সোমবার ৭ শ্রাবণ, ১৪২৬ ২২ জুলাই, ২০১৯ সোমবার

সিদ্ধিরগঞ্জে দেহব্যবসায়ী হেলেনা বেগম গ্রেফতার: ১৬বছরের তরুনী উদ্ধার

ওয়েব ডেস্ক: গার্মেন্টসে চাকুরী দেওয়ার কথা বলে সিদ্ধিরগঞ্জের আদমজী ইপিজেডের সামনে থেকে ১৬ বছরের এক তরুনীকে অপহরণ করা হয়।পরে তাকে ধর্ষণ ও দেহব্যবসায় বাধ্য করার অভিযোগে ভিকটিমের দুলাভাই সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় ৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে।৯’দিন পর গত বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানী ঢাকার মুগদা এলাকা থেকে ভিকটিমকে উদ্ধারসহ দেহব্যবসায়ী হেলেনা বেগমকে গ্রেফতার করে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশ।

এ ঘটনায় রাতেই ভিকটিমের দুলাভাই আলমগীর বাদী হয়ে একটি অপহরন, ধর্ষনসহ নিজেদের হেফাজতে রেখে পতিতাবৃত্তি অভিযোগে থানায় মামলা করে। গতকাল শুক্রবার দুপুরে গ্রেফতারকৃত আসামি হেলেনাকে পুলিশ ৭ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে প্রেরণ করে।

মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ২৫’জুন সকাল ৭’টায় আদমজী ইপিজেডের সামনে থেকে গার্মেন্টসে চাকুরী দেওয়ার কথা বলে পলাতক আসামি মনির ও হোসেন জামাল ফুসলিয়ে বাদীর শ্যালিকাকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। এরপর থেকে আর ওই তরুনী বাসায় ফিরেনি। মনিরেরও খোঁজ পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে ভিকটিমের দুলাভাই আলমগীর গত ২৮ জুন সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করে।

জিডির সূত্র ধরে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক শামীম হোসেন গত বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানী ঢাকার মুগদা থানার মদিনাবাগ এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৩৮/ক আবদুল জব্বারের বাড়ীর ভাড়াটিয়া হেলেনা বেগমের বাসা থেকে অপহৃত তরুনীকে উদ্ধার করেন।

পরে উদ্ধারকৃত তরুনী পুলিশকে জানায়, তাকে অপহরণ করার পর হেলেনার বাসায় আটকে রেখে প্রথমে মনির তাকে ধর্ষণ করে। পরে আরো কয়েক জন দফায় দফায় তাকে ধর্ষণ করে। ধর্ষণের পর মনির তরুনীকে দেহব্যবসায়ী হেলেনার কাছে রেখে পতিতাবৃত্তিতে বাধ্য করিয়েছে। হেলেনা বেগম একজন দেহব্যবসায়ী।

এ ঘটনায় ওই তরুনীর ভগ্নিপতি বাদী হয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন। অভিযুক্ত আসামিরা হলো, পিরোজপুর জেলার মঠবাড়ীয়া থানার উত্তর মিঠাখালী এলাকার বাবুল সরদারের স্ত্রী হেলেনা বেগম, বরগুনা জেলা সদরের নলটোনা এলাকার ইউসুফের ছেলে মনির হোসেন জামাল এবং তাদের সহযোগী নানা কারফু, পনির, নাঈম, ইমন, মাজহারুল ও দেবাাশীষ

এ বিষয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শামীম হোসেন জানান, ভিকটিমকে অপহরণ করে ধর্ষণ ও পতিতাবৃত্তিতে বাধ্য করার অভিযোগে ৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত আসামি হেলেনাকে ৭ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেফতার করার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। তিনি আরো জানান, গ্রেফতারকৃত হেলেনা বেগমসহ পলাতক আসামীরা একটি অপহরণকারী চক্র। প্রাথমিকভাবে গ্রেফতারকৃত আসামী হেলেনা বেগম স্বীকার করে তাদের এই চক্রটি চাকুরীপ্রার্থী মেয়েদের কৌশলে অপহরণ করে নিজেদের হেফাজতে রেখে পতিতাবৃত্তি করায়।

বিষেরবাঁশি.কম/ডেস্ক/মৌ দাস.

Categories: অপরাধ ও দুর্নীতি,নারায়ণগঞ্জের খবর

Leave A Reply

Your email address will not be published.