বুধবার ২৮ অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ ১২ ডিসেম্বর, ২০১৮ বুধবার

অতি সাধারণ এক সাংবাদিকের কথা

আলম রায়হান : লেখা বা রিপোর্ট ছাপা না হওয়া নিয়েই কেবল নয়; ছাপা হওয়া রিপোর্ট নিয়েও ঝামেলা কম হয়নি। একাধিক মামলা মোকাবিলা করতে হয়েছে ঢাকা, বরিশাল ও চট্টগ্রামে। এক মামলায় পুলিশ সারারাত বাসা ঘেরাও করে রেখে ভোরে ধরে নিয়ে গিয়েছিল, রাতের ঘুম ভাঙ্গায়নি। তবে বিকালেই জামিন হয়েছে। এটি প্রথম খালেদা সরকারের সময়ের ঘটনা। আর প্রথম শেখ হাসিনা সরকারের সময়ে এক মামলায় ১৮দিন কারাবাস করতে হয়েছে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে। পুলিশ ধরুক বা না ধরুক, হাজতবাস হোক অথবা চাওয়া মাত্রই জামিন মঞ্জুর হোক- যাই হোক, মামলা মানেই বিব্রতকর। আর মামলার চেয়ে ব্যক্তিগত অসন্তোষের মুখোমুখি হওয়া অধিকতর বিব্রতকর বলে মনে হয় আমার কাছে।

মুখোমুখি বিব্রতকর অবস্থায় প্রথম পড়তে হয় সংসদ সদস্য মনিরুল ইসলাম মনির। তার নামের আগে বরিশাল অঞ্চলে একটি বিশেষণ ব্যবহার করা হয় তার কথাবার্তার ধরণের কারণে। এই মনিরুল ইসলাম মনি একদিন ইসমাইল হোসেন নেগাবান মন্টুকে পেয়ে বসলেন সংসদ ভবনে। সঙ্গে আমি। সে সময় সুগন্ধার বরিশাল প্রতিনিধি ছিলেন মন্টু ভাই। একই সময় তিনি ছিলেন ডেইলি অবজারভারের বরিশাল প্রতিনিধি। কিন্তু গোটা বরিশাল অঞ্চলের ছয় জেলায় তার পরিচিতি ছিলো সুগন্ধার সাংবাদিক হিসেবে। এ পরিচিতিই তার জন্য বিপদ হলো। মাননীয় সংসদ সদস্য মনি তাকে সামনে পেয়ে অনেকটা ‘আলী আলী’ বলে ধরে বসলেন। তিনি খুবই উত্তেজিত। কারণ, কয়েক দিন আগে সুগন্ধায় তার বিরুদ্ধে একটি রিপোর্ট ছাপা হয়েছে। এ বিষয়টি নিয়ে তিনি অনর্গল বকে যাচ্ছেন। এদিকে আপদমস্তক ভদ্রলোক হিসেবে পরিচিত মন্টু ভাই কোনভাবেই মনিরুল ইসলাম মনিকে শান্ত করতে পারছিলেন না। সংসদ সদস্যের চিৎকারে সেখানে ছোট খাটো একটা জটলাও সৃষ্টি হয়েছিলো। অবস্থা বেগতিক দেখে আমি বললাম, ‘আরে মনি ভাই, বাদ দেন তো; এই সব পত্রিকা কেউ পড়ে! খামাখা আপনে মাথা গরম করেন কেন!’ সঙ্গে সঙ্গে জনাব মনি থেমে গিয়ে উল্টো পথে হাটা ধরলেন। আমরা বাঁচলাম হাফ ছেড়ে।

