সোমবার ১ আশ্বিন, ১৪২৬ ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ সোমবার

ভুয়া ডাক্তারের দ্বারা ধর্ষণের শিকার।সহযোগীতায় খালাতো বোন, গেটে পাহারায় ছিলো চাচাতো ভাই

অনলাইন ডেস্ক: চাচাতো ভাইকে গেটের পাহারায় দাঁড় করিয়ে হবু স্ত্রীকে ধর্ষণ করেছেন রফিকুল ইসলাম অপু নামের এক প্রতারক। তাদের বিয়ের কথা বার্তা চলছিলো। ইতোমধ্যেই হবু স্ত্রীর বাসায় ঘুরে এসেছেন, নিয়ে গেছেন খালাতো বোনকেও। গত শনিবার সেই খালাতো বোনকে দিয়েই ধর্ষণের উদ্দেশ্যে ফোন করে চেম্বারে এনেছিলেন হবু স্ত্রী শ্রবনীকে (ছদ্মনাম)।
ধর্ষণের শিকার ওই তরুণী জানান, রফিকুল ইসলামের খালোতো বোন ফোন করে পার্কে যাওয়ার কথা বলে বাড়ির নিচে আসার আমন্ত্রণ জানান। পরে সেই খালাতো বোন শ্রাবনীকে রফিকুলের চেম্বারে নিয়ে গিয়ে কাজের তাড়া আছে বলে চলে যায়। সুযোগ বুঝে চেম্বারের থাই গ্লাস লাগিয়ে, সকল বাতি বন্ধ করে দেয় অপু। এক পর্যায়ে হত্যার ভয় দেখিয়ে ধর্ষণও করে সে।
এর আগে, রফিকুল ইসলাম অপুর সাথে শ্রাবনীর পরিচয় হয় মায়ের দাতের চিকিৎসা করাতে এসে। তখন অপুর কুনজর পড়ে তরুণীর ওপর। চিকিৎসক অপু তরুণীর মাকে জানায়, ‘আপনার মেয়েকে পছন্দ হয়েছে আমার। তাকে বিয়ে করতে চাই।’ এমন প্রস্তাবে তরুণী ও চিকিৎসক অপুর মধ্যে সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে।
সেই খালাতো বোন ও চাচাতো ভাইকে খোঁজছে পুলিশ
গত ১৭ আগস্ট (সোমবার) ধর্ষণের পর সে শ্রবনীর করা মামলায় প্রতারক রফিকুল ইসলাম ওরফে অপুকে গ্রেপ্তার করেছে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ। এ ঘটনায় ২১ আগস্ট ৫ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে উঠালে ১ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. কাউসার আলম এর আদালত। রিমান্ড আবেদনে বলা হয়- সেই খালোতো বোন ও চাচাতো ভাইয়ের নাম, ঠিকানা এবং ঘটনায় আরো কেউ জড়িত আছে কি না? তা নিশ্চিত হওয়ার লক্ষে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

ফতুল্লার কুতুবপুরের লামাপাড়া এলাকার গ্রিন হাউজ নামের বাড়ির মালিক মৃত হাজী আব্দুল করিমের ছেলে তিনি। ফতুল্লার পঞ্চবটির মামুন সুপার মার্কেটের এস.কে. শরিফ ডেন্টাল কেয়ার নামের একটি চেম্বার আছে তারা। সাইন বোডে অপুর নামের পাশে লেখা আছে, ইউনিবাসিটি অফ কলিকাতা থেকে এল.বি.এ.এস ডিগ্রি নিয়েছেন তিনি। এছাড়া একই বিশ্ব বিদ্যালয় থেকে বি.ডি.এ.এস নামের আরো একটি ডিগ্রিতে অধ্যানরত আছে। এ চেম্বারের পাশেই ডাল্ডা রোডের এ.আর ডেন্টাল নামের আরো একটি চেম্বার রয়েছে তার। সেখানটার সাইন্সবোর্ডে কাজি রফিকুল ইসলাম অপুর নামের পাশে বি.ডি.এস (এএম) নামের ভিন্ন ডিগ্রি লেখে রয়েছে। এটাও নাকি ভারত থেকে নিয়েছেন।
ডাক্তার অপুর ক্লিনিকে কাজ করেছে এমন একজন জানান, কাজি রফিকুল ইসলাম অপু এ পেশায় আছে ৮ থেকে ৯ বছর যাবত। তার আসলে তেমন কোন প্রতিষ্ঠানিক ভাবে সাট্রিফিকেট নেই। যেটা রয়েছে, সেটাও ১ বছরের ভারতের একটি কোর্চ। সেটারও মূল্যে নেই। অথচ, অপুর এখানে চিকিৎসা নিতে এসে ডিগ্রি দেখেই মুগ্ধ হয়ে যায় রোগীরা। এখানে কোন মেয়ে চিকিৎসা নিতে আসলে, সেখানেই প্রেমের প্রস্তাব কিংবা বিয়ের প্রলোভন দেখেয়ে অসামাজিক কার্যকলা করেন।এদিকে, পুলিশের তদন্তও বলছে একই কথা, রফিকুল ইসলাম অপু একজন লম্পট এবং ধর্ষক। পাশাপাশি সে একজন ভুয়া ডাক্তারও। তার কোন বৈধ কাগজপত্র নেই। অথচ, দিনের পর দিন এস.কে শরীফ ডেন্টাল নামক একটি চেম্বার দিয়ে রোগীর সেবার পরিবর্তে মেয়েদের চেম্বারে এনে অসামাজিক কর্মকান্ড করে বেড়াতেন। এর আগেও এ ধরণের কর্মকান্ডর কথা সামাজের বিভিন্ন মহলে ছড়িয়ে পড়ায় চেম্বারটি বন্ধ করে দিয়েছিলো। কিছুদিন পর পুনরায় চেম্বার খুলে অসামাজিক কর্মকান্ড শুরু করে।

বিষেরবাঁশি.কম/ডেস্ক/নাদিম

Categories: অপরাধ ও দুর্নীতি,নারায়ণগঞ্জের খবর

Leave A Reply

Your email address will not be published.