শুক্রবার ১০ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৬ ২৪ মে, ২০১৯ শুক্রবার

অভিযান অব্যাহত থাকুক

বিষেরবাঁশী ডেস্ক: মাঝপথে এসে থমকে দাঁড়িয়ে গেছে। কিন্তু এমনটা হওয়ার কথা ছিল না। কথা ছিল পুরান ঢাকা থেকে রাসায়নিক কারখানা, গুদাম এবং সংশ্লিষ্ট সব কিছুই সরিয়ে নেওয়া হবে। আগুনের লঙ্কাকান্ড থেকে নিশ্চিত নিরাপত্তা দেওয়া হবে পুরান ঢাকায় বসবাসকারী সব নাগরিককে। কার্যক্রম শুরুও হয়েছিল। কিন্তু হঠাৎ করেই যেন মাঝপথে এসে থেমে গেল সেই কার্যক্রম। এ নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে। সরে যাওয়ার আশঙ্কা যেন আবার নতুন করে ভর করেছে তাদের মনোজগতে। আতঙ্কিতরা বলছে, অতীতের মতো এ কার্যক্রম কি অতীতের ঐতিহ্য রক্ষা করে হিমাগারে প্রবেশ করল!

পুরান ঢাকার চুড়িহাট্টায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন অনেকটা দ্রুতগতিতে এবং ঢাকঢোল পিটিয়ে কেমিক্যাল কারখানা এবং গোডাউন সরানোর অভিযানে নামে। পাঁচটি টিমের সমন্বয়ে গঠিত বিশেষ টাস্কফোর্স অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন গোডাউন এবং কারখানা সিলগালা করে। কারখানা এবং গোডাউনের বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে। একপর্যায়ে কারখানা এবং গোডাউন মালিকদের বাধার সম্মুখীন হয় ওই টিম। অতঃপর কার্যক্রমের গতিতে ভাটা পড়ে। অভিযানও ঝিমিয়ে পড়ে।

২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে চলা এ অভিযান ১ এপ্রিল সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়। এর মাঝে দুই সপ্তাহের বেশি সময় পার হয়েছে। নতুন করে অভিযানের কোনো গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে না। তবে বিপরীতমুখী সংবাদ আসতে শুরু করেছে। আর সে সংবাদটি হলো, আগের চেহারায় ফিরে যাচ্ছে পুরান ঢাকা। কেমিক্যাল গোডাউনের বেচা-কেনা শুরু হয়েছে নতুন করে। তথ্য মতে, টাস্কফোর্সের ৩৩ দিনের অভিযানে ১৭০টি কেমিক্যাল গোডাউন সিলগালা করা হয়। আবাসিক এলাকার এসব কেমিক্যাল গোডাউনের কয়েকটি থেকে মালামাল অন্যত্র সরিয়েও নেওয়া হয়। বাকিগুলো সিলগালা অবস্থায় সেখানেই রয়েছে।

তথ্যমতে, পুরান ঢাকাতে শুধু ট্রেড লাইসেন্সপ্রাপ্ত কেমিক্যাল গোডাউনের সংখ্যা আড়াই হাজার। এর বাইরে কোনো ধরনের বৈধ কাগজপত্র ছাড়া গোডাউনের সংখ্যা ১০ সহস্রাধিক। ঠিক এ রকম একটা পরিস্থিতিতে এ কার্যক্রম আবার কবে শুরু হবে, কিংবা আদৌ শুরু হবে কি না; সে সম্পর্কে কোনো সিদ্ধান্ত নেই। ফের শুরু করতে মেয়রের দিকে তাকিয়ে আছে টাস্কফোর্স। তবে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে বলা হয়, পরবর্তী অভিযান কীভাবে পরিচালিত হবে; সে বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়নি। সিটি মেয়র সব পরিসেবা প্রদান করা সংস্থাকে নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন। তবে এ সিদ্ধান্ত গ্রহণে কত দিন লাগতে পারে; সে সম্পর্কে কোনো মন্তব্য আসেনি।

আমরা মনে করি, বিষয়টিকে সরকার যথেষ্ট গুরুত্বের সঙ্গে আমলে নেওয়ায় কাজের শুরুটা ছিল চোখে পড়ার মতো। হঠাৎ করে তা স্থবির করার পেছনে কার বা কাদের ইচ্ছাকে, কে বা কারা ইন্ধন দিচ্ছেন; তা খতিয়ে দেখার সময় এসেছে। তাদের ইচ্ছাকে প্রাধান্য না দিয়ে সিটি করপোরেশন প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছাকেই প্রাধান্য দেবে বলেই আমাদের বিশ্বাস। আমরা আর ভয়াবহ কোনো অগ্নিকাণ্ডের মুখোমুখি হতে চাই না। কেমিক্যালের ভয়াবহ দাবদাহ থেকে পুরান ঢাকাবাসী মুক্তি পাবে—এটাই প্রত্যাশা।

বিষেরবাঁশী ডেস্ক/সংবাদদাতা/হৃদয়

Categories: খোলা বাতায়ন

Leave A Reply

Your email address will not be published.