যদিও একই রকমের কথা বলে পার পাওয়া যায়নি আমির হোসেন আমুর কাছে। একবার সুগন্ধার প্রচ্ছদের কার্টুন ছিলো, আমির হোসেন আমুর মাথায় বিশাল এক ঝাঁকা। তাতে নিত্য প্রয়োজনীয় নানা সামগ্রির সঙ্গে রয়েছে লবনের একটি বড় পোটলা। স্মরণ করা যেতে পারে, স্বাধীনতার পর সারা দেশে লবনের যে সংকট হয়েছিলো তার সঙ্গে আমির হোসেন আমুর নাম জড়িয়ে গিয়েছিল। এরশাদ আমলে যেমন চিনির সঙ্গে জড়িয়ে গিয়েছিল কাজী জাফরের নাম। বলা হয়, চিনির চাপে লবন প্রসঙ্গ চাপা পড়ে গিয়েছিল। সুগন্ধা বাজারে যাবার দুই-তিন দিন পর আমু ভাইয়ের ইস্কাটনের বাসায় গেলাম। আমাকে দেখেই তিনি বললেন, এই মিয়া উল্টাপাল্টা লেখ কেন! আমি বললাম, আমি ঢাকায় ছিলাম না। তিনি বললেন, ‘এইগুলা আমারে বুঝাও; তুমি দিল্লী গেছিলা!’ বুঝলাম সুবিধা হবে না। ফলে মনিরুল ইসলাম মনিকে কয়েক দিন আগে ম্যানেজ করার কৌশল অবলম্বন করলাম। বললাম, আমু ভাই বাদ দেন তো, এই সব পত্রিকা কেউ পড়ে! এবার তিনি আরো রেগে গেলেন। সোফার পাস থেকে একগাদা পত্রিকা বের করে বললেন, ‘আরে ভাই, যে আসে সেই একটা সুগন্ধা নিয়া আসে; আর তুমি আমারে উল্টা বুঝাও!’ বুঝলাম, সকল জ্বর এক প্যারাসিটামলে সারানো যায় না; আমি চুপ হয়ে গেলাম।

এ প্রসঙ্গে একটি বিষয় উল্লেখ করা প্রয়োজন। তা হলো, আক্রান্ত হলে ক্ষোভ প্রকাশ করা কেবল নয়, উপকৃত হলেও আমির হোসেন আমু তা প্রকাশ করেন। আমার সঙ্গেই এমনটি ঘটেছিল। দৈনিক সকালের খবরে আমার এক রিপোর্টে লিখেছিলাম, ‘আমির হোসেন আমু রাজনীতিতে ব্যস্ত থাকেন কাক ডাকা ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত।’ এ বাক্যটি খুবই পছন্দ হয়েছিল জনাব আমুর। তিনি সে সময় যোগাযোগের বিড়ম্বনাকর মাধ্যম টেলিফোনে আমাকে ধন্যবাদ দিয়েছিলেন। এবং আমি যে একটি ভালো রিপোর্ট করেছি তা তিনি একাধিকজনকে বলেছেন। যে প্রবণতা রাজনীকদের মধ্যে খুব একটা দেখা যায় না। রাজনীতিকরা সাধারণত কোনো রিপোর্টে উপকৃত হলে তা প্রকাশ করেন না; কেবল আক্রান্ত হয়েছেন বলে মনে করলে প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেন; কোনো কোনো ক্ষেত্রে করেন মামলা-হামলাও।

আমু ভাইর বাসায় গিয়েছিলাম তার প্রতিক্রিয়া বোঝার জন্য। একই কারণে বিকালে গেলাম ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউর আওয়ামী লীগ অফিসে। আমি সিঁড়ি দিয়ে উঠছি আর নামছিলেন তোফায়েল আহমেদ। নামতে নামতে তিনি বললেন, ‘রায়হান ঠিক করো নাই!’ তার প্রতিক্রিয়ায় আমি হোঁচট খেলাম। কারণ, অন্যরকম প্রতিক্রিয়া আশা করেছিলাম। সে সময় আমু-তোফায়েল বিরোধ প্রকাশ্য ও তুঙ্গে। আমার ধারণা ছিল, তোফায়েল আহমেদ খুবই খুশি হবেন। কিন্তু তিনি তা হননি। বরং বিরক্ত হয়েছিলেন বলেই মনে হয়েছে। তবে এ বিরক্তিতে ততটা তীব্রতা ছিলো না যতটা দেখেছি তার চোখে অনেক বছর পর মহাখালী ব্রাক সেন্টারে সিঁড়ি দিয়ে তার নামা ও আমার ওঠার সময়। এর কিছু দিন আগে তার ইন্ধনে আমি ১৮ দিন কারাভোগ করেছি। অবশ্য আমার কারাভোগের পেছনে সে সময়ে প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব মোক্তাদির চৌধুরী রবিউল ও ডিসি ডিবি সৈয়দ বজলুল করিমেরও হাত ছিল।

