শনিবার ৯ ভাদ্র, ১৪২৬ ২৪ আগস্ট, ২০১৯ শনিবার

সুষমা মোদিকে মুখের ওপর ‘না’ বলেছিলেন: লিখিত ভাষণই পড়তে হয়েছিল মোদিকে

অনলাইন ডেস্ক: ভারতের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজের শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে। তিনি নরেন্দ্র মোদির প্রথম সরকারের আমলে যে গুরুত্বপূ্র্ণ দায়িত্ব সামলেছেন, সেই সময় পদের খাতিরে একাধিক কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছিল তাকে। তার স্মৃতিচারণায় অনেক কথা, অনেক প্রসঙ্গ উঠে এসেছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বক্তব্যে।

মোদি বলেন, আয়রন লেডি নামে পরিচিত সুষমা চিরকাল কাজের ক্ষেত্রে কোনও আপোষ করেননি। সেজন্য তাঁকে অপ্রিয় সত্য কথাও বলতে হয়েছে। তবে কখনও পিছপা হননি তিনি। বলিউড অভিনেতা অক্ষয় কুমারের সঙ্গে এক আলাপচারিতায় সুষমা প্রসঙ্গে বলেছিলেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। তিনি বলেছিলেন, কীভাবে সুষমা স্বরাজ জোর করে তাকে লিখিত ভাষণ পড়তে বাধ্য করেছিলেন দেশের স্বার্থে, নিয়মনীতির কথা মাথায় রেখে।

অক্ষয় কুমারের সঙ্গে কথা বলার সময় মোদি তুলে আসেন ২০১৪ সালের একটি ঘটনার কথা।মোদি বলেন, ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে তিনি জাতিসংঘের এক সভায় যোগ দিতে নিউ ইয়র্কে গিয়েছিলেন। সেখানে ভারতের তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজও উপস্থিত ছিলেন। সেটাই ছিল প্রধানমন্ত্রী হিসেবে জাতিসংঘে মোদির প্রথম ভাষণ। স্মৃতির অতলে ডুব দিয়ে মোদি বলেন, আমি অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসী ছিলাম নিজের ভাষণ নিয়ে। ভেবেছিলাম না পড়াশুনা করে, কিছু না দেখে বা লিখেই ভাষণ দিতে পারব। যখন জাতিসংঘে পৌঁছায়, সেখানে উপস্থিত ছিলেন সুষমা। তিনি ভাষণের ফ্রেমওয়ার্কের কথা জিজ্ঞাসা করেন। তখন আমি বলি মাথায় সব রাখা আছে, সেখান থেকেই ভাষণ দেব। তা শুনে বেশ ক্ষুব্ধ হন সুষমা। তিনি বলেন এটা নিয়ম নয়। আপনার এই সিদ্ধান্ত মানতে পারছি না। আপনাকে লিখিত ভাষণই পড়তে হবে।

মোদী বলেন, তিনি সুষমাকে বোঝানোর চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু নিজের বক্তব্যে অনড় ছিলেন সুষমা। প্রধানমন্ত্রী মোদিকে পরিষ্কার জানিয়ে দেন, ‘ইসমে আপকি নেহি চলেগি, আপকো মাননা হি পড়েগা।’ মোদি বলেন এর থেকেই বোঝা যায় নিজের দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে কতটা সচেতন ছিলেন সুষমা স্বরাজ। প্রায় ৩০ মিনিট ধরে তাদের দুজনের মধ্যে এই ইস্যুতে বাদানুবাদ চলে। অবশেষে মোদিকেই হার মানতে হয়।

জাতিসংঘের সাধারণ সভায় লিখিত ভাষণই পড়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। পরে অবশ্য স্বীকার করেছিলেন, বেশ অসুবিধায় পড়তে হয়েছিল তাকে। এই সাক্ষাৎকার দেখার পর মোদিকে টুইট করেছিলেন সুষমা। জানিয়ে ছিলেন তার প্রসঙ্গ তোলায় আনন্দিত হয়েছেন তিনি। তবে বুধবার থেকে সবই চলে গেল ইতিহাসের পাতায়। স্মৃতি হয়েই থেকে গেলেন সুষমা।

বিষেরবাঁশি.কম/ডেস্ক/মৌ দাস.

Categories: আন্তর্জাতিক

Leave A Reply

Your email address will not be published.