বুধবার ২ শ্রাবণ, ১৪২৬ ১৭ জুলাই, ২০১৯ বুধবার

চ্যাম্পিয়ন্স লিগ: আয়াক্সের কাছে হেরে বিদায় হ্যাটট্রিক চ্যাম্পিয়ন রিয়াল

 

শেষ পর্যন্ত রিয়ালের আমও গেলো ছালাও গেলো। পুরো ম্যাচে রামোসের না থাকাটা ভুগিয়েছে রিয়ালকে। আর সে সুযোগেই হ্যাটট্রিক চ্যাম্পিয়নদের হারিয়ে ২০০৬ সালের পর উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ আটে স্থান করে নিয়েছে নেদারল্যান্ডসের ক্লাব আয়াক্স আমস্টারডাম। ২০১০ সালের পর এই প্রথম শেষ ষোলো থেকে বিদায় নিল মাদ্রিদিস্তারা। ২০১০ সালের পর টানা আটবার সেমিফাইনালে উঠেছিল স্প্যানিশ জায়ান্ট রিয়াল।

মঙ্গলবার রাতে রিয়ালের মাঠ সান্তিয়াগো বার্নাব্যুয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ ষোলোর দ্বিতীয় লেগে চ্যাম্পিয়ন রিয়ালের মুখোমুখি হয় আয়াক্স। প্রথম লেগে নিজেদের মাঠে ২-১ গোলে হেরেছিল আয়াক্স। তাই কোয়ার্টারে যেতে বার্নাব্যুতে কমপক্ষে ২-০ গোলে জয়ের প্রয়োজন ছিল আয়াক্সের।

শেষ পর্যন্ত আয়াক্স রিয়ালকে নিয়ে এক প্রকার ছেলেখেলাই করলো বার্নাব্যুতে। এতে করে হ্যাটট্রিক চ্যাম্পিয়নরা বিদায় নিলো চ্যাম্পিয়নস লিগ থেকে। তাই এবারের মৌসুমে শিরোপাশূন্য থাকতে হচ্ছে রিয়ালকে। কারণ ইতোমধ্যে কোপা দেল রেতে বার্সেলোনার কাছে হেরে বিদায় নিয়েছে রিয়াল। আর লা লিগায় বার্সেলোনার সঙ্গে রিয়ালের পয়েন্ট পার্থক্য ১২। তাই শিরোপা দৌড়ে পিছিয়ে আছে বলাই চলে।

ম্যাচের শুরুতেই বার্নাব্যুতে শোকাবহ পরিবেশ সৃষ্টি করেন আয়াক্সের হাকিম জায়িচ। মাঝমাঠের কাছে টনি ক্রুসের দুর্বল ব্যাকপাস ডুসান তাডিচ নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ডিফেন্ডারদের পেছনে ফেলে ডি-বক্সে ঢুকে ছোট করে বাড়ান হাকিমকে। পেনাল্টি স্পটের কাছ থেকে কোনাকুনি শটে বল জালে পাঠান এই ডাচ মিডফিল্ডার।

গোল খেয়ে হতচকিত হয়ে পড়ে রিয়াল। কোনও কিছু বুঝে ওঠার আগেই ১৮তম মিনিটে আবারও গোল। এই গোলেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান ছিল সার্ব ফরোয়ার্ড তাডিচের। অবশ্য নিজেদের দায়ও এড়াতে পারবে না রিয়ালের খেলোয়াড়রা। কাসেমিরোকে কাটিয়ে তাডিচ অনেকটা এগিয়ে কোনাকুনি ডি-বক্সে বল বাড়ান। এসময় তাকে বাধা দিতে এগিয়ে আসেনি কেউই। বল ধরে এগিয়ে আসা গোলরক্ষক কোর্তোয়াকে কাটিয়ে লক্ষ্যভেদ করেন ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড নেরেস।

দুই গোলের লিড নিয়ে বিরতিতে যায় দুই দল। বিরতি থেকে ফিরে আগের দুই গোলের যোগানদাতা তাডিচ এবার নিজে গোল করেন। ৬২তম মিনিটে সতীর্থের পাস ডি-বক্সের মুখে পেয়ে ভিতরে ঢুকেই বাঁ পায়ের উঁচু জোরালো শটে বল ঠিকানায় পাঠান তাডিচ। গোলটির আক্রমণের শুরুতে বল বাইলাইন পেরিয়ে গিয়েছিল কিনা সন্দেহে ভিএআরের সাহায্য নিয়ে গোলের বাঁশি বাজান রেফারি।

৭০ মিনিটে অবশ্য অ্যাসেনসিও একটি গোল শোধ দেন। কিন্তু ৭২ মিনিটে আয়াক্স রিয়ালের পরাজয়ের কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেয়। এ সময় ফ্রি কিকে অসাধারণ গোলটি করেন লাসে স্কোনি। শেষ পর্যন্ত ৪-১ ব্যবধানে (দুই লেগ মিলিয়ে ৫-৩) রিয়াল মাদ্রিদকে হারিয়ে ১৩ বছর পর কোয়ার্টার ফাইনালে নাম লেখায় আয়াক্স।

নিজেদের ক্লাবের ইতিহাসের ১১৭তম জন্মদিনে এমন পরাজয়ে মুষড়ে পড়লো রিয়াল মাদ্রিদ। ১৯৯৪-১৯৯৫ মৌসুমের পর এবারই কোনও ক্লাব নিজেদের মাঠে প্রথম লেগ হেরেও চ্যাম্পিয়নস লিগ থেকে রিয়াল মাদ্রিদকে বিদায় করল। অথচ ইউরোপে আয়াক্সের বিপক্ষেই সবচেয়ে ভালো খেলার রেকর্ড রিয়ালের। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে আয়াক্সের বিপক্ষে শেষ সাত ম্যাচেই জিতেছে সোলারির শিষ্যরা। রিয়ালের বিপক্ষে আয়াক্স জয় পেয়েছিল ১৯৯৫ সালে চ্যাম্পিয়নস লিগের গ্রুপ পর্বে।

 

বিষেরবাঁশী.কম/ডেস্ক/নিঃতঃ

Categories: খেলাধূলা

Leave A Reply

Your email address will not be published.