বৃহস্পতিবার ৯ কার্তিক, ১৪২৬ ২৪ অক্টোবর, ২০১৯ বৃহস্পতিবার

ডেঙ্গু মশা চেনার সহজ উপায়

বিষেরবাঁশী ডেস্ক: এটা ডেঙ্গু মশা। খুব সহজেই চিনতে পারবেন। এটার পায়ে সাদা দাগ থাকে। এই মশা মারতে গেলে হাতে মশার গায়ের এই সাদা পিগমেন্ট লেগে যায় পর্যন্ত। মনে রাখবেন, ডেঙ্গু মশা ছাড়া অন্য মশার পায়ে সাদা দাগ থাকেনা। বাসায় এই মশা দেখামাত্র সতর্ক হোন। স্প্রে করে মেরে ফেলুন একটা মশা দেখলেও।

বাসার সবাইকে ছবি দেখিয়ে ডেঙ্গু মশা চিনিয়ে দিন। এই মশা আমরা সবাই দেখেছি। কিন্তু এটাই যে ডেঙ্গু মশা সেটা জানতাম না হয়তো। এই দুই মশার মধ্যে পার্থক্য হলো— এডিস ইজিপ্টাই-এর পিঠে বীণার মতো চিহ্ন থাকে। আর এডিস অ্যালবোপিকটাসের মশার পিঠে সাদা রডের মতো অংশ থাকে।
এই দু’ধরনের মশার শরীরে কালো-সাদা ডোরাকাটা দাগ থাকে। বাঘের শরীরের ডোরাকাটা দাগের সঙ্গে আপাত মিলের জন্য একে টাইগার মশাও বলা হয়।
এই প্রজাতির মশা সাধারণত স্বচ্ছ-পরিষ্কার পানিতে থাকে। ফেলে দেয়া টায়ার, পাত্র, নির্মীয়মান বাড়ির চৌবাচ্চা ইত্যাদি জায়গায় বৃষ্টির পানি জমে বা অন্য কোনও কারণে পানি জমলে এই মশা সেখানে ঘর বাঁধতে পারে। এরা সেখানেই ডিম পাড়ে।

যেকোনো পরিস্থিতিতে মানিয়ে নেয়ার ক্ষমতা রয়েছে এই মশাগুলোর। সমুদ্রপৃষ্ঠে যেমন থাকতে পারে, তেমনই ৬০০ ফুট পর্যন্ত উচ্চতায়ও নিমেষে উড়ে বেড়াতে পারে। তিন মাইল পর্যন্ত উড়তে পারে ডেঙ্গুর মশারা। প্লেন, ট্রেন বা যেকোনো গণ পরিবহণে করে এক জায়গা থেকে অন্যত্র চলেও যেতে পারে।

ডেঙ্গু ভাইরাস বহন করা এই ধরনের মশাগুলো বংশবিস্তার করলে, তাদের সন্তানাদিও ডেঙ্গু ভাইরাস বহন করতে থাকে। একে বলা হয় ট্রান্স ওভারিয়ান ট্রান্সমিশন। অন্যান্য মশার কিন্তু এই ক্ষমতা নেই।
এই মশা দমনের প্রধান উপায় হল পানি জমতে না দেয়া। বাড়ির টব, পট, চায়ের কাপ, ভাঁড় ইত্যাদি জায়গায় পানি জমা আটকাতে হবে। এর পাশাপাশি বিভিন্ন নির্মীয়মান বাড়ির গর্তে দিনের পর দিন পানি জমে থাকতে দেখা যায়। এই জায়গাগুলোতে পানি না জমার ব্যবস্থা করা চাই। এখন বর্ষাকাল, তাই এই বিষয়টিতে আরো বেশি করে জোর দেয়া দরকার।

বিষেরবাঁশী ডেস্ক/সংবাদদাতা/হৃদয়

Categories: সারাদেশ,স্বাস্থ্য

Leave A Reply

Your email address will not be published.