সুগন্ধার বিরুদ্ধে ঢাকায় প্রথম মামলাটি ছিলো এরশাদের ৮৮-এর সংসদের সদস্য মফিজুর রহমান রোকনের। সংসদ সদস্য হবার আগে তিনি ‘আমরা বাজিতপুরবাসী’ নামে একটি সংগঠনের কর্ণধার ছিলেন। এ অবস্থান থেকে তিনি আওয়ামী লীগ-বিএনপি ছাড়া ৮৮ সালের নির্বাচনে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পটিয়ার মামলায় প্রকসি হাজিরা দিয়ে ঢাকায় ফেরার দুই দিন পরই সংসদ সদস্য মফিজুর রহমান রোকনের মামলার ওয়ারেন্ট হলো। এ মামলায় উকিল নিয়োগ করা হলো জেড আই খান পান্নাকে। বরিশাল আমার ছাত্রজীবনে তাকে পেয়েছি তাত্ত্বিক নেতা হিসেবে। জাসদ ছাত্রলীগের জন্য তাকে বলা হতো বরিশালের সিরাজুল আলম খান। অবশ্য এটি ছিলো তার অর্জিত। ‘স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী পরিষদ’-এর ১৯৬৮ সালে জেলাভিত্তিক যে সেল গঠন করা হয় তাতে বরিশালের দায়িত্বে ছিলেন জেড আই খান পান্না। যতদূর জানা যায়, কঠিন এ দায়িত্ব তিনি অত্যন্ত দক্ষতা ও ধীরস্থিভাবে পালন করেছেন। কিন্তু মফিজুর রহমান রোকনের মামলার দায়িত্ব পেয়ে তিনি অস্বাভাবিকভাবে অস্থির আচরণ করেছিলেন। এতে আমার পাশাপাশি সৈয়দ মোয়াজ্জেমও বেশ বিরক্ত হয়েছিলেন আমার জাসদীয় নেতা পান্না ভাইর ওপর। বিরক্তি চেপে রেখে আমরা আদালতে হাজিরা দিলাম। জামিন লাভ শেষে মফিজুর রহমান রোকনকে আদালতের বারান্দার এক কোনে ডেকে বললাম, “আগামী তারিখে আপনি মামলা প্রত্যাহারের আবেদন করবেন। তা না হলে ‘আমরা বাজিতপুরবাসী’-এর ফান্ড নিয়ে আপনি যা করেছেন তা নিয়ে সুগন্ধায় রিপোর্ট হবে!” এ কথা আমি আন্দাজেই বলেছিলাম, এ বিষয়ে আমার কাছে কোন তথ্য ছিলো না। কিন্তু আন্দাজে এ ঠিলে ম্যাজিকের মতো কাজ হলো। সঙ্গে সঙ্গে সে বললো, আগামী তারিখে কি দরকার, আজই প্রত্যারের আরজি করি। আমি পীরের মতো ভাব নিয়ে বললাম, করেন! জনাব রোকন তাই করেছিলেন।

সংসদে একবার স্পিকার শামসুল হুদা চৌধুরী এই রোকনকে ‘খোকন’ বলে সম্বোধন করেছিলেন। এর প্রতিবাদ করে রোকন বলেছিলেন ‘মাননীয় স্পীকার আমার নাম রোকন, খোকন না!’ প্রতিক্রিয়ায় হিউমারের ডোলা শামসুল হুদা চৌধুরী বলেছিলেন, ‘তাইতো বলি, এতো বড় ছেলের নাম কিভাবে হয় খোকন!’ কিন্তু ‘আমরা বাজিপুরবাসী’-এর ফান্ড নিয়ে ইঙ্গিত করায় ‘খোকনের’ মতোই আচরণ করেছিলেন এরশাদীয় রাবার স্টাম্প সংসদের সদস্য জনাব রোকন।

সুগন্ধার বিরুদ্ধে সবচেয়ে বিব্রতকর মামলাটি হয়েছিল বরিশালে। বাদী সে সময়ের শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী অধ্যক্ষ ইউনুস খানের পক্ষে তার এপিএস গোলাম আব্বাস চৌধুরী আলাল। সুগন্ধার তখন যে দাপট তাতে এ ধরনের মামলা তেমন ধর্তব্যের মধ্যে নেয়ার কথা নয়। কিন্তু জটিলতা ছিল অন্যত্র।

