শনিবার ৯ ভাদ্র, ১৪২৬ ২৪ আগস্ট, ২০১৯ শনিবার

আট বছর বয়সী মেয়ে ধর্ষণের শিকার: ব়্যাবের কাছে বোরকা পড়ে অভিযোগ দিতে যান বাবা (ভিডিও সহ)

অনলাইন ডেস্ক: প্রতিরাতেই মেয়েটি ঘন ঘন দুঃস্বপ্ন দেখে কান্নাকাটি করতো। আট বছর বয়সী মেয়ের কষ্ট লাঘবের জন্য সন্তানকে নিয়ে তার বাবা পার্শ্ববর্তী একটি মসজিদের ইমামের কাছে যান। ভেবেছিলেন ইমামের ঝাড়ফুঁক ও পানি পড়ায় তার সন্তান আরোগ্য লাভ করবে। কিন্তু তা আর হলো না।

অসহায় বাবা ভাবতেও পারেনি ঝাড়ফুঁকের পরিবর্তে তার ছোট্ট মেয়েটির সঙ্গে ঘটবে ধর্ষণের মত ঘটনা। যা তার সন্তানকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিবে। সে বাবা এও বুঝতে পারেনি মেয়ের প্রতি হওয়া অন্যায়ের বিচার চাইতে গিয়ে তার পুরো পরিবারকে হেনস্থা ও মৃত্যুর হুমকির শিকার হতে হবে। সে পিতা এতটাই অসহায় হয়ে পড়েছে যে, বোরকা পরে লুকিয়ে র‌্যাবের কাছে সাহায্য চাইতে যেতে হয় তার।

গত মঙ্গলবার (৬ আগস্ট) ফতুল্লা উত্তর চাষাঢ়া এলাকার একটি পরিবারের সঙ্গে এ ঘটনাটি ঘটে।

সন্তানের দুঃস্বপ্ন দেখা বন্ধের জন্য আট বছর বয়সী মেয়েকে নিয়ে তার বাবা বায়তুল হাফেজ জামে মসজিদের ইমাম মো. ফজলুর রহমানের কাছে নিয়ে যান। চারবার চেষ্টার পরও আরোগ্যলাভ না করায় আবার ইমামের কাছে সাহায্য চাইলে ইমাম মো. ফজলুর রহমান শিশুটিকে নিয়ে মসজিদে আসতে বলেন। ইমামের কথা মতো সকালে মেয়েকে নিয়ে মসজিদের ৩য় তলায় ইমাম মো. ফজলুর রহমানের কক্ষে যান বাবা। এ সময় ইমাম তাকে আগরবাতি ও মোমবাতি আনার জন্য বলেন। ভোরে কোনো দোকান খোলা না পেয়ে এসব কিনতে তাকে দূরে যেতে হয়। অন্যদিকে ইমাম সুযোগ পেয়ে শিশুটিকে ধর্ষণ করে। শিশুটি অসুস্থ্য হয়ে পরলে তাকে পানি ঠেলে পরিষ্কার করে এবং গলায় ছুড়ি ধরে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। পরবর্তীতে বাবা আসলে ইমাম মেয়েকে তার কাছে বুঝিয়ে দেয়।

পরবর্তীতে শিশুটি বাসায় গিয়ে তার বাবা মাকে সবকিছু খুলে বলে। ধীরে ধীরে শিশুটির শারিরীক অবস্থার অবনতি হওয়া শুরু করলে ভূক্তভোগী পরিবারটি তাকে নিয়ে মসজিদ কমিটির কাছে বিচার চাইলে কমিটি ও ইমামের কিছু ভক্ত মিলে তাদের হেনস্থা করে। এমনটি থানা বা হাসপাপতালে না যেতে বাধ্য করে। কিন্তু শিশুটির অবস্থা আরো খারাপ হলে তার বাবা চুপি চুপি তাকে নিয়ে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল (ভিক্টোরিয়া) হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানেও ধর্ষক ইমাম ও তার অনুসারিরা গিয়ে উপস্থিত হয়। তারা হাসপাতালের এমন একটি পরিস্থিতি সৃষ্টি করে যে, শিশুটিকে নিয়ে দীর্ঘসময় হাসপাতালে লুকিয়ে থাকতে হয় বাবা মাকে।

হাসপাতালের টয়লেট ও বেডের নিচে লুকিয়ে থাকার এক পর্যায়ে মঙ্গলবার (৬ আগস্ট) রাতে শিশুটির বাবা একজন নার্সের বোরখা পড়ে সেখান থেকে পালিয়ে র‌্যাব অফিসে যান এবং র‌্যাবের কাছে অভিযোগ করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে র‌্যাব-১১ প্রথমত হাসপাতালে উপস্থিত হয়। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ভুক্তভোগীর পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। এরপর অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে অভিযান পরিচালনা করে।

বুধবার (৭ আগস্ট) সকাল ৬টায় উত্তর চাষাড়া চাঁদমারী এলাকা থেকে অভিযুক্ত ইমাম মো. ফজলুর রহমানসহ ৬ জনকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। গ্রেপ্তারকৃতরা নেত্রকোণা কেন্দুয়া থানার মৃত রিয়াজ উদ্দিনের ছেলে ইমাম মো. ফজলুর রহমান ওরফে রফিকুল ইসলাম। বাকিরা হলেন, উত্তর চাষাড়া চাঁদমারী এলাকা মো. রমজান আলী, মো. গিয়াস উদ্দিন, হাবিব এ এলাহী ওরফে হবি, মো. মোতাহার হোসেন ও মো. শরিফ হোসেন।

বিষেরবাঁশি.কম/ডেস্ক/মৌ দাস.

Categories: অপরাধ ও দুর্নীতি,নারায়ণগঞ্জের খবর

Leave A Reply

Your email address will not be published.