বৃহস্পতিবার ৯ কার্তিক, ১৪২৬ ২৪ অক্টোবর, ২০১৯ বৃহস্পতিবার

২১ আগস্টের হামলার পরদিন কারাগার থেকে গ্রেনেড উদ্ধার: ‘ক্ষমতাধর’ কারারক্ষী সোহেল অভিযুক্ত হয় নিজের ভুলের কারণে

বিষেরবাঁশি.কম: ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা। দীর্ষ পনের বছর পেরিয়ে গেলেও ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে ভেতর থেকে (নাজিমউদ্দিন রোডের পরিত্যাক্ত কারাগার) গ্রেনেড উদ্ধার রহস্য আজও উদ্ঘাটন করা যায়নি। কে বা কারা নিরাপত্তা বেষ্টনীর ভেতরে গ্রেনেডটি রেখেছিল, কী উদ্দেশ্য ছিল, সে প্রশ্নের জবাব অজানাই থেকে গেল।

তবে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার তদন্তকারী সংস্থা সিআইডি কর্মকর্তারা ব্যাপক অনুসন্ধান করে একটা সিন্ধান্তে উপনিত হয়েছে যে, একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলার হামলাকারীদের আড়াল করতেই হরকাতুল জিহাদ (হুজি) এ ঘটনা ঘটিয়েছিল। হুজিরা একুশে গ্রেনেড হামলার দায়ভার বঙ্গবন্ধু হত্যাকারীদের উপর চাপাবার চেস্টা করেছিল। আর কারাগারে গ্রেনেড উদ্ধারের চাকুরিচ্যুত হয়েছিল কারারক্ষী ( জেল ওয়ার্ড) সোহেল মন্ডল। সে ছিল ঘটনার শিকার।

একুশে গ্রেনেড হামলার তদন্তের সাথে সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা বলেন, ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট শনিবার বিকালে রাজধানীর গুলিস্তানের বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে গ্রেনেড হামলার ঘটনা ঘটে। আর পরের দিন ২২ রবিবার সকালে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের ভেতরে থেকে (২৬ ও ৯০ নম্বর সেলের মাঝামাঝি ড্রেনে) অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় একটি আর্জেস গ্রেনেড ( একই ধরণের গ্রেনেড ব্যবহৃত হয়েছিল বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে)। এটি প্রথমে দেখতে পায় পরিচ্ছন্ন কর্মী মিন্টু। এরপর তিনি এক কারারক্ষীকে ডেকে আনেন। ওই কারারক্ষী গ্রেনেডটি দেখেই উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিষয়টি জানান। এরপরই কারাগারের ভেতর শুরু হয় ছুটোছুটি। খবর পেয়ে ওই দিন দুপুরের সেনাবাহিনীর একটি বিস্টেম্ফারক দল গ্রেনেডটি উদ্ধার করে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় কারা কর্তৃপক্ষ থানায় লালবাগ থানায় ( বর্তমানে চকাজার) একটি সাধারণ ডাইরী করে। তবে বিএনপি জামায়াত জোট সরকারের সময়
এ নিয়ে থানা পুলিশ খুব একটা মাথা ঘামায়নি।

তবে একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলার ঘটনা ভিন্ন খাতে সাজাতে জজমিয়া নাটক সাজানোর চেষ্টা করে। ফাঁসানোর চেষ্টা করে আওয়ামীগ নেতা কর্মীদের। পুরোপুরি আড়াল করার চেষ্টা করে হুজিদের। অজ পাড়াগাঁয়ের জজমিয়াকে দিয়ে নাটক সাজানো ঘটনা ফাঁস হয়ে যাওয়ায়

একুশ আগস্ট গ্রেনেড হামলার মূল মামলার কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। ২০০৭ সালে ওয়ান ইলেভেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার তদন্ত পুনঃরায় শুরু হয়। এরপরই হামলার প্রকৃত ঘটনা ও হামলাকারীদের নাম প্রকাশ পেতে থাকে। মামলার তদন্তে সংশ্লিস্ট ওই কর্মকর্তা বলেন, কারাগারে আর্জেস গ্রেনেড উদ্ধারের ঘটনায় ওই সময় কারা প্রশাসনে যারা দায়িত্বে ছিলেন (ওই সময় 546জেল সুপার ছিলেন হারুন অর রশিদ, তিনি পরবর্তীতে বিভিন্ন অভিযোগে চাকুরিচ্যুত হন) তাদের প্রত্যেকের সাথে কথা বলেছেন। কিন্তু কেউ কোন ধরনের তথ্য দিতে পারেনি। এমনটি গ্রেফতারকৃত হুজিদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। কিন্তু তারাও এর দায় স্বীকার করেনি।

কারা রক্ষী সোহেল মন্ডল একুশে গ্রেনেড হামলা মামলার তদন্তে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, একুশে গ্রেনেড কারী নিষিদ্ধ সংগঠন হরকাতুল জিহাদ আল ইসলামী বাংলাদেশ (হুজি-বি)’কে আড়াল করতেই কারাগারে গ্রেনেড ফেলে রাখা হয়েছিল। কারণ যেখানে গ্রেনেডটি পড়েছিল তার পাশের সেলেই ওই সময় ছিল বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার মৃত্যুদন্ড প্রাপ্ত ৫ আসামি ( যাদের ফাঁসি কার্যকর হয়েছে)।

সূত্র জানায়, বিভিন্ন তথ্য প্রমানে তদন্ত কর্মকর্তারা নিশ্চিত যে গ্রেনেডটি বাইরে থেকে ছুঁরে মারা হয়েছিল। যেখানে গ্রেনেডটি পড়েছিল তার পশ্চিম ভাড়ে রয়েছে একাধিক উচ্চু ভবন। তদন্ত সূত্র জানায়, যেখানে গ্রেনেডটি পড়ে ছিল কারাগারের ওই এলাকায় ডিউটি ছিল কারারক্ষী সোহেল মন্ডলের। কিন্তু সোহের মন্ডল ডিউটি অনুস্থিত ছিল। পরবর্তীতে সে চাকুরিচ্যুত হয়।
কে একই সোহেল মন্ডল ?

সোহেল মন্ডলের বাড়ি রাজবাড়ি জেলায়। তার মা ছিলেন বিএনপি জোট সরকারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী দফতরের আয়া। আর সে কারণে সোহেল মন্ডল নিজেকে কারাগারে ‘ক্ষমতাধর’ মনে করতো। সর্বোপরি একুশে আগষ্ট গ্রেনেড হামলার কিছুদিন আগে সে কয়েকজনকে কারারক্ষী পদে চাকুরি দেবার নাম করে কয়েক লাখ টাকা নিয়েছিল। আর চাকুরীচ্যুত হবার পরবর্তীতে যারা কারারক্ষী পদের জন্য সোহেল মন্ডলকে টাকা দিয়েছিল তারা ২০০৮ সালের দিকে রাজবাড়ী সদর থানায় মামলা করে । গ্রেফতার হয় সোহেল মন্ডল। এরপর সিআইডি কর্মকর্তারা রাজবাড়ী জেলা কারাগারে গিয়ে কয়েক দফায় সোহেল মন্ডলকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এসব তথ্য জানতে পারে।

বিষেরবাঁশি.কম/ডেস্ক/মৌ দাস.

Categories: জাতীয়

Leave A Reply

Your email address will not be published.