সোমবার ৭ শ্রাবণ, ১৪২৬ ২২ জুলাই, ২০১৯ সোমবার

হরতালের সমর্থনে বাম গণতান্ত্রিক জোটের পথসভা

অনলাইন ডেস্ক: বাম গণতান্ত্রিক জোটের উদ্যোগে গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রতিবাদে দেশব্যাপী হরতালের সমর্থনে নারায়ণগঞ্জ জেলা সদর, ফতুল্লা, সিদ্ধিরগঞ্জ থানার বিভিন্ন এলাকায় পথসভা করেছে। বৃহস্পতিবার (৪ জুলাই) সকাল ১০টা থেকে দিনব্যাপী পিকআপ ভ্যানযোগে ২নং রেলগেইট, বিসিক, পঞ্চবটি মোড়, ফতুল্লা বাজার, আলীগঞ্জ, জালকুড়ি, শিবু মার্কেট, হাজীগঞ্জ, চৌধুরীবাড়ি, সিদ্ধিরগঞ্জ হয়ে ঢাকা চট্রগ্রাম মহাসড়ক সহ ও শহরের কালিরবাজার, নিতাইগঞ্জে পথসভা অনুষ্ঠিত হয়। বাম গণতান্ত্রিক জোট ও বাসদ নারায়ণগঞ্জ জেলা সমম্বয়ক নিখিল দাসের সভাপতিত্বে পথসভাগুলোতে বক্তব্য রাখেন গণসংহতি আন্দোলন নারায়ণগঞ্জ জেলার সমন্বয়ক তরিকুল সুজন, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক শিবনাথ চক্রবর্ত্তী, জেলা কমিটির সদস্য দুলাল সাহা, বাসদ নারায়ণগঞ্জ জেলা ফোরামের সদস্য সেলিম মাহমুদ, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারন সম্পাদক আবু হাসান টিপু, এমএ মিল্টন, হাসনাত কবীর, মৈত্রী ঘোষ, জাহিদ হোসেন, রুহুল আমিন সোহাগ। গণসংহতি আন্দোলন নারায়ণগঞ্জ জেলার সমন্বয়ক তরিকুল সুজন বলেন, ১০ বছরে সপ্তমবারের মতো গ্যাসের দাম বাড়িয়েছে সরকার। ঠিক যখন বিশ্ববাজারে গ্যাসের দাম কমেছে শতকরা ৫০ ভাগ, যখন ভারত তাদের ভোক্তাদের জন্য গ্যাসের দাম কমিয়েছে ১০১ রুপি, তখন আমরা অবিশ্বাস্য হারে (গড়ে ৪৬.৭৫ শতাংশ) দাম বাড়াচ্ছি। গ্যাসের বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) বিদ্যুৎ, সার, শিল্প, চা–বাগান, ক্যাপটিভ পাওয়ারসহ সব শিল্প ও বাণিজ্যিক খাতের গ্যাস ব্যবহার, সিএনজি এবং গৃহস্থালি পর্যায় মিলে সব ধরনের গ্যাস ব্যবহারকে অতি উচ্চ মূল্যবৃদ্ধির আওতায় এনেছে। গড় হিসাবে প্রাথমিক ও মৌলিক জ্বালানি গ্যাসের দাম গড়ে ৩২ দশমিক ৮ শতাংশ বাড়ছে। এক অর্থবছরেই প্রাথমিক জ্বালানি হিসেবে গ্যাস ব্যবহার করা বিদ্যুৎ খাতের গ্যাসের দাম বাড়বে ৪১ শতাংশ, আর ক্যাপটিভ পাওয়ারের গ্যাসে দাম বাড়বে ৪৪ শতাংশ। দেশের কৃষক যেখানে উচ্চ উৎপাদন খরচের বিপরীতে অসহনীয় মূল্য বিপর্যয়ে পড়ছেন, সেখানে সার উৎপাদনের ব্যবহৃত গ্যাসের দাম বাড়ানো হয়েছে সর্বোচ্চ ৬৪ শতাংশ। গ্যাস খাতের দুর্নীতিযুক্ত ব্যবস্থাপনা ঠিক না করে, নতুন উৎপাদনে না গিয়ে, সরবরাহ ও বিতরণব্যবস্থা (পাইপ লাইন) ঠিক না করে, গ্যাস চুরির সমস্যা সমাধান না করে শুধু দাম বাড়িয়ে এই খাত টেকসই করা যাবে না। ২০১৫ ও ২০১৭ সালেও বিভিন্ন স্তরে গ্যাসের দাম বাড়ানো হয়েছিল, তারপরও আন্তর্জাতিক বাজারে আমদানি মূল্য কমার পরেও চুরি, সিস্টেম লস, ভর্তুকি কমছে না। মূলত, দুর্নীতি পরায়ণতা, ব্যবস্থাপনায় অদূরদর্শিতা, বিতরণে নৈরাজ্য, গ্যাস চুরি ও অবৈধ সংযোগ, সরবরাহ লাইন থেকেই অবৈধ বিতরণ, ১২ শতাংশ সিস্টেম লস, অন্যায্য মিটারিং, এলএনজি আমদানির খরচ বাড়িয়ে দেখানো, এলএনজি ও গ্যাস পাইপ লাইনের প্রকল্পে ধীরতা। এসবের দায় কেন জনগণ নেবে? “সরকারের মূল এজেন্ডা হচ্ছে যে গ্যাস সঙ্কটকে একটি অজুহাত হিসেবে তৈরি করে একদিকে এলএনজি বা এলপি গ্যাসের ব্যবসা অন্যদিকে, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের যৌক্তিকতা তৈরি করা।” আরো বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ বলেন, সরকার সম্পূর্ণ অযৌক্তিকভাবে জনমত উপেক্ষা করে দুর্নীতিবাজ, লুটপাটকারীদের স্বার্থে গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি করেছে। সরকারের ভুলনীতি, দুর্নীতি ও লুটপাটের দায় জনগণ বহন করবে না। বিইআরসি একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। আইনে আছে গ্যাস ও বিদ্যুৎ কোম্পানিসমূহ লাভজনক অবস্থায় থাকলে কোন অবস্থায়ই দাম বাড়ানো যাবে না। কিন্তু বিইআরসি তার আইনি অবস্থান পরিহার করে জনগণের স্বার্থ না দেখে সরকারের দুর্নীতি, লুটপাট ও ভুলনীতির সমর্থনে কাজ করে চলেছে। গ্যাস কোম্পানিসমূহ লাভজনক অবস্থায় থাকার পরেও সরকারি নির্দেশে দাম বৃদ্ধির ঘোষণা দিয়েছে। তারা আরো বলেন, গ্যাস ব্যবহারকারী প্রতিটি ক্ষেত্রে গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি করেছে। গড়ে গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে ৩২.৮%। এই মূল্য বৃদ্ধিতে প্রত্যেকটি নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস, বাসাভাড়া, গাড়িভাড়া বৃদ্ধি পাবে। জনজীবনের ব্যায় বেশ বৃদ্ধি পাবে। বক্তারা অবিলম্বে গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির এই গণবিরোধী সিদ্ধান্ত বাতিলের জন্য জোর দাবি জানিয়েছেন। একই সাথে জনস্বার্থ উপেক্ষা করে গ্যাসের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে, সিলিন্ডার গ্যাসের দাম কমানোর দাবিতে এবং গণদুর্ভোগের বাজেটের প্রতিবাদে বাম গণতান্ত্রিক জোট আহুত আগামী ৭ জুলাই রবিবার দেশব্যাপী অর্ধদিবস (সকাল ৬টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত) হরতাল সফল করার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান ০জন প্রতারিত ভিকটিমকে উদ্ধার করেছে র‌্যাব-১১। এসময় সময় প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত বিপুল পরিমান নথিপত্র জব্দ করা হয়।