এরশাদ সরকারের পতনের পর ১৯৯১ সালের সংসদ নির্বাচনে অনেকের বিবেচনায় ‘কলা গাছও’ বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছে। কিন্তু সুগন্ধার মালিক সৈয়দ মোয়াজ্জেম অনেক ছুটাছুটি করেও ব্যর্থ হয়েছেন। তবু তিনি আশা ছাড়েননি। তার বিশ্বাস ছিলো, কোনো না কোনো নির্বাচনে তিনি বিএনপির মনোনয়ন পাবেনই। যদিও এর মধ্যে অনেকগুলো সংসদ নির্বাচন গেলেও সৈয়দ মোয়াজ্জমের ধারনা এখনো সঠিক প্রমাণিত হয়নি। শেষতক ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচিত সংসদ সদস্য শওকত হোসেনের হিরনের অকাল মৃত্যুতে শূন্য হওয়া বরিশাল সদর আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছেন গুরুতর ত্রুটির কারণে তার মনোনয়ন পত্র বাতিল হয়ে যওয়ায়। কিন্তু এখনো তিনি নির্বাচনের আশা ছেড়েছেন বলে মনে হয় না। ফলে এটা অনুমান করা কঠিন নয় যে, ৯১ সাল থেকে বেশ কয়েকটি নির্বাচন ঘিরে বিএনপির মনোনয়ন পাবার ব্যাপারের কতটা আগ্রহী ও আশাবাদী ছিলেন সৈয়দ মোয়াজ্জেম। এ অবস্থায় বরিশাল বিএনপি নেতা ও শিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে মামলায় জড়িয়ে যাওয়াকে তিনি কতটা সর্বনাশা বিবেচনা করছিলেন তা সহজেই অনুমান করা যায়।

তার এ ‘সর্বনাশ’ ঠেকাবার প্রাথমিক করণীয় হিসেবে বরিশাল ছুটলাম মামলা মোকাবেলা করার জন্য। যথারীতি মামলায় জামিন হলো। ফলে বেশ সময় পাওয়া গেলো সমঝোতার। আবার সমঝোতা না হলে পরবর্তী করণীয় হিসেবে নাসিম বিশ্বাসের সঙ্গেও একটা সম্পর্ক গড়ে তুললাম। ইউনুস খানের সঙ্গে সে সময় বিশ্বাস পরিবারের বিরোধ বরিশালে অনেকটাই ওপেন সিক্রেট বিষয় ছিলো। আরো কয়েকজনের পাশাপাশি দেখা করলাম সে সময়ে সদর উপজেলার চেয়ারম্য্যান শওকত হোসেন হিরনের সঙ্গে। হিরন জাতীয় পার্টির মনোনয়নে উপজেলা চেয়ারম্যান ছিলেন। তিনি তার গাড়িটি আমাদের দিয়েছিলেন ব্যবহার করার জন্য।

ইত্তেফাকের তৎকালীন বরিশাল ব্যুরো চিফ মাইনুল আলম, সাংবাদিক নেতা অ্যাডভোকেট এস এম ইকবালসহ কয়েকজন সাংবাদিকের সঙ্গেও দেখা করি। ইউনুস খানের মামলায় পড়ে বরিশালে আমার সকল তৎপরতার সঙ্গে সে সময়ে তরুণ সাংবাদিক বর্তমানে শীহদ আবদুর রব সেরনিয়াবাত বরিশাল প্রেসক্লাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি সৈয়দ মাহ্মুদ হোসেইন চৌধুরী জড়িত ছিলেন ছায়ার মতো। সব মিলিয়ে শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী অধ্যক্ষ ইউনুস খানের মামলার বিষয়টি আমরা খুবই গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছিলাম। যদিও এতোসব কিছুর কোনই প্রয়োজন ছিলো না। কারণ চিরকালের ভদ্রলোক ইউনুস খানের সঙ্গে সমঝোতা হয়েছিলো আমার প্রথম দেখাতেই। আর উল্টাপাল্টা লেখার জন্য তার কাছে দু:খ প্রকাশ করার নাটকের সুযোগই পেলাম না। এর আগেই তিনি দু:খ প্রকাশ করেছিলেন তার এপিএস আলাল সাপ্তাহিক সুগন্ধার বিরুদ্ধে মামলা করায়।

