শুক্রবার ১০ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৬ ২৪ মে, ২০১৯ শুক্রবার

”সাহা ফাউন্ডেশন” এর উদ্যোগে না’গঞ্জে উপেক্ষিত ‘দানবীর রণদা প্রসাদ সাহা’র অবদান নিয়ে সেমিনার করার প্রস্তাব”

নিউজ২৪.ওয়েবসাইটঃ নারায়ণগঞ্জের বরেণ্য বুদ্ধিজীবী,সাংবাদিক ও নারায়ণগঞ্জ কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ রূমন রেজার অনুরোধ: “সাহা ফাউন্ডেশন” এর উদ্যোগে নারায়ণগঞ্জে শিক্ষা ও সাস্থসেবায় দানবীর রণদা প্রসাদ সাহার অসামান্য অবদানের উপযুক্ত স্বীকৃতি দানের ব্যাপারে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি,আমলা ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করা হোক।

Image may contain: sky and outdoor১৯৩৭ সালে প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ খগেন্দ্র নাথ চক্রবর্তী নারায়ণগঞ্জে তোলারাম কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠালগ্নেই রণদা প্রসাদ সাহা প্রতিষ্ঠাতা খগেন্দ্র নাথ চক্রবর্তীর হাতে নগদ ২৫ হাজার টাকা তুলে দেন। প্রতিষ্ঠার কিছুদিন পর তৎকালীন পাট ব্যবসায়ী তোলারাম বসরাজের ছেলে ‘মদন লাল সারোগীও’ কলেজ প্রতিষ্ঠার মহান কাজে ২৫ হাজার টাকা দান করেন। টাকাগুলো হাতে পেয়ে মহান জ্ঞানতাপস নগেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী আরো উদ্দমী হয়ে গড়ে তোলন আরো একটি ‘নারায়ণগঞ্জ উইমেন্স কলেজ’। তখনি শুরু হয় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ। বন্ধ হয়ে যায় কলেজ। মৃত্যু ঘটে নগেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর স্বপ্নের।

“দমে যান নি খগেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী”
———————————————-
যুদ্ধোত্তর কালে দৃঢ়চেতা ক্ষণজন্মা শিক্ষাবিদ খদেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী কলেজ পুনপ্রতিষ্ঠায় আবারো মনোযোগী হন। পাশে পান সেই পাট ব্যবসায়ী শিক্ষানুরাগী ‘তোলারাম বসরাজ’কে। তিনি কলেজের নির্মাণ কাজের জন্য দান করেন নগদ ১ লক্ষ টাকা। এই দাতার নামানুসারে ১৯৪৮ সালে নামকরণ করা হয় ‘তোলারাম কলেজ’।
পরবর্তী কালে ১৯৬৩ সালে বর্তমান মূল বহুতল ভবনটি তৈরির পর দানবীর রণদা প্রসাদ সাহার ১লাখ ৫০ হাজার টাকার অনুদানে তৈরী হয় “তোলারাম কলেজ বিজ্ঞান গবেষণাগার এবং ক্রয় করা হয় প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ।
১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযযুদ্ধে শহীদ হন এই মহান দানবীর রণদা প্রসাদ সাহা ও তাঁর জ্যাষ্ঠ পুত্র ভবানী প্রসাদ সাহা (রবি)।

*দুঃখের বিষয়: আমি নিজেও তোলারাম কলেজের শিক্ষার্থী ছিলাম। আমার জানা ছিল না তোলারাম কলেজে স্বর্গীয় রণদা প্রসাদ সাহার এই অসামান্য অবদানের ইতিহাস।
শিক্ষানুরাগী ক্ষণজন্মা রণদা প্রসাদ সাহা ও প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ স্বর্গীয় নগেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর অবদান সম্পর্কে তোলারাম কলেজের শিক্ষার্থীরা অনেকেই অন্ধকারে!
উল্লেখ্য,প্রায় ৭ বছর আগে ‘নারায়ণগঞ্জ মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ ঊর্মিলা রায়ের অনুরোধে ও তোলারাম কলেজের সহকারী অধ্যাপক জীবন কৃষ্ণ মোদকের অনুরোধে অধ্যক্ষ খগেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর দু’টি করে ৪ টি ছবি বড় করে বাঁধিয়ে হস্তান্তর করি। এর আগে প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ খদেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর কোন ছবি পর্যন্ত ছিল না সেখানে। অনেক চেষ্টা করেও ‘তোলারাম বসরাজের’ ছবি সংগ্রহ করতে পারিনি। এই মহান দাতার ছবি তোলারাম কলেজের কেউ দেখেছেন বলে জানা নেই!

*ট্রেজেডি – ২*
নারায়ণগঞ্জ ৩০০ সজ্জা বিশিষ্ট হাসপাতাল নির্মাণে প্রায় ৩ একর জায়গা দান করা হয়েছে দানবীর রণদা প্রসাদ সাহার প্রতিষ্ঠিত ‘কুমুদিনী ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের’ পক্ষ থেকে। দুঃখের বিষয়, এই হাসপাতালের কোথাও রণদা প্রসাদ সাহার নামগন্ধও খোঁজে পাওয়া যায় না! এই সব দানবীরদের অবদান জনসমক্ষে তুলে ধরা সময়ের দাবী।
নারায়ণগঞ্জ কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ রূমন রেজার প্রস্তাব অনুসারে “সাহা ফাউন্ডেশন” অবশ্যই যথাসময়ে এমন একটি সার্বজনীন অর্থবহ গোলটেবিল বৈঠক অথবা সেমিনার করার উদ্যোগ গ্রহণ করতে সচেষ্ট হবে বলে আশা রাখি।।

(লেখকঃ সুভাষসাহা, সম্পাদক, নিউজ২৪ডটওয়েবসাইট ও বিষোরবাঁশীডটকম)

নিউজ২৪ ডেস্ক/সংবাদদাতা/হৃদয়

Categories: খোলা বাতায়ন,জাতীয়,নারায়ণগঞ্জের খবর

Leave A Reply

Your email address will not be published.