সোমবার ৭ শ্রাবণ, ১৪২৬ ২২ জুলাই, ২০১৯ সোমবার

তিন সড়কে রিকশা চলাচল বন্ধ মানে রিকশাচালকদের পেটে লাথি মারা

অনলাইন ডেস্ক: ঢাকায় রিকশা চলাচল বন্ধের প্রতিবাদে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে আন্দোলন নেমেছেন রিকশাচালক ও রিকশার মালিকগণ। গতকাল সোমবার সকাল ৮টা থেকে সাধারণ রিকশাচালক-মালিকরা ডিএনসিসি ও ডিএসসিসি’র বিভিন্ন এলাকায় সড়ক অবরাধ করে বিক্ষোভ সমাবেশ করেন । অবরোধের ফলে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ তিনটি সড়ক বন্ধ হয়ে যায়। ‘ঢাকা বৃহত্তর দক্ষিণ-উত্তর সিটি কর্পোরেশন অনুমোদিত রিকশা- মালিক নিবন্ধিত ছয়টি সংগঠনের সমন্বয় পরিষদ’ ব্যানারে হাজার হাজার রিকশা শ্রমিক ও মালিক মুগদা, মানিকনগর, মান্ডাসহ বেশ কয়েকটি স্থানে সড়কে বসে পড়ে বিক্ষোভ সমাবেশ করে। এতে সকাল ৮ টা থেকে দুপুর ২ টা পর্যন্ত এই সড়কে সকল ধরনের গাড়ি চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে সাধারণ জনগণ ও পথচারীরা দুর্ভোগে পড়েন। অনেকে বাস ও রিকশা না পেয়ে হেঁটে কর্মস্থলে গিয়েছেন।

জানা গেছে, গতকাল বেলা দেড়টায় ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের স্থানীয় কয়েকজন ওয়ার্ড কাউন্সিলর শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলেল। তারা বিষয়টি ডিএনসিসি মেয়র আতিকুল ইসলামের সঙ্গে আলোচনা করে সমাধান করবেন বলে আশ্বাস দেন। পরে দুপুর ২ টার দিকে রিকশাচালক ও মালিকরা তাদের আন্দোলন স্থগিত ঘোষণা করে সড়ক অবরোধ প্রত্যাহার করে নেয়।

রিকশাচালদের ঘোষণা অনুযায়ী আজ মঙ্গলবারের মধ্যে এ বিষয় সুরাহা না হলে তারা আবারও আন্দোলনে নামবেন।
অবরোধে অংশ নেয়া তরুন খাঁ নামের একজন রিকশাচালক বলেন, ৫ বছর ধরে এই সড়কে রিকশা চালিয়ে ৫ জনের সংসার চালান। এখন সরকার ঘোষণা দিছে প্রধান ৩ টি বড় সড়কে রিকশা চালাতে দিবে না। তাহলে রিকশা কি শুধু গলি দিয়াই চালামু। বড় রাস্তায় গেলেই পুলিশ,আনসার ফিরাইয়া দেয়। তাহলে আমরা কই রিকশা চালামু? বড় সড়কে আমাদের রিকশা চালাইতে দেন। গরীবের পেটে লাথি দিয়েন না।

গত ৩ জুলাই ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) নগর ভবন ঢাকা ট্রান্সপোর্ট কন্ট্রোল অথরিটি’র (ডিটিসিএ) এক বৈঠকে গাবতলী থেকে আসাদগেট, আজিমপুর ও সায়েন্স ল্যাব থেকে শাহবাগ পর্যন্ত, কুড়িল বিশ্বরোড থেকে রামপুরা, খিলগাঁও-সায়দাবাদ পর্যন্ত রিকশাসহ অন্যান্য অবৈধ ও অননুমোদিত যানবাহন চলাচল নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত হয়।

ঢাকা জেলা সিএনজি অটোরিকশা ও মিশু শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন দুলাল বলেন, ‘আমরাও রিকশাচালক ও মালিকদের এই আন্দোলনের সঙ্গে একমত পোষণ করছি। রিকশা শ্রমিকদের বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা না করে দিয়ে তাদেরকে মূল সড়কে চলাচল বন্ধ করা মানেই তাদের পেটে লাথি মারা। জাতীয় রিকশা ভ্যান শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক ইনসুর আলী গনমাধ্যমকে বলেন, যারা আন্দোলন করছেন, তারা সাধারণ রিকশাশ্রমিক ও মালিক। রিকশা তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হবে আত্মঘাতী। আমরা চাই এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার হোক। এ ব্যাপারে আমরা ইউনিয়নের পক্ষ থেকে ১১ জুলাই প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দেব।

বিষেরবাঁশি.কম/ডেস্ক/মৌ দাস.

Categories: সারাদেশ

Leave A Reply

Your email address will not be published.