সোমবার ১ আশ্বিন, ১৪২৬ ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ সোমবার

দিনেদিনে আমরা কী হয়ে যাচ্ছি? শোক দিবসেও হাসিঠাট্টা: আনিসুর রহমান

অনলাইন ডেস্ক (সুভাষ সাহা): ‘প্রাণে গান নাই, মিছে তাই রবী ঠাকুর মূর্তি গড়া -‘ জাতীয় শোক দিবসে অট্ট হাসিতে ফেটে পরেন মূল নেতার স্ত্রী। হাসতে হাসতে কুজু হয়ে বসে যান। জাতীয় শোক দিবস কি, শুধুই একটি কর্মসূচী মাত্র??

যারা শ্রোতা তারাও যোগদেন সেই হাসিতে। মনে হচ্ছিল যে বিয়ে বাড়ি, অথবা কোন বিজয় উৎসব। আওয়ামীলীগ এমন হয়ে গেল কেমন করে।

আমরা যারা দুর্দিনে ছাত্র রাজনীতি করেছি, তারা দিনদিন বেমানান হয়ে যাচ্ছি রাজনীতিতে। শোক দিবসে গ্রাম্য মানুষের মতো মন খারাপ থাকে আমাদের।

যারা পদ পদবী, ব্যবসা, পাওয়ার স্ট্যাশন, ব্যংক ইত্যাদির মালিক হয়ে গেছেন, তারা খুশীতে এতোই আটখানা যে, ১৫ আগষ্টেও তাদের আনন্দ উপচে পরে। এক সময় ১৫ আগষ্ট কাছাকাছি আসলেই টানটান উত্তেজনায় থাকতাম, মনে ভয় কাজ করতো নিজে বিপদে পরার অথবা কাছের কাউকে হারাবার।

১৫ আগষ্ট মানে কয়েকটি দলের মিলিত আনন্দ উল্লাস, আর আমরা শোকার্তরা সেটা মেনে নিতামনা, তাই অবধারিত ছিল সংঘাত। আমাদের কাঙ্গালী ভোজের হাড়ি পাতিল পেন্ডেল ভেংগে দিতো ওরা। কোথাও কোথাও খিচুরিতে বিষ দিয়ে দিত।

ঐক্যবদ্ধ ভাবে আমাদের উপর ঝাপিয়ে পড়তো জাতীয় পার্টি, ফ্রিডম পার্টি, ছাত্রদল এবং পুলিশ। কোন কোন জেলায় শিবিরও সাথে যুক্ত হতো। এর ভেতরেও আমরা আমাদের কাজ করে যেতাম। তখন কোন দিন ক্ষমতায় আসবো এমন ভাবনাও আসতোনা মনে।

এরশাদ পতনের পর, যখন খালেদাজিয়া সরকারে এলেন, তখন ইন্ডেমনিটি অর্ডিন্যান্স বাতিলের দাবীতো নতুন আন্দোলন শুরু করলাম। সে মিছিলেও পুলিশ আমাদের পিটাতো। তখন আমাদের ভাবনা ছিল, যদি বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার হয়ে যায়, তাঁকে জাতির পিতা স্বীকৃতি দেয়া হয়, সব দল তাঁর জন্মদিন মৃত্যুদিন পালন করে সেদিন রাজনীতি ছেড়ে দেব।

দুর্ভাগ্যজনক ভাবে সে দিন আজও আসেনি। খুব সহসায় সেদিন আসবে বলেও মনে হচ্ছেনা। তার চাইতেও বড় দুর্ভাগ্যের বিষয় হচ্ছে, স্বয়ং বঙ্গবন্ধুর প্রতিই যাদের মমতা নেই তাদের ছাড়া যেন দল অচল। তারা খুবই গুরুত্তপূর্ণ, তারা অনিবার্য।

যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামীলীগের শোক সভায় আনন্দের ফোয়ারা দেখে খবর নিলাম দর্শক সারির লোক গুলো কারা? জানলাম ওরা গঠনতন্ত্র লংঘন করে সদ্য কমিটি যায়গা পাওয়া সৌভাগ্যবানেরা। যারা চার পাঁচ বছর আগেও বিএনপি কিংবা জামাত ছিল। নিজের অবস্থান সুদৃঢ করার জন্য এদের দলীয় পদ বিতরন করেছেন কেউ একজন।

একই অবস্থা ওয়াশিংটন এলাকাতেও, অন্য দল থেকে এসে বিভিন্ন অংগ সংগঠনের সভাপতি। মূল দলের নেতাও তাদের পরামর্শ নিয়ে দল চালান।

বাংলাদেশে যা হচ্ছে, বিদেশেও তা-ই হবে, এটাইতো স্বাভাবিক। আমি মোটেও আশ্চর্য হইনি। তবে ব্যথিত হয়েছি ভীষন। কোন দিকে যাচ্ছি আমরা। নীতি আদর্শ কিছুই কি থাকবেনা??

গত দশ বছরে আওয়ামীলীগ ও অংগ সংগঠনে বাম্পার ফলন হয়েছে, চারিদিকে থৈথৈ করছে আওয়ামীলীগ। উপচে পরছে নেতা।

ছাত্রলীগ, যুবলীগ ইতিমধ্যে বাংলাদেশে ধংস হয়েছে ভেতর থেকে, আদর্শিক ভাবে। কমিটির বিশালত্বের কারনে।একেক কমিটিতে তিনশ চারশ লোক।

তবে দেশে আওয়ামীলীগের কমিটির আকার বড় করার সাহস কেউ কোন জেলায় দেখায়নি, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামীলীগ তাও করে দেখিয়েছে। আশা করি এর ঢেঊ দেশেও লাগবে।

নবাগত এই অনিবার্য সম্মানিত নেতারা জানেনা, বঙ্গবন্ধুর মায়ের নাম কি? বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন কবে? ছয় দফা কি? গন অভ্যুত্থান কেন কবে হয়েছিল? জেল খানায় নিহত নেতাদের নাম কি? বঙ্গবন্ধুর আদর্শ কি জিনিস??

দেশে এবং বিদেশে আদর্শহীন এই নেতার সমষ্টি আসলে অর্থহীন জটলা ছাড়া কিছু নয়।

মোস্তাক, ফারুক, রশীদরা বঙ্গবন্ধুর যে খতি করতে পারেনি এরা তা করে দেখাবে। যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামীলীগের ঈদের আনন্দের মতো শোক সভা দেখে এমনটিই আমার মনে হচ্ছে বারবার।

বিষেরবাঁশি.কম/ডেস্ক/মৌ দাস.

Categories: জাতীয়

Leave A Reply

Your email address will not be published.