শুক্রবার ১০ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৬ ২৪ মে, ২০১৯ শুক্রবার

আমরণ অনশনে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা

অনলাইন ডেস্ক: উপাচার্যের পদত্যাগ দাবিতে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা আমরণ অনশন কর্মসূচি শুরু করেছেন। আজ বুধবার থেকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা এ অনশন শুরু করেন।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি শফিকুল ইসলাম আজ সকাল ১০টার দিকে এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, ‘উপাচার্যের পদত্যাগ দাবিতে এই কর্মসূচি দেওয়া ছাড়া আমাদের আর উপায় ছিল না। আমাদের কর্মসূচিতে কয়েকজন শিক্ষকও অংশ নেবেন বলে জানিয়েছেন।’

উপাচার্যের পদত্যাগ দাবিতে শিক্ষার্থীরা গত ২৬ মার্চ থেকে আন্দোলন করছেন। এই আন্দোলনে একাত্মতা ঘোষণা করেছে শিক্ষক সমিতির একাংশ। সরকারি ছুটি ও শবে বরাতের জন্য দুদিন কর্মসূচি স্থগিত থাকার পর গতকাল সকাল থেকে উপাচার্যের পদত্যাগ দাবিতে আবারও আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে শিক্ষক সমিতির একাংশও এই কর্মসূচিতে অংশ নেয়। গতকাল তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের নিচতলায় অবস্থান ও গণস্বাক্ষর কর্মসূচি পালন করেন।

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এস এম ইমামুল হক গত রোববার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে শিক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত না হওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম ও নিজেদের শিক্ষাজীবনের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে তাদের একাডেমিক কার্যক্রমে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। তবে উপাচার্যের লিখিত বিবৃতি এবং আহ্বানকে প্রত্যাখ্যান করেছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। পাশাপাশি এ আবেদনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে চাওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন তারা।

প্রসঙ্গত গত ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বরিশাল নগরের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের জন্য আয়োজিত চা-চক্র অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের প্রবেশাধিকার না দেওয়ার প্রতিবাদে ওই দিন সকাল থেকেই আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। এর পরিপ্রেক্ষিতে উপাচার্য ওই অনুষ্ঠান বাতিল করতে বাধ্য হন। পরে দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি বিতর্ক প্রতিযোগিতায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় উপাচার্য এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করার একপর্যায়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ‘রাজাকারের বাচ্চা’ মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ ওঠে।

এর প্রতিবাদে ২৭ মার্চ থেকে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করেন শিক্ষার্থীরা। ২৮ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ও শিক্ষার্থীদের হল ত্যাগের নির্দেশ দেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ২৯ মার্চ উপাচার্য তাঁর মন্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করে বিজ্ঞপ্তি দেন। তবে তা প্রত্যাখ্যান করে তাঁর পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত রাখেন শিক্ষার্থীরা। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ৬ এপ্রিল রাজনৈতিক নেতা, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও শিক্ষার্থী প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি সমঝোতা বৈঠকে হলেও আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা ওই দিনই তা প্রত্যাখ্যান করে উপাচার্যের পদত্যাগ দাবির আন্দোলনে অনড় থাকেন।

উল্লেখ্য, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এস এম ইমামুল হকের চার বছরের মেয়াদ শেষ হবে আগামী ২৭ মে।

 

বিষেরবাঁশী.কম/ডেস্ক/নিঃতঃ

Categories: সারাদেশ

Leave A Reply

Your email address will not be published.