বুধবার ৫ আষাঢ়, ১৪২৬ ১৯ জুন, ২০১৯ বুধবার

ঐতিহাসিক নান্দনিক আলিগঞ্জ খেলার মাঠটি রক্ষার দাবিতে আন্দোলন চলছে প্রতিনিয়ত।

বিষেরবাঁশী ডেস্ক: ঐতিহাসিক পুরনো ফতুল্লার আলীগঞ্জ বাসীর প্রাণের স্পন্দন আলীগঞ্জ খেলার মাঠ।অত্র এলাকার লক্ষাদীক মানুষের প্রানের দাবি যেকোন মুল্যে মাঠটি রক্ষা করতে হবে। নান্দনিক অপার সৌন্দর্য নিয়ে বুড়িগঙ্গা নদীর তীর ঘেসে গড়ে ওঠা মাঠটি।এই মাটিতে দেশ-বিদেশের একসময়ের কিংবদন্তি খেলোয়াড়রাও এই মাঠে খেলে খেলাধুলা করেছে। বিগত তিন দশক ধরে বিভিন্ন টুর্নামেন্ট খেলা হয়ে আসছে। একটি মহল মাটিকে দখল এবং ধ্বংস করতে উঠে পড়ে লেগেছে।

সরকারি কর্মকর্তাদের আবাসন প্রকল্পের ভবন নিমার্ণের জন্য নির্ধারিত স্থান নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার আলীগঞ্জে খেলার মাঠে উচ্ছেদ করতে এসে স্থানীয় এলাকাবাসি ও ছাত্রছাত্রীদের বাধার মুখে উচ্ছেদ না করেই ফিরে গেছে গর্ণপূত বিভাগ। কাজগপত্র যাচাই বাছাই শেষে সাত দিনের সময় দিয়েছেন। নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসনের নিবার্হী ম্যাজিষ্ট্রেট রিজওয়ান আহমেদ নের্তৃত্বে রবিবার দুপুরে বিপুল সংখ্যক RAB, পুলিশ সদস্য নিয়ে উচ্ছেদ করতে গিয়ে বাধার মুখে ফিরে যান। এলাকাবাসী ও বিভিন্ন স্কুল মাদ্রসারা শিক্ষার্থীরা খেলার মাঠে প্রবেশে মুখে বাধা দেয়। মাঠ রক্ষার দাবিতে তারা ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ পুরাতন সড়কে টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে অবরোধ সৃষ্টি করে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।

স্থানীয় ক্রীড়া প্রতিষ্ঠান আলীগঞ্জ ক্লাবের সভাপতি আলহাজ্ব কাউসার আহমেদ পলাশ বলেন, জেলা পরিষদ থেকে লীজকৃত জায়াগাটি কয়েক যুগ ধরে খেলার মাঠ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এই মাঠকে শেখ রাসেলের নামে মিনি স্টেডিয়াম হিসেবে গড়ে তুলতে সরকারের কাছে দাবী জানান তিনি। এই মাঠ না থাকলে স্থানীয় যুবসমাজ মাদকের প্রতি আসক্ত হয়ে পড়বে বলে তিনি আশংকা প্রকাশ করেন।

নারায়ণগঞ্জ গণর্পূত বিভাগের নিবার্হী প্রকৌশলে জাকির হোসেন বলেন, প্রধানসন্ত্রীর একনেকে সভায় অনুমোদিত অগ্রাধিকার প্রকল্প অনুযায়ী সরকারি কর্মচারীদের আবাসান প্রকল্প নির্মাণ করার জন্য গর্ণপূত বিভাগ ১১ দশমিক ৬৭ একর জায়গা অধিগ্রহন করে ভবন নির্মান কাজ শুরু করে। কিন্তু এখানে খেলার মাঠের দাবিতে স্থানীয় লোকজন বেশ কিছুদিন ধরে মাঠ ও মাঠের আশেপাশের জায়গা অবৈধভাবে দখল করে রেখেছে। এই জায়গা দখলমুক্ত না হওয়ায় ভবন নির্মান কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না। তিনি জানান, এই প্রকল্পের আওতায় আড়াই একর জমির উপর একটি খেলার মাঠসহ প্রায় সাড়ে চার একর ভুমি সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। এলাকাবাসী এই বিষয়টি অবগত ছিলেন না। বিষয়টি তাদেরকে অবগত করে এই জায়াগার দখল ছেড়ে দিতে এক সপ্তাহ সময় দেয়া হয়েছে।

জেলা প্রশাসনের নির্বাহি ম্যাজিষ্ট্রেট জানান, স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল কয়েকটি সংস্থা থেকে লীজ এনে সরকারি আবাসন প্রকল্পের বেশ কিছু জায়াগা দখল করে রেখেছে। তাদেরকে সাত দিনের সময় দেয়া হয়েছে। সবার কাগজপত্র যাচাই বাছাই করে পরবর্তীতে ব্যবস্থা নেয়া হবে। নবীন এবং প্রবীণ খেলাধুলার প্রেমিকরা দাবি করেন সরকারের কাছে নান্দনিক এই মাটি রক্ষা করা হয়

বিষেরবাঁশী ডেস্ক/টিএস/হৃদয়

Categories: নারায়ণগঞ্জের খবর

Leave A Reply

Your email address will not be published.