এর আগে বিভিন্ন এমএলএল কোম্পানী প্রতারণার মাধ্যমে দেশের সাধারণ জনগণের কাছে থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করেছে বলে যানা যায়। পরবর্তীতে সরকার বিভিন্ন এমএলএম কোম্পানীর কার্যক্রম নিষিদ্ধ করেছিলো। কিন্তু বিভিন্ন এমএলএম কোম্পানী নানা পন্থায় এখনো প্রতারণা চালিয়ে যাচ্ছে এবং বেকার যুব সমাজকে চাকুরীর প্রলোভন দেখিয়ে বিপুল পরিমান অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। র‌্যাব জানায়, প্রতারিত ও ভূক্তভোগী কয়েক জনের কাছ থেকে প্রাপ্ত অভিযোগের প্রেক্ষিতে এবং অনুসন্ধানে প্রাপ্ত অভিযোগের সত্যতার ভিত্তিতে র‌্যাব-১১ একটি আভিযানিক দল গাজীপুরের টঙ্গী থানার মধুমিতা রোড থেকে “লাইফওয়ে বাংলাদেশ প্রাইভেট লিমিটেড” নামের এমএলএম কোম্পানীতে অভিযান পরিচালনা করে প্রতারকচক্রের ৩২ জন সদস্যকে গ্রেফতার করে।

গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে কোম্পানীর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ নাছির হায়দান খান(৫৫), পরিচালক মোঃ আলতাফ হোসেন(৪৫), পরিচালক/শিক্ষক মোঃ আবু নছর(৫০) মার্কেটিং অফিসার মোঃ বাবুল হোসেন(৩১), ম্যানেজার মোঃ লুৎফর রহমান(৪০), মার্কেটিং মোঃ সেলিম রেজা(৩২), প্রশিক্ষক মোঃ জালাল আহম্মদ(৪০), অফিস সহকারী মোঃ শাহীন(২৪), মোঃ সিরাজ(২৫), ডিস্ট্রিবিউটর মোঃ সাজ্জাদ(২২), মোঃ মামুন খন্দকার(৩৪), মোঃ সাকিল(৩০), মোঃ নাজমুল হক(২৪), শ্রী পলাশ সরকার(২৪), মোঃ মাসুদ রানা(২২), মোঃ তালহা(২৪), মোঃ ছাইদুর(২২), মোঃ আঃ রহমান(২৪), জেভিয়ার জেংচাম(২৩), মোঃ সাকিব(২৩), এ্যালবিন(২১), মোঃ রহিম বাদশা(২১), বাপন(২৫), মোঃ রুবেল হোসেন(২৭), শিপন রায়(৩২), মোঃ আমিনুর রহমান(২৫), মোঃ তাছলিম উদ্দিন(২৯), মোঃ জাহিদুল ইসলাম(২২), মোঃ শওকত হোসেন(২১), মোঃ আরাফাত(২০), মোঃ আনোয়ার হোসেন(২৪) এবং মোঃ নাজমুল হক(২৬) রয়েছে।

র‌্যাব আরো জানায়, আসামীদের জিজ্ঞাসাবাদে ও জব্দকৃত নথিপত্র পর্যালোচনা করে জানা যায় যে, “লাইফওয়ে বাংলাদেশ প্রাইভেট লিমিটেড” নামক ভুয়া এমএলএম কোম্পানী মাসিক ১৬ হাজার ও তার উপরে টাকা বেতনের প্রতিশ্র“তিসহ লোভনীয় অফার দিয়ে পত্রিকায় বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে চাকুরী প্রত্যাশী বেকার যুবক-যুবতীদের ফাঁদে ফেলে। ভর্তির শুরুতে কোম্পানীর আর্থিক লাভ ও পণ্য বিক্রির কমিশনের আশ¡াসে বাধ্যতামূলক জামানত হিসাবে জন-প্রতি ৫৫ হাজার বা তারও বেশী টাকা গ্রহন করে। পরবর্তীতে প্রশিক্ষনের নামে সপ্তাহ খানেক কালক্ষেপন করে প্রত্যেককে নতুন ০২ জন সদস্য সংগ্রহের শর্ত প্রদান করে। নতুন সদস্য সংগ্রহ করে দিলে সংগৃহীত টাকার সামান্য কমিশন প্রদান করে। নতুন সদস্য দিতে না পারলে কুট-কৌশলের আশ্রয় নিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে খালি ষ্ট্যাম্প ও আপোষনামায় জোরপূর্বক স্বাক্ষর নিয়ে তাড়িয়ে দেয়। প্রতিবাদ করলে ভাড়াটিয়া লোকজন দ্বারা আটকে রেখে শারীরিক নির্যাতনও করে থাকে। অভিযানের সময় ভুয়া এমএলএম কোম্পানীর সু-সজ্জিত অফিস থেকে প্রতারণার শিকার ৭০ জন ভূক্তভোগীদের উদ্ধার করা হয়। এছাড়াও উক্ত কোম্পানীর অফিস থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত ৪০টি মোবাইল, ০১টি কম্পিউটারের মনিটর, ০১টি সিপিইউ, ০১টি প্রিন্টার এবং বিপুল পরিমাণ ভুয়া ডকুমেন্ট (ভর্তি ফরম, নিয়ম ও শর্তবলী ফরম, পন্য ক্রয়ের ভাউচার, আপোষ নামা, অঙ্গীকারনামা, সাপ্তাহিক হিসাব রেজিষ্টার, স্পনসর নোট রেজিষ্টার, টাকা জমার রশিদ, ষ্ট্যাম্প, হাজিরা বই ও পণ্য সরবরাহের চুক্তিপত্র) উদ্ধার করা হয়। র‌্যাব জানায় গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

বিষেরবাঁশি.কম/ডেস্ক/মৌ দাস.

Categories: অপরাধ ও দুর্নীতি,নারায়ণগঞ্জের খবর

Leave A Reply

Your email address will not be published.