সোমবার ১ আশ্বিন, ১৪২৬ ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ সোমবার

অলৌকিকভাবে বেঁচে গেলো কাপড়ের পুঁটলির মধ্যে থাকা ছোট্ট শিশুটি

অনলাইন ডেস্ক: গত বৃহস্পতিবার রাতে নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশন থেকে ৪৫ কিলোমিটার দূরে নিয়ম মাফিক লাইন যাচাই করছিলেন দু’জন ট্র্যাকম্যান। সেই সময়েই তাদের নজরে আসে একটি ছোট্ট কাপড়ের পুঁটলি। সেই ছোট্ট কাপড়ের পুঁটলির ওপর দিয়েই চলে গেছে একের পর এক দ্রুতগামী ট্রেন। সেই দু’জন ট্র্যাকম্যান যখন কাপড়ের পুঁটলিটার কাপড় সরায় তখন তাদের চক্ষু চড়কগাছ হয়ে যায়। কারন সেই কাপড়ের পুঁটলির মধ্যে একটি শিশু ছিল। অলৌকিকভাবে বেঁচে গেলো পুঁটলির মধ্যে থাকা ছোট্ট শিশুটি। বর্তমানে শিশুটি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের জলপাইগুড়ির রেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

জানা যায়, রেল লাইনের মাঝে কাপড়ে মুড়িয়ে রাখা হয়েছিল কয়েক মাস বয়সী এক কন্যা শিশুকে। ওই শিশুর সারা গায়ে ছিল আঘাতের চিহ্ন। সঙ্গে সঙ্গে রেলের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের বিষয়টি জানানো হয়। তাদের উদ্যোগেই প্রথমে উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসা হয় ছোট্ট শিশুটিকে। পরে তাকে রেল হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। কে বা কারা শিশুটিকে লাইনের মাঝে ফেলে রেখে গেছে তা নিয়ে তদন্ত শুরু করছে পুলিশ।

ইতোমধ্যেই শিশুটি হাসপাতাল কর্মীদের চোখের মণি হয়ে উঠেছে। তাকে দেখতে ভিড় জমাচ্ছেন হাসপাতালের কর্মীরা। কে বলবে দু’দিন আগে এই শিশুটির ওপর দিয়েই চলে গেছে একের পর এক ট্রেন?

তবে এখানেই শেষ নয়। বৃহস্পতিবার রাতে শিলিগুড়ির নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশন থেকে প্রায় ২৬ কিলোমিটার দূরে চটহাট স্টেশন থেকে উদ্ধার করা হয় ৩০ বছর বয়সী এক অজ্ঞাত নারীর মরদেহ। রেলকর্মীদের ধারণা, ওই নারীই হয়তো শিশুটির মা। তাকে খুন করার পর লাইনে বেশ কিছুটা এগিয়ে এসে শিশুটিকে রেখে যাওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

ট্রেন থেকে বাচ্চাটিকে ফেলে দেওয়ার কোনও সম্ভাবনা নেই বলে মনে করছে পুলিশ। তাছাড়া ট্রেন থেকে কোনো শিশুর পড়ে যাওয়ার কোনো খবরও পাওয়া যায়নি।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, শিশুটির মাথা, পিঠ ও হাতে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। রেল হাসপাতালে বর্তমানে শিশুটি সুস্থ হয়ে উঠেছে। রেল হাসপাতালে চিকিৎসকদের কড়া নজরদারির মধ্যে রাখা হয়েছে শিশুটিকে। সুস্থ হওয়ার পর শিশুটিকে হোমে স্থানান্তরিত করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

বিষেরবাঁশি.কম/ডেস্ক/মৌ দাস.

Categories: আন্তর্জাতিক

Leave A Reply

Your email address will not be published.