শুক্রবার ১৩ বৈশাখ, ১৪২৬ ২৬ এপ্রিল, ২০১৯ শুক্রবার

আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল সম্পর্কে কিছু তথ্য

অনলাইন ডেস্ক: বাংলা সংগীত জগতে জনপ্রিয় ও শ্রদ্ধার এক নাম আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল। তার গান বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের পক্ষে কথা বলেছে, তেমনি বাংলা চলচ্চিত্রকে করেছে সমৃদ্ধ। সংগীতের প্রায় সকল শাখায় অবদান রাখা বীর মুক্তিযোদ্ধা এই শিল্পী আজ না ফেরার দেশে চলে গেছেন।

আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলের জন্ম ১৯৫৭ সালের ১ জানুয়ারি ঢাকায়। ১৯৭১ সালে মাত্র ১৫ বছর বয়সে বালক বুলবুল কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে রাইফেল হাতে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন পাকিস্তানী শত্রুদের ঘায়েল করতে।

মুক্তিযুদ্ধের প্রত্যক্ষ স্মৃতি বিস্মৃতি নিয়ে বহু জনপ্রিয় গান লিখেছেন এবং সুর করেছেন। ‘এই দেশ আমার সুন্দরী রাজকন্যা’, ‘আয় রে মা আয় রে’, ‘উত্তর দক্ষিণ পূর্ব পশ্চিম’, ‘সব কটা জানালা খুলে দাও না’, ‘মাঝি নাও ছাইড়া দে’, ‘ও মাঝি পাল উড়াইয়া দে’, ‘সেই রেল লাইনের ধারে’, ‘মাগো আর তোমাকে ঘুম পাড়ানি মাসি হতে দেবনা’- এমন বহু কালজয়ী গানের স্রষ্টা নিভৃতচারী এই শিল্পী।

বাংলা সঙ্গীতের চিরসবুজ গান ‘আমার সারা দেহ খেয়ো গো মাটি, ‘আমার বাবার মুখে’,‘যে প্রেম স্বর্গ থেকে এসে’, ‘পড়েনা চোখের পলক’, ‘অনেক সাধনার পর’, ‘আমার গরুর গাড়িতে’, ‘পৃথিবীর যত সুখ’, আট আনার জীবন সহ অসংখ্য কালজয়ী বিখ্যাত গানের গীতিকার, সুরকার এবং সঙ্গীত পরিচালক আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল।

৭০ দশক থেকেই চলচ্চিত্র এবং অডিওতে সফলভাবে কাজ করে যাচ্ছেন এই গুণী সঙ্গীত পরিচালক। বিখ্যাত গীতিকার নজরুল ইসলাম বাবুর লেখা ‘সবকটা জানালা খোলে দাওনা’, শ্রদ্ধেয় রফিকউজ্জামান এর লেখা ‘সেই রেললাইন ধারে’, সহ অসংখ্য দেশাত্মবোধক গান তিনি সৃষ্টি করেছেন। তিনি ১৯৭১ সালের একজন মুক্তিযোদ্ধা।

চলচ্চিত্রেও তার গান ছড়িয়েছে মুগ্ধতা। তার হাত ধরে সৃষ্টি হয়েছে ‘আমার সারা দেহ খেও গো মাটি’, ‘প্রেমের তাজমহল’সহ অনেক জনপ্রিয় গান।

১৯৭৮ সালে ‘মেঘ বিজলি বাদল’ ছবিতে সংগীত পরিচালনার মধ্য দিয়ে চলচ্চিত্রে কাজ করা শুরু করেন বুলবুল। এর পর তিনি গানের অ্যালবাম ও অসংখ্য চলচ্চিত্রের সঙ্গীত পরিচালনা করেছেন। তিন শতাধিক চলচ্চিত্রের সঙ্গীত পরিচালনা করেছেন গুণী এ মানুষটি। তিনি স্বাধীনভাবে গানের অ্যালবাম তৈরি করেছেন এবং অসংখ্য চলচ্চিত্রের সংগীত পরিচালনা করেছেন।

সাবিনা ইয়াসমিন, রুনা লায়লা, সৈয়দ আব্দুল হাদী, এন্ড্রু কিশোর, সামিনা চৌধুরী, খালিদ হাসান মিলু, আগুন, কনকচাঁপাসহ দেশের প্রায় সব জনপ্রিয় শিল্পীদের দিয়ে কাজ করিয়েছেন। সংগীতে অসামান্য অবদানের জন্য তিনি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সম্মাননা একুশে পদক, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারসহ বহু পুরস্কারে ভূষিত হয়

প্রসঙ্গত, বাংলা সংগীত জগতের কিংবদন্তী গীতিকার, সুরকার, সংগীত পরিচালক ও মুক্তিযোদ্ধা আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল আর নেই (ইন্না লিল্লাহি অইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৩ বছর।

আজ মঙ্গলবার (২২ জানুয়ারি) ভোর ৪টা ১৫ মিনিটে মহাখালীর আয়েশা মেমোরিয়াল হাসপাতালে তিনি হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যান। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তার ছেলে সামির আহমেদ।

 

 

বিষেরবাঁশী.কম/ডেস্ক/নিঃতঃ

Categories: বিনোদন

Leave A Reply

Your email address will not be published.