বুধবার ৬ অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ ২০ নভেম্বর, ২০১৯ বুধবার

নিজেই নিজের পেটে গুলি: ফিরোজ রশীদের ছেলের প্রাক্তন স্ত্রী মেরিনা দীর্ঘদিন ধরে মানসিক ভারসাম্যহীন

অনলাইন ডেস্ক: জাতীয় পার্টির (জাপা) প্রেসিডিয়াম সদস্য ও ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদের বড় ছেলে কাজী শোয়েব রশীদের প্রাক্তন স্ত্রী মেরিনা রশীদ দীর্ঘদিন ধরেই মানসিক ভারসাম্যহীন। জানা যায়, ছোট বোনের অকাল মৃত্যুর পর থেকেই মেরিনা মানসিক রোগে ভুগছিলেন। তার এই মানসিক রোগের জন্য নিয়মিত চিকিৎসাও চলছিল। এই অবস্থায় গত রবিবার রাতে মেরিনা নিজ ঘরে নিজেই নিজের পেটে গুলি চালান। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে তৎক্ষণাৎ রাজধানীর ল্যাবএইড হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে চিকিৎসকরা অপারেশন করে গুলি বের করেন। গতকাল সোমবার সকালে মেরিনার জ্ঞান ফিরে। বর্তমানে তিনি স্বাভাবিক কথাবার্তা বলছেন বলে তার পরিবারের লোকজন জানিয়েছেন।

গতকাল সরেজমিনে ঘটনাস্থল কাজী ফিরোজ রশীদের ধানমন্ডির বাড়িতে গিয়ে মেরিনার বাবার সঙ্গেও কথা হয়। মেয়ের এই কান্ডে বাবা নিজেই লজ্জিত। এসময় ফিরোজ রশীদ কিছু কাগজপত্র দেখিয়ে জানান, অনেক আগেই শোয়েবের সঙ্গে মেরিনার ছাড়াছাড়ি হয়ে গেছে। তবে মেরিনা নিজের বাবার বাসায় সৎ মায়ের সঙ্গে থাকতে স্বাচ্ছ্যন্দ বোধ করছিলেন না। তাই মেরিনা তার বাবাকে দুই সন্তানের সঙ্গেই থাকার আকুতি জানান। ফিরোজ রশীদ বলেন, ‘তালাক হয়ে যাওয়ার পরেও শুধুমাত্র দুই নাতি-নাতনির কথা ভেবে আমাদের পাশের ফ্ল্যাটেই মেরিনার থাকার ব্যবস্থা করি। তবে শোয়েবের সঙ্গে মেরিনার কোনো ধরনের সম্পর্ক ছিল না।’

ফিরোজ রশীদ বলেন, ‘রবিবার বিকালে আমি সংসদের অধিবেশনে ছিলাম। সন্ধ্যার পর আমার স্ত্রী আমাকে ফোন করে ঘটনার কথা জানায়। আমি দ্রুত বাসায় ফিরে মেরিনাকে হাসপাতালে নিয়ে যাই। শোয়েবের ড্রয়ার থেকে লাইসেন্সকৃত পিস্তল নিয়ে মেরিনা যখন নিজ ঘরে নিজের পেটে গুলি চালায় তখন সেই ঘরে শুধু আমার নাতনি ছিল, তাও নাতনি ছিল বাথরুমে। হাসপাতালে নেওয়ার পর মেরিনার বাবাও ছুটে আসে।’ তিনি জানান, মেরিনার চিকিৎসা চললেও সে ঠিকমতো ওষুধ সেবন করতো না।

ফিরোজ রশীদের পুত্র শোয়েব রশীদ জানান, মানসিক সমস্যার কারণে তার সাবেক স্ত্রী মেরিনাকে কয়েকবার হাসপাতালেও ভর্তি করা হয়েছিল। বিশিষ্ট মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মোহিত কামালের নিয়মিত রোগী ছিল মেরিনা। এক প্রশ্নের জবাবে শোয়েব জানান, ঘটনার দিন সকালে তিনি বাসা থেকে বেরিয়ে অফিসে যান। রাতে বাসায় ফিরে ঘটনা জানতে পারেন। শোয়েব-মেরিনার কন্যা কাজী নাফিসাও জানায়, সেও তার মাকে ওষুধ খেতে বলতো,কিন্তু মা কোনো কথা শুনতেন না। নাফিসা আরো জানায়, ওইসময় তার দাদী (ফিরোজ রশীদের স্ত্রী) ও কয়েকজন গৃহপরিচারিকা ছাড়া বাসায় আর কেউ ছিলেন না।

বিষেরবাঁশি.কম/ডেস্ক/মৌ দাস.

Categories: সারাদেশ

Leave A Reply

Your email address will not be published.