শনিবার ৯ ভাদ্র, ১৪২৬ ২৪ আগস্ট, ২০১৯ শনিবার

চার বছরে চার খুনের মামলার তদন্তের অগ্রগতি নেই: সন্দেহভাজন এক আসামী বন্দুকযুদ্ধে নিহত

অনলাইন ডেস্ক: বাড্ডা এলাকায় আফতাবনগর পশুর হাটের চাঁদাবাজির ১ কোটি টাকা ভাগ-বাটোয়ারাকে কেন্দ্র করে ২০১৫ সালের ১৩ আগস্ট ঘটে যাওয়া চার খুনের মামলার তদন্তের এখনোও কোন অগ্রগতি হয়নি। এই মামলায় সন্দেহভাজন আসামীদের মধ্যে রমজান নামে এক আসামী ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে।

মামলার বাদীও আতংকে রয়েছেন। ইতোমধ্যে আসামীদের হুমকির কারণে বাদী বাড্ডা থানায় নিরাপত্তা চেয়ে জিডিও করেছেন। আমেরিকায় আত্মগোপন করা বাড্ডার শীর্ষ সন্ত্রাসী মেহেদীর নির্দেশে চার খুনের ঘটনা ঘটে বলে মামলার তদন্তকারী সংস্থা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) মনে করছে।

২০১৫ সালের ১৩ আগস্ট রাতে বাড্ডার আদর্শনগর পানিরপাম্প এলাকায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হন ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মাহবুবুর রহমান গামা, বাড্ডার ছয় নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি শামসুদ্দিন মোল্লা, ব্যবসায়ী ফিরোজ আহমেদ মানিক ও যুবলীগ নেতা আবদুস সালাম। নিহত মাহবুবুর রহমান গামার বাবা মতিউর রহমান বাদী হয়ে অজ্ঞাত ১০/১২ জনকে আসামী করে বাড্ডা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে সাইদুল নামে স্থানীয় এক ছিঁচকে সন্ত্রাসী পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়। দায়ের করা মামলাটি তদন্ত করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ আদালতে চার্জশিট দেয়। বাদী এই চার্জশিটের ওপর নারাজি দিলে আদালত মামলাটি পুন:তদন্তের জন্য সিআইডিকে নির্দেশ দেয়।

মামলার বাদী অভিযোগ করেন, আফতাবনগর গরুর হাটের ইজারাকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষ ভাগ্নে ফারুখ ও বিদেশে আত্মগোপন করে থাকা শীর্ষ সন্ত্রাসী মেহেদীর নির্দেশে তার ছেলেকে ভাড়াটিয়া কিলার দিয়ে খুন করা হয়। খুনের মিশনে অংশ নিয়েছিল আরিফ, পবন, পুলক, রমজান, মানিক, মান্নানসহ ১০/১২ জন সন্ত্রাসী।

ডিবি যে চার্জশিট দিয়েছে, তাতে গরুর হাটের ইজারার বিষয়টি উল্লেখ করেনি। অথচ এই গরুর হাটের ইজারাকে কেন্দ্র করে শীর্ষ সন্ত্রাসী মেহেদী ও স্থানীয় সন্ত্রাসী গ্রুপ ভাগ্নে ফারুক ১ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করেছিল। চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে বেশ কয়েকবার তারা তার ছেলেকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছিল।

সিআইডি’র মামলার তদন্ত সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা বলেন, ২০১৮ সালের পুর্বে আফতাবনগর পশুরহাট প্রতি বছর জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে ইজারা দেয়া হতো। ওই সময় বাড্ডা ইউনিয়ন এলাকা বলে প্রতিবছর গড়ে ৫০ হাজার থেকে ৬০ হাজার টাকায় ইজারা দেয়া হয়। ২০১৩ সালে মাহবুবুর রহমান গামা আফতাবনগর কোরবানির পশুর হাট সাড়ে ৫ কোটি টাকায় ইজারা নেন। এই নিয়ে বাড্ডার

স্থানীয় সন্ত্রাসী ভাগ্নে ফারুক ও আমেরিকা প্রবাসী মেহেদী গ্রুপের সঙ্গে তার দ্বন্দ্বের সূত্রপাত হয়। পরের বছর গামা স্থানীয় ভাগ্নে ফারুক গ্রুপের চাপে আফতাবনগর পশুর হাট ইজারা নিতে পারেননি। ২০১৩ সালের হাট ইজারা বাবদ সন্ত্রাসী গ্রুপগুলো তার কাছ থেকে ১ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করে। এই চাঁদার টাকা কমানোর জন্য ২০১৪ সালের ৩ মে বাড্ডা জাগরণী সংসদ ক্লাবে সন্ত্রাসী গ্রুপগুলোর একটি বৈঠক হয়। ঐ বৈঠক চলাকালে সন্ত্রাসীরা গুলি করে হত্যা করে বাড্ডা থানা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি মোফাজ্জল হোসেন রাহিনকে।

২০১৫ সালের আগস্টে কোরবানির পশুরহাট ইজারার টেন্ডার দেয়া হলে মাহবুবুর রহমান গামা আবারও ঐ হাট ইজারা নেয়ার উদ্যোগ নেন। আগের দাবিকৃত চাঁদা না দেয়ায় এবং নতুন করে আবারও হাট ইজারার উদ্যোগ নিলে শীর্ষ সন্ত্রাসী মেহেদী গ্রুপ গামাকে সরিয়ে দেয়ার পরিকল্পনা করে। এর জের ধরেই আরিফ, পবন, রমজান,মান্নান, পুলকসহ ১০/১২ জন সন্ত্রাসী গত বছরের ১৩ আগস্ট রাতে আদর্শনগর পানির পাম্ম এলাকায় গামাসহ অপর তিন জনকে গুলি করে হত্যা করে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বাড্ডা এলাকায় কয়েকটি গ্রুপে হাতে চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রন হচ্ছে। এদের মধ্যে মেহেদী গ্রুপ, ভাগ্নে ফারুক গ্রুপ, রায়হান গ্রুপ, মালয়েশিয়ায় আত্মগোপন করা ডালিম-রবিন গ্রুপ। এই গ্রুপগুলোর হাতের গত ৭ বছরে অন্তত ১৫ টি খুনের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনার একটিরও কুল কিনারা হয়নি।

বিষেরবাঁশি.কম/ডেস্ক/মৌ দাস.

Categories: অপরাধ ও দুর্নীতি,সারাদেশ

Leave A Reply

Your email address will not be published.