শনিবার ৯ ভাদ্র, ১৪২৬ ২৪ আগস্ট, ২০১৯ শনিবার

লক্ষাপাড়ের এ কেমন নারায়ণগঞ্জ কলেজ!

সুভাষ সাহা: দুই বছর আগেও শ্রীহীন ছিল যে ‘নারায়ণগঞ্জ কলেজ’! মাত্র দু’বছরে বদলে গেছে পুরো দৃশ্যপট। ২০১৭ সালের ১ জুলাই ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন রুমন রেজা। উপ-অধ্যক্ষ থেকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে নতুন দায়িত্বভার গ্রহণ করেই নারায়ণগঞ্জ কলেজের প্রশাসনিক ও শ্রেণীকক্ষের দুর্বলতার দিকে শানিত নজর দেন।
১০০০০ শিক্ষার্থী ও ৬৯ জন শিক্ষক-শিক্ষয়িত্রীর ‘নারায়ণগঞ্জ কলেজ’ এখন বাংলাদেশের একটি অনন্য মডেল। কঠোর পরিশ্রমী জ্ঞানপিপাসু রুমন রেজার অবর্ণনীয় অক্লান্ত পরিশ্রমের ফসল ‘নারায়ণগঞ্জ কলেজের’ গভর্নিং বডির সুযোগ্য সভাপতি স্থানীয় সংসদ সদস্য একেএম সেলিম ওসমান। শিক্ষানুরাগী সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান ও ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ রুমন রেজার তত্ত্বাবধানে পরিচালিত নারায়ণগঞ্জ কলেজের সাফল্যগাঁথার গল্প নিয়ে তৈরি হচ্ছে ভিডিও প্রতিবেদন।

গায়ের জামায় ঘামের লবনাক্ত জলের ছুপছুপ দাগ,কপাল থেকে চিপস গলিয়ে টপটপ করে ঝড়ছে। ভ্রুক্ষেপ নেই! স্যারের দরাজ কণ্ঠের আওয়াজে বাড়ান্দায় বিক্ষিপ্ত ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা শিক্ষার্থীরা ইঁদুরের মতো শ্রেণীকক্ষে ঢুকছে। শ্রেণীশিক্ষকদের ডেকেডেকে শ্রেণীকক্ষে এনে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে পরামর্শ দিচ্ছেন। শিক্ষার্থীদের শ্রেণীকক্ষমুখী করতে কি কি করণীয় এ ব্যাপারে কাউন্সিলিং করছেন।

বলছেন, ক্লাসের ফাঁকে তোমাদের আড্ডার সুব্যবস্থা করে দিচ্ছিলক্ষাপাড়ের এ কেমন নারায়ণগঞ্জ কলেজ!। অবশ্যই আড্ডা দেবে। হাসিঠাট্টারও কমতি নেই! কখনো ছাত্রের গলায় ধরে হাটতে হাটতে কথা বলছেন,নানা সমস্যার যৌক্তিক সমাধানও দিয়ে যাচ্ছেন। শিক্ষক নয়,যেন বন্ধু! ৭০ জন শিক্ষক শিক্ষয়িত্রী ও ১০ হাজার শিক্ষার্থীর ভার অবলীলায় বহন করে যাচ্ছেন তরুণ অধ্যক্ষ রুমন রেজা। ক্লান্তি নেই। এককথায় অসাধারণ মনোবল ও ধৈর্য্যের বিরল দৃষ্টান্ত।
কথায় কথায় বললেন, “পেশাটাকে আমি উপভোগ করি। শিক্ষার মান নিয়ে কোন প্রশ্ন নেই। ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব গ্রহণের পর গত দুই বছরে কলেজের ঈর্ষণীয় উন্নয়ন হয়েছে। ৭ তলা নতুন ভবনের কাজ এখনো শতভাগ সমাপ্ত হয়নি। লিফ্ট ও শিততাপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এখনো অসমাপ্ত। মাল্টিমিডিয়া শ্রেণীকক্ষ প্রস্তুত। ভালবাসার নারায়ণগঞ্জ কলেজ নিয়ে রূমন রেজার অন্তহীন ভাবনার সুফল ভোগ করছে শিক্ষার্থীরা শিক্ষার মান ও পরিবেশ বিবেচনায় একটি বিদেশি সাহায্য সংস্থা এ কলেজের অনুকুল ৮ কোটি টাকা অনুদান দিয়েছে। বাংলাদেশে মোট ৪ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে এ সাহায্য নিশ্চিত করেছে সংস্থাটি।
রূমন রেজা বলেন,” মানসম্মত বিশ্ববিদ্যালয়ের আদলে নারায়ণগঞ্জ কলেজকে সাজানো হচ্ছে। ছাত্র রাজনীতির নামে কোন বিশৃঙ্খলাকে এখানে প্রশ্রয় দেয়া হয়না।শিক্ষার পরিবেশ শতভাগ নিশ্চিত রাখতে সবার সহযোগিতা পাচ্ছি। ক্লাসে অনুপস্থিত শিক্ষার্থীদের জন্য ওয়েবসাইট চালুর উদ্যোগ নিয়েছি। প্রাইভেট কোচিংকে নিরুৎসাহিত করছি।”.
৭ তলায় পূর্ব পাশে সুপরিসর একটি কক্ষে মুক্তিযুদ্ধ কর্ণার করা হবে। এ কক্ষে স্বাধীনতা সংগ্রামের মহানায়ক জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি ও আবক্ষ মূর্তি,দেশের সূর্যসন্তাদের ছবির গ্যালারি করা হবে। এ কর্ণারে এসে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানা যাবে। এই কক্ষের শেষ সিমানায় দাঁড়িয়ে পূর্বদিকে তাকালে শীতলক্ষ্যার অপরূপ দৃশ্য উপভোগ করা যাবে। কলেজের নিজস্ব তহবিল থেকে ১৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হচ্ছে মাল্টিমিডিয়া ভবন।বকেএমইএ দুটি লিফট ও আসবাবপত্র সহ আনুষঙ্গিক প্রয়োজনিয় জিনিসপত্র কিনতে ৬৫ লক্ষ টাকার যোগান দিয়েছেন সাংসদ একেএম সেলিম ওসমান।
খুব শিঘ্রই মাল্টিমিডিয়া ভবনে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্লাস চালু হবে।

বিষেরবাঁশী ডেস্ক/সংবাদদাতা/হৃদয়

Categories: নারায়ণগঞ্জের খবর,সারাদেশ

Leave A Reply

Your email address will not be published.