বুধবার ২ শ্রাবণ, ১৪২৬ ১৭ জুলাই, ২০১৯ বুধবার

চালের দাম কিছুটা কমেছে, ক্রেতাদের নাগালে সবজি

বিষেরবাঁশী ডেস্ক: নির্বাচনী অজুহাতে চালের দাম বাড়লেও এখন কমতে শুরু করেছে চালের দাম। কেজিপ্রতি ১ থেকে ১ টাকা ৩০ পয়সা কমেছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম। একই সঙ্গে কেজিপ্রতি ৩-৫ টাকা কমেছে পেঁয়াজের দাম। তবে বেড়েছে রসুন ও মসুর ডালের দাম। এ ছাড়া বিগত দুই সপ্তাহের তুলনায় ঢাকার বাজারে স্থিতিশীল রয়েছে সবজি, মাছ-মাংস ও মসলার দাম।

এদিকে, আগামী সপ্তাহে গরু ও খাসির মাংসের দাম বাড়তে পারে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। গতকাল শুক্রবার মহাখালী ও কারওয়ান বাজার এলাকা ঘুরে এ চিত্র পাওয়া যায়।

চালের বাজারে গিয়ে দেখা যায়, আটাশ, নাজিরশাইল, মিনিকেট ও কাজললতা চালের দাম গত সপ্তাহের থেকে কেজিতে ১ থেকে ১ টাকা ৩০ পয়সা কমেছে। বর্তমানে খুচরা পর্যায়ে আটাশ প্রতি কেজি ৩৮-৪০ টাকা, নাজির (ইন্ডিয়ান) প্রতি কেজি ৫৪-৫৬ টাকা, মিনিকেট প্রতি কেজি ৫২-৫৪ টাকা এবং কাজললতা ৪৪-৪৬ টাকায় বিক্রি হয়েছে। মহাখালী কাঁচাবাজারের চাল বিক্রেতা আক্কাস আলী বলেন, নির্বাচনের আগে চালের দাম কম ছিল। নির্বাচনের পর অনেক বেড়েছে। এখন আবার কমতে শুরু করেছে। মিনিকেট ৫০ কেজির বস্তা ২৫৭০ টাকায় কিনতাম। এখন সেটা ২৫৩০ থেকে ২৫৪০ টাকায় কিনছি।

বাজার ঘুরে দেখা যায়, চলতি সপ্তাহে দেশি পেঁয়াজ কেজিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ২২ থেকে ২৫ টাকায়, যা গত সপ্তাহে ছিল ২৫ থেকে ২৭ টাকায়। আর দাম বেড়ে রসুন বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৫৫ থেকে ৬৫ টাকায়, যা গত সপ্তাহে ছিল ৫০ থেকে ৬০ টাকা। একই সঙ্গে মসলার দাম অপরিবর্তিত থাকলেও, কমেছে আদার দাম। মানভেদে কেজিপ্রতি ৫ টাকা কমে বিক্রি হচ্ছে ৯০ থেকে ১২০ টাকায়, যা গত সপ্তাহে ছিল ৯৫ থেকে ১২৫ টাকায়।

সবজি বাজার : খুব একটা ঝাঁজ নেই পেঁয়াজের বাজারে। ইন্ডিয়ান আর দেশিÑ দুই ধরনের পেঁয়াজের দামই ২০ টাকার আশপাশে। তবে পাল্লা হিসেবে নিলে ইন্ডিয়ান পেঁয়াজ কিছুটা কমে পাওয়া যাবে। ইন্ডিয়ান পেঁয়াজের পাল্লা ৯০ থেকে ৯৫ টাকা। আর দেশি পেঁয়াজের পাল্লা ১০০ থেকে ১১০ টাকা। মরিচে ঝাল থাকুক বা না থাকুক, আগের সপ্তাহের মতোই ঝাল আছে মরিচের দামে। প্রতি কেজি মরিচ বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকায়। এ ছাড়া দাম প্রায় আগের মতোই আছে মৌসুমি সবজিতে। মাঝারি আকারের ফুলকপি বিক্রি হয়েছে প্রতি পিস ১৫ থেকে ২০ টাকায়। কারওয়ান বাজারে গোল বেগুন পাওয়া যাচ্ছে ৩০ থেকে ৪০ টাকায়। আর লম্বাগুলোর প্রতি কেজি পাওয়া যাচ্ছে ২০ থেকে ২৫ টাকায়।

এ ছাড়া শিম প্রতি কেজি ২০ টাকা, টমেটো ২৫ থেকে ৩০ টাকা, পাতাকপি ১৫ থেকে ২০ টাকা, পেঁয়াজ কলি ২০ টাকা, গাজর ২০ টাকা, মুলা ২৫ টাকা, পেঁপে ১০ টাকা, আলু ১৬ থেকে ২০ টাকা, করলা ৪০ থেকে ৫০ টাকা, মটরশুটি ৫০ টাকা এবং কাঁচাকলা প্রতি হালি ১৫ থেকে ২০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। ভইত্তা শাক পাওয়া যাচ্ছে ১০ টাকা প্রতি আঁটি। তবে দাম বেড়েছে শসার। গত সপ্তাহেও প্রতি কেজি ৩০ টাকায় বিক্রি হওয়া শসা এ সপ্তাহে বিক্রি হয়েছে ৪০ টাকায়।

দোকানে মাংসের পসরা : বাড়তি দামের হাওয়া লেগেছে ডালের বাজারেও। প্রতি কেজি মসুর ডাল পাওয়া যাচ্ছে ৮৬ টাকায় আর পুরনো ডালের মূল্য ১০০ টাকা। মুগ ডালের দাম যথাক্রমে ৯০ ও ১১০ টাকা। ডাল বিক্রেতা জাহিদুল ইসলাম বলেন, গত সপ্তাহেও এসব ডাল বিক্রি করেছি ৭৪ থেকে ৯০ টাকার মধ্যে। এখন এই দাম। প্রতি কেজিতে ১০ থেকে ১২ টাকা বেড়েছে। কোম্পানি থেকে দাম বাড়ানো হয়। তাই আমাদেরও দাম বাড়াতে হয়েছে।

বোতলজাত তেল বিক্রি হচ্ছে প্রতি লিটার ১০০ টাকা (রূপচাঁদা)। আর ৫ লিটারের বোতল পাওয়া যাচ্ছে ৪৮০ টাকায়। আর খোলা তেল প্রতি লিটার ৮৫ টাকায় বিক্রি হতে দেখা যায়।

মাছ : মাছের বাজার মোটামুটিভাবে আগের সপ্তাহের মতোই রয়েছে। প্রায় ৭০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ মাছ বিক্রি হচ্ছে ৫৫০ টাকায়। মাঝারি ও ছোট সাইজের কোরাল মাছ বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকায়। মাঝারি আকারের প্রতি কেজি রুই ২৫০ থেকে ৩৫০ টাকা, মাগুর ৪০০ টাকা, শোল ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা, কৈ (দেশি) ৫০০ টাকা, বোয়াল প্রতি কেজি ৫০০ টাকা আর পাঙ্গাস পিস হিসেবে ১৮০ টাকা আর কাটা হলে ২০০ টাকা। দেশি শিং মাছের দাম প্রতি কেজি ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা আর চাষের হলে দাম প্রায় ৫০০ টাকা। দেশি চিংড়ি পাওয়া যাচ্ছে প্রতি কেজি হাজার টাকায়। আর চাষের গলদা বিক্রি হচ্