শনিবার ৯ ভাদ্র, ১৪২৬ ২৪ আগস্ট, ২০১৯ শনিবার

কাঠ ব্যবসায়ীকে অপহরণের অভিযোগ: র‌্যাবের পরিচালকের বিরুদ্ধে অভিযোগ

অনলাইন ডেস্ক: রাজধানীর মিরপুরের মাজার রোডের প্রথম কলোনীতে এক মাস ধরে নিখোঁজ ইসমাইল হোসেন বাতেন (৬০) নামে এক কাঠ ব্যবসায়ী। তিনি ভাসানটেক
পুনর্বাসন প্রকল্প বাস্তবায়ন সংগ্রাম পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক।
পূর্ব শত্রুুতার জের ধরে তাকে র‌্যাবের কমিউনিকেশন শাখার পরিচালক কমান্ডার রাসেল আহমেদ কবীর অপহরণ করেছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

শনিবার (২০ জুলাই) নিখোঁজ ইসমাইলের স্ত্রী নাসরিন জাহান স্মৃতি ও তার ছোট ভাই খায়রুল আলম ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন। সংবাদ সম্মেলনে ইসমাইলসহ নাসরিনের দুই শিশু সন্তানও উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, ‘গত ১৯ জুন মিরপুরের মাজার রোডের প্রথম কলোনীর ২১-এ/ই, লালকুঠির বাসা থেকে সকাল ৯টায় বের হওয়ার পর থেকে ইসমাইল নিখোঁজ হন। তার মোবাইল ফোনটিও বন্ধ ছিল। পরদিন ছোট ভাই খায়রুল শাহআলী থানায় সাধারণ ডায়েরি করলেও এখনও পুলিশ কোনো সন্ধান দিতে পারেনি। র‌্যাব সদর দপ্তরের কমিউনিকেশনস অ্যান্ড এমআইএস শাখার পরিচালক কমান্ডার রাসেল আহমেদ কবীর র‌্যাবকে ব্যবহার করে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে আমার স্বামীকে অপহরণ করেছে। আমার স্বামী বেঁচে আছে কি না জানি না। কোথায় আছে সেটা আমরা জানতে চাই।’

র‌্যাব কর্মকর্তার সঙ্গে বিরোধের বিষয়ে নাসরিন বলেন, ‘৩৫ বছর আগে র‌্যাব
কর্মকর্তা কবীরের বাবা কিশোরগঞ্জের বাজিরপুর থানার কুকরারাই গ্রামের
তৎকালীন জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক দল (জাগদল) নেতা ফয়েজ আহম্মেদ মিন্টু মিয়া খুনের ঘটনায় তার স্বামী ইসমাইল ১২ নম্বর আসামি ছিলেন। পরে আদালতে তিনি নির্দোষ প্রমাণিত হন। আমার স্বামী নিঁখোজ হওয়ার ৪-৫দিন আগে বলেছিল সে লোক মারফত শুনেছে, র‌্যাব কর্মকর্তা রাসেল আহমেদ কবীর তার বাবার হত্যার প্রতিশোধ নিতে চায়। এজন্য আমার স্বামী থানায় জিডিও করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তার আগেই তিনি নিঁখোজ হলেন।’

এ ব্যাপারে র‌্যাবের আইন শাখার পরিচালক লে.কর্নেল এমরানুল হাসান বলেন, অভিযোগটি ব্যক্তিগত পর্যায়ের। এটার সঙ্গে র‌্যাব জড়িত নয়। এরপরও কেউ এ ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ দিলে, আমরা বিষয়টি তদন্ত করে দেখব। অভিযোগের বিষয়ে র‌্যাব কর্মকর্তা কমান্ডার রাসেল আহমেদ কবীর।

র‌্যাব কর্মকর্তা রাসেল আহমেদ কবীর গণমাধ্যমকে বলেছেন, ‘৩৫ বছর আগে আমার বয়স ছিল দুই বছর। তখন আমাদের সাথে কী হয়েছিল, সেটা আমরা পারিবারিকভাবেই ভুলে গেছি। তাই তার জের ধরে কাউকে অপহরণ করার প্রশ্নই আসে না। এসব অভিযোগ সত্য না। আমার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকলে তো তাদের আগে র‌্যাবে অভিযোগ করার কথা ছিল। কিন্তু তারা সেটাও করেনি। ভাসানটেক পুনর্বাসন প্রকল্প বাস্তবায়ন সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি আব্দুল জাব্বার বলেন, ইসমাইল একজন গরীবের জন দরদী নেতা ছিলেন। তিনি ভাসানটেক পুনর্বাসন প্রকল্পে বস্তিবাসীদের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য আন্দোলন করেছিলেন। র‌্যাবের হাতে অপহৃত ইসমাইলকে উদ্ধার করা হোক।

বিষেরবাঁশি.কম/ডেস্ক/মৌ দাস.

Categories: অপরাধ ও দুর্নীতি,সারাদেশ

Leave A Reply

Your email address will not be published.