বৃহস্পতিবার ৯ কার্তিক, ১৪২৬ ২৪ অক্টোবর, ২০১৯ বৃহস্পতিবার

শামীম ওসমান উধাও (ভিডিও সহ)

বিষেরবাঁশি.কম: বিশাল আয়োজন। তিনি আসবেন। তিন ঘন্টার দীর্ঘ অপেক্ষা। বহুল আলোচিত সংসদ সদস্য শামীম ওসমান এর ভক্ত নেতাকর্মী ও কৌতুহলী মানুষের উপস্থিতিতে ঠাসা শহীদমিনার প্রাঙ্গণ। যাঁকে নিয়ে এতো কৌতুহল সেই তিনি শামীম ওসমান শেষপর্যন্ত না আসায় সবচেয়ে বেশি হতাশ ইলেকট্রনিকস ও প্রিন্ট মিডিয়ার কর্মীরা।

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের সভানেত্রী ও তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেত্রী (বর্তমান প্রধানমন্ত্রী) শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে দলীয় সমাবেশে গ্রেনেড হামলা চালানো হয়। ওই হামলায় শেখ হাসিনা প্রাণে বেঁচে গেলেও মারা যান মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী আইভী রহমানসহ অনেকে। গ্রেনেড হামলায় নিহতদের স্মরণে আলোচনা সভার আয়োজন করে জেলা আওয়ামী লীগ। এই সভায় নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ একেএম শামীম ওসমানের উপস্থিত থাকার গুঞ্জন থাকলেও শেষ পর্যন্ত আসেননি তিনি। এর আগে ১৫ আগস্টে জাতীয় শোক দিবস ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকীতে জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগসহ দলটির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে বিভিন্ন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হলেও কোন কর্মসূচিতেই দলীয় এমপি শামীম ওসমানকে দেখা যায়নি।
বুধবার (২১ আগস্ট) চাষাঢ়ায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জেলা আওয়ামী লীগের ব্যানারে গ্রেনেড হামলায় নিহতদের স্মরণে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। দুপুর ৩টা থেকেই সভাস্থলে থানা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ মিছিল নিয়ে উপস্থিত হতে শুরু করেন। শামীম ওসমানের অনুসারী আওয়ামী লীগ, মহিলা লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, ছাত্রলীগসহ কয়েকশ নেতাকর্মী উপস্থিত হন। মিছিল নিয়ে যোগদানের সময় তাদের মুখে ছিল শামীম ওসমানকে কেন্দ্র করে শ্লোগান। এই সভায় এমপি শামীম ওসমানের উপস্থিত থাকার বিষয়টি জানতেন সবাই। মাইকে একাধিকবার শামীম ওসমান আসবেন বলে ঘোষণাও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত শামীম ওসমান আর আসেননি। এতে হতাশ হয়েছেন তাঁর অনুসারী নেতাকর্মীরা।

শামীম ওসমানের অনুপস্থিতির বিষয়ে জানতে চাইলে একাধিক নেতা বলেন, তিনি আসবেন বলেই তো জানতাম। কিন্তু কেন আসেনি তা বলতে পারছি না।
আলোচনা সভার শেষ পর্যায়ে জানতে চাইলে জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সাফায়েত আলম সানি বলেন, এমপি সাহেব আসবেন না। আমি আলোচনা সভার আমন্ত্রণ পেয়ে এসেছি। শুনেছিলাম তিনি আসবেন। কিন্তু কেন আসেননি সে বিষয়ে বলতে পারবো না।

নারায়ণগঞ্জে আওয়ামী লীগের কান্ডারি শামীম ওসমান এমন একটি প্রচারণা রয়েছে তাঁর অনুসারীদের। নারায়ণগঞ্জে বিশাল কর্মীবাহিনী রয়েছে তাঁর। যেকোন কর্মসূচিতে নেতাকর্মীদের ঢল নামানোর সক্ষমতা রাখেন তিনি। কিন্তু নিজের আয়োজন করা সমাবেশ ছাড়া দলীয় কোন সমাবেশে কদাচিৎ দেখা যায় আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী এই নেতাকে। এ নিয়ে বিগত সময়ে আলোচনা-সমালোচনা হলেও এর পরিবর্তন হয়নি। যার ফলশ্রুতিতে ১৫ আগস্টের কোন কর্মসূচিতে যেমন ছিলেন না ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় নিহতের স্মরণে আয়োজিত আলোচনা সভাতেও উপস্থিত হননি তিনি।

এর আগে গত ১৫ আগস্ট জেলার বিভিন্ন স্থানে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস পালিত হয়। জেলাজুড়ে শোক রলি, কাঙালিভোজ, মিলাদ মাহফিল, কোরআন খতম থেকে শুরু করে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিনটিকে পালন করেছে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ জেলা প্রশাসন-জেলা পুলিশ থেকে শুরু করে সর্বস্তরের জনগণ। কিন্তু এই দিনে জেলার কিংবা কেন্দ্রীয় কোন কর্মসূচিতে দেখা যায়নি ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের সাংসদ (নারায়ণগঞ্জ-৪) একেএম শামীম ওসমানকে। তার অনুসারীরা বিভিন্ন আয়োজন করলেও সেসব আয়োজনেও তাকে দেখা যায়নি। এ নিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনা-হতাশার সৃষ্টি হয়। জাতীয় শোক দিবসের কর্মসূচিতে প্রভাবশালী এই নেতার অনুপস্থিতি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয় খোদ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যেই। জাতির জনকের মৃত্যুবার্ষিকীর কোন কর্মসূচিতে না থাকার এমন কী কারণ থাকতে পারে সে নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।
এদিকে নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের (রূপগঞ্জ) সাংসদ পাট ও বস্ত্র মন্ত্রী গাজী ছাড়া জেলায় ক্ষমতাসীন সব সাংসদ নিজ নিজ এলাকায় নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে শোক দিবস পালন করেছেন। আড়াইহাজারে নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের সাংসদ নজরুল ইসলাম বাবু, সোনারগাঁয়ে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সাংসদ লিয়াকত হোসেন খোকা, সদর-বন্দরে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সাংসদ একেএম সেলিম ওসমান একাধিক কর্মসূচিতে উপস্থিত থেকে শোক দিবস পালন করেছেন। এমনকি নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ সভাপতি ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীও বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি জ্ঞাপনসহ শোক দিবসের বিভিন্ন কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয় একটি সূত্র জানায়, ১৫ আগস্ট জেলা প্রশাসনের আয়োজনে চাষাঢ়ায় রাইফেলস ক্লাবে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভা উপস্থিত থাকার কথা ছিল সাংসদ শামীম ওসমানের। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি আসেননি। তবে না আসার কারণ নিশ্চিত করা যায়নি। এমনকি বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি জানাতেও আসেননি সাংসদ শামীম ওসমান।
এদিকে এমপি শামীম ওসমানকে না পেয়ে নির্বাচনী এলাকা ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তাঁর সমর্থকরাও হতাশা প্রকাশ করেন।
গত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের চার মাস আগে ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস পালিত হয়। তখন একাধিক আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন শামীম ওসমান। সামনে কোন নির্বাচন নেই বলে এবার কোন কর্মসূচিতে উপস্থিত থাকার প্রয়োজনীয়তা বোধ করেননি বলেও মন্তব্য করেছেন তার সমালোচকরা। তারা বলেন, নির্বাচন নেই তাই নেতাও নেই।

বিষেরবাঁশি.কম/ডেস্ক/নাদিম

Categories: নারায়ণগঞ্জের খবর

Leave A Reply

Your email address will not be published.