈরির হাড়ি-পাতিল ফেলে দেয়। এসময় গরম পানিতে একজন ঝলসে যায়। ওই সময় চাঁদাবাজরা জামালকে ধরে মারধর দেয়। তারা চলে যাওয়ার ১০ মিনিট পর কলাবাগান থানার একটি পুলিশ ভ্যান তার দোকানের সামনে থামে।

পুলিশের গাড়ি থেকে তিন পুলিশ সদস্যের সঙ্গে চাঁদাবাজ গ্রুপের দুই সদস্য সেখানে নামেন। তিন পুলিশ দোকানের সব জিনিসপত্র গুঁড়িয়ে দেয়। ওই সময় জামালের দুই বোন প্রতিবাদ করলে পুলিশ সদস্যরা তাদের মোবাইল ফোন বের করে ভিডিও করতে থাকেন। পুলিশ সদস্যরা বলতে থাকেন, ‘তোরা খারাপ মেয়ে। আমরা এই ভিডিও ইন্টারনেটে ছেড়ে দিব।’

ঘটনার পরদিন জামাল উদ্দিন কলাবাগান থানায় ওসির সঙ্গে দেখা করেন। ওসির সাফ সাফ নির্দেশ, ‘তুমি মামলা করছো কেন? এই মামলা প্রত্যাহার না করলে তুমি দোকানদারি করতে পারবা না।’ পরে জামাল পুলিশের রমনা বিভাগের ডিসি’র (উপ-কমিশনার) সঙ্গে দেখা করেন।

ডিসি ওসি’র কাছে ফোন দিয়ে বলেন, ‘একটা ছেলে মামলা করেছে বলে আপনি তার দোকান বন্ধ করেছেন কেন? জবাবে ওসি বলেন, স্যার ওটা সরকারী জায়গা তাই বন্ধ করেছি। ডিসি বলেন, বাদী তো বললেন পাশের ফুটপাতের সব দোকান খোলা আছে। যদি ওর দোকান বন্ধ করেন, তাহলে সব দোকান বন্ধ করবেন। আমি নিজেই বিষয়টি মনিটরিং করব।’ পরবর্তী চাঁদাবাজ গ্রুপের একজন বাদী হয়ে কলাবাগান থানায় জামালের বিরুদ্ধে হত্যা চেস্টার অভিযোগ এনে একটি মামলা দায়ের করেন।

এ ব্যাপারে গতকাল জামাল উদ্দিন বলেন, চাঁদাবাজির প্রতিবাদ করায় ফুটপাতে আমি দোকান করতে পারছি না। ওরা আমাকে হুমকি দিচ্ছে। পুলিশও বলছে চাঁদাবাজদের সঙ্গে সমঝোতা করেই ফুটপাতে দোকানদারি করতে হবে।

বিষেরবাঁশি.কম/ডেস্ক/মৌ দাস.

Categories: অপরাধ ও দুর্নীতি,সারাদেশ

Leave A Reply

Your email address will not be published.