তিনি বারবার বলছিলেন, পত্রিকা তার বিবেচনায় লিখবে। এ ব্যাপারে তার স্বাধীনতা আছে। আমার ভিন্নমত থাকলে প্রতিবাদ দেব। সরাসরি মামলা করব কেন? তিনি আরও বললেন, আলালকে বলেছি বিষয়টি দেখতে। ‘ডেকে আনতে বলায়’ বেঁধে আনার মতো করে বসলো, যা আমার বেলায় মানায় না।

আমার ব্যক্তিগত ধারণা, ভদ্রতা ও সহনশীলতার দিক থেকে মিজানুর রহমান চৌধুরীর সঙ্গে অধ্যক্ষ ইউনুস খানের অনেকটা মিল ছিলো। আমার এ অনুভূতি এক কলামে লিখেও ছিলাম। এতে ইউনুস খান এতোই খুশি হয়েছিলেন যা খুবই ভালোলাগা স্মৃতিগুলোর একটি। মামলার সূত্রে তার সঙ্গে পরিচয় হবার পর ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে সরকারে থাকা সত্ত্বেও প্রায় বিনা চিকিৎসার মৃত্যুবরণকারী অধ্যক্ষ ইউনুস খানের সঙ্গে আমার ঘনিষ্ট সম্পর্ক ছিলো তার জীবনের শেষ দিনটি পর্যন্ত। রাজনীতিতে ইউনুস খানের মতো ভদ্র লোক আমি দ্বিতীয়টি দেখেছি বলে মনে হয় না।

যে মামলার কারণে সৈয়দ মোয়াজ্জেম মুর্সা যাবার উপক্রম হয়েছিলো সেই মামলার সূত্র ধরেই অধ্যক্ষ ইউনুস খানের সঙ্গে আমাদের গভীর সম্পর্ক গড়ে উঠেছিলো। এদিকে স্পিকার থেকে রাষ্ট্রপতি হওয়া আবদুর রহমান বিশ্বাসের সঙ্গে আগে থেকেই সম্পর্ক ছিলো মোয়াজ্জেম সাহেবের। যার কিছুটা প্রমাণ পেয়েছি রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব নেবার আগে তার সঙ্গে রহমান বিশ্বাসের বাসায় গিয়ে।

ইউনুস খানের মামলার ঝামেলা বিনা জটিলতায় মিটমাট হলেও জ্বর সারাতে ব্যবহৃত কুইনানের জটিলতা থেকেই গেলো। বরিশালে মামলা ফেইস করতে গিয়ে উকিলদের নিয়ে নিজস্ব অভিজ্ঞতা গেদু চাচার চিঠিতে দুই লাইন লেখায় দুই উকিল অ্যাডভোকেট আফজাল ও অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর খুবই বিক্ষুব্ধ হয়েছিলেন, অথবা বিক্ষুব্ধ হবার ভান করেছিলেন। তারা আদালতে একটি আরজি দাখল করলেন। আদালতের নোটিশ এলো। আবার আমাকে বরিশাল যেতে হলো। উটকো ঝামেলা এড়াতে সমঝোতার সিদ্ধান্ত নিলাম। সমঝোতার জন্য দুই উকিলকে দিতে হলো ১৫শ’ টাকা। বলতে গেলে অনেকটা জেনেশুনেই ‘মুরগি’ হয়েছিলাম। ৯১ সালের সেই ‘মুরগি’ হবার ঘটনা আজও আমার সেদিনের বিষয় বলে মনে হয়। আর যতবারই অ্যাডভোকেট আফজালের সঙ্গে দেখা হয় তত বারই বলি, আফজাল ভাই আপনার কাছে কিন্তু আমি ১৫শ’ টাকা পাই, আর প্রতিবারই অ্যাডভোকেট আফজালের কালো মুখ আরো কালো হয়!

আলম রায়হান, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক

মতামত বিভাগের যেকোনো লেখার জন্য সম্পাদক দায়ী নয়

বিষেরবাঁশী ডেস্ক/সংবাদদাতা/হৃদয়

Categories: খোলা বাতায়ন

Leave A Reply

Your email address will not be published.