সোমবার ১ আশ্বিন, ১৪২৬ ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ সোমবার

পুঁতে রাখা লাশের সাথে দশ দিন বসবাস ! পার্টনারসহ গ্রেফতার ৩

বিষেরবাঁশী ডেস্ক: ফতুল্লার ভোলাইলে ছিলো কামরুজ্জামান চৌধুরী ওরফে সেলিম চৌধুরী ও ব্যবসায়ীক পার্টনারদের ঝুটের গোডাউন। দীর্ঘদিন ধরে পার্টনারে ঝুটের ব্যবসা করে আসছিলেন তিনি। ব্যবসার সুবাধে পার্টনার মোহাম্মদ আলীর কাছ থেকে ২ লাখ টাকা পাওনা ছিলেন।

৩১ মার্চ ভোলাইলের ওই গোডাউনে পার্টনার মোহাম্মদ আলীর কাছ থেকে সেই পাওনা টাকা চাইতে যান কামরুজ্জামান ওরফে সেলিম চৌধুরী। কিন্তু পাওনা টাকা চাওয়ায় তার সাথে তর্কে জড়িয়ে পড়েন মোহাম্মদ আলী। একপর্যায়ে মোহাম্মদ আলী ও তার কর্মচারী ফয়সাল এবং ইউনুস পূর্ব পরিকল্পিত ভাবে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে এবং শ্বাসরোধ করে নির্মম ভাবে খুন করে সোহেল চৌধুরীকে। পরে লাশ গুমের লক্ষ্যে বস্তায় ভরে ওই গোডাউনের মাটিখুড়ে পুতে রাখা হয়। একই সাথে কেউ যেন কিছু বুঝতে না পারে সে জন্য মাটির উপর দেওয়া হয় সিমেন্টের আস্তরণ। এমনকি সেই লাশের উপর গত ৯ দিন ধরে হত্যাকারীরা চালিয়ে যাচ্ছিলেন নিজ ব্যবসা!

১০দিন আগে নিখোঁজ হওয়া ওই ব্যবসার স্ত্রী রেখা আক্তারের জিডির তদন্ত করতে গিয়ে কর্মচারী ফয়সালকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করে পুলিশ। তাকে জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসে ঘটনার মূল রহস্য।

মূলত ফয়সালের স্বীকারোক্তিতে বুধবার (১০ এপ্রিল) ভোলাইল মিস্টির দোকানের পাশে একটি ঝুটের গোডাউনের ভেতরে মাটিতে পুঁতে রাখা মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ।

এই ঘটনায় নিহত সেলিমের পার্টনার মোহাম্মদ আলী, কর্মচারী ফয়সাল ও ইউনুছকে গ্রেফতার দেখিয়েছে পুলিশ।

ফতুল্লা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মামুন আল আবেদ জানান, গত ৩১ মার্চ থেকে নিখোঁজ ছিলেন কামরুজ্জামান চৌধুরী ওরফে সেলিম চৌধুরী (৫২)। ওই ব্যবসায়ি নিখোঁজ হওয়ার পর তার স্ত্রী দায়ের করা জিডি তদন্ত চলছিল। বুধবার ভোলাইল মিষ্টির দোকান এলাকায় একটি গোডাউনে অভিযান চালিয়ে তার লাশটি মাটি খুঁড়ে উদ্ধার করা হয়।
তিনি জানান, রেখা আক্তারের জিডির সূত্র ধরে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ফয়সাল নামে একজনকে আটক করা হয়েছিলো। মূলত তার দেয়া স্বীকারোক্তিতে সেলিম চৌধুরীর লাশটি উদ্ধার করা হয়। ৩১ মার্চ রাতেই সেলিমকে হত্যা করে মাটিতে পুঁতে রাখা হয়েছিল বলে প্রাথমিক ভাবে নিশ্চিত হয়েছি।

ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশের অফিসার-ইন-চার্জ (ওসি) আসলাম হোসেন জানিয়েছেন, আটককৃত ফয়সালকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, গোডাউনটি সেলিম চৌধুরীসহ তার পার্টনার মোহাম্মদ আলীর তত্ত্বাবধানে ছিল। ৩১ মার্চ পার্টনার মোহাম্মদ আলীর কাছে পাওনা টাকা ফেরত চাইতে ভোলাইলের গোডাউনে আসেন সেলিম চৌধুরী। পরে টাকা নিয়ে বাগ-বিতন্ডায় সেলিম চৌধুরীকে গ্রেফতারকৃতরা অজ্ঞাতনামা আরো ৪/৫ জন মিলে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে এবং শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। পরবর্তীতে লাশ গুম করার লক্ষ্যে বস্তায় ভরে গোডাউনের ভেতরেই মাটিখুঁড়ে পুতে রাখা হয়। লাশ যাতে মাটিতে মিশে যায়, সেজন্য তারা লাশের পাশে চুন দিয়েছে। লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।

ফতুল্লার বক্তাবলী কানাইনগর এলাকার বাসিন্দা সেলিম চৌধুরী। তিনি গার্মেন্টের ঝুট ব্যবসা করতেন। পরিবার পরিজন নিয়ে ফতুল্লার শিবু মার্কেট এলাকায় ভাড়ায় বসবাস করতেন। এরমধ্যে ৩১ মার্চ সকালে বাসা থেকে বের হন। পরে এদিন বেলা ১১ টার দিকে সেলিম চৌধুরীর সাথে তার স্ত্রী রেখার সর্বশেষ কথা হয়। তখন সেলিম জানিয়েছিলেন তিনি পঞ্চবটির মোড়ে ইষ্টার্ন ব্যাঙ্কে রয়েছেন। এরপর একই দিন দুপুর ২টার দিকে খাবারের জন্য ফোন করা হলে সেলিম চৌধুরীর মুঠোফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

এ ঘটনার ৬ দিন পর ৬ এপ্রিল সেলিম চৌধুরী নিখোঁজ রয়েছেন দাবি করে তার স্ত্রী রেখা আক্তার বাদী হয়ে ফতুল্লা মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করেছিলেন। যার নং ১৩৯।

বিষেরবাঁশী ডেস্ক/সংবাদদাতা/হৃদয়

Categories: অপরাধ ও দুর্নীতি,নারায়ণগঞ্জের খবর

Leave A Reply

Your email address will not be published.