শনিবার ৯ ভাদ্র, ১৪২৬ ২৪ আগস্ট, ২০১৯ শনিবার

‘টাইট’ দেওয়া যে হত্যায় রুপ নিবে তা মিন্নির ধারণায়ও ছিল না

অনলাইন ডেস্ক: ‘স্বামী রিফাত শরীফকে ‘শিক্ষা’ দিতে চেয়েছিল স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি।’ বরগুনায় রিফাত শরীফকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হ’ত্যার ঘটনায় তার স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নির ঘনিষ্ঠজনদের কাছ থেকে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে গোয়েন্দারা। ঘনিষ্ঠজন ও গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি ও নয়ন বন্ডের সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষায় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিলো স্বামী রিফাত শরীফ। এ জন্য তাকে একটু ‘টাইট’ (শাস্তি) দিতে নয়ন বন্ডকে দায়িত্ব দিয়েছিলো মিন্নি। সে অনুযায়ী সাজানো হয়েছিলো ছক।

সূত্র বলছে, ঘটনার দিন ছক অনুযায়ী কলেজ গেইটে কালক্ষেপণ করে মিন্নি। তবে রিফাতকে ‘টাইট’ দেওয়া যে হত্যায় রুপ নিবে তা মিন্নির ধারণায়ও ছিল না। সেজন্যেই ঘটনার দিন যখন রিফাতকে নয়ন বন্ডের গ্যাংরা টেনে হেচড়ে নিয়ে যায়, তখন মিন্নিকে নির্লিপ্তভাবে হাটতে দেখা যায়। ভেবেছিলেন নয়ন বন্ডরা তাকে সামান্য শিক্ষা দিয়ে ছেড়ে দেবে। কিন্তু মারধরের এক পর্যায়ে হঠাৎ যখন নয়ন বন্ড ও রিফাত ফরাজী যখন চাপাতি দিয়ে অতর্কিতভাবে রিফাতকে কোপাতে থাকে, তখনই মিন্নি ঝাপটে ধরে রিফাতকে বাঁচাতে আপ্রাণ চেষ্টায় ব্যর্থ হয় মিন্নি।

গোয়েন্দা সূত্র আরও জানায়, ঘটনার আগের দিন রাতে নয়নের সাথে মিন্নির প্রায় ১৫ মিনিট কথা হয়। সেই সূত্র ধরেই মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) মিন্নিকে বরগুনা সদরের নিজ বাড়ি থেকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ লাইনে নেওয় হয়। দিনভর জিজ্ঞাসাবাদে রিফাত হত্যায় তার জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে। প্রায় ১৪ ঘন্টার জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে গ্রেফতার দেখায় পুলিশ।

উল্লেখ্য , বুধবার  (২৬ জুন) সকাল সাড়ে ১০ টায় দিকে বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে রামদা দিয়ে কুপিয়ে রিফাত শরীফকে গুরুতর আহত করে। পরে নয়ন বন্ডের গ্যাংরা অস্ত্র উঁচিয়ে এলাকা ত্যাগ করে। তারা তাদের চেহারা লুকানোরও কোনও চেষ্টা করেনি। গুরুতর আহত রিফাতকে পরে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে বিকালে তিনি মারা যায়। এ ঘটনায় রিফাতের বাবা দুলাল শরীফ বাদী হয়ে ১২ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেন।

বিষেরবাঁশি.কম/ডেস্ক/মৌ দাস.

Categories: অপরাধ ও দুর্নীতি,সারাদেশ

Leave A Reply

Your email address will not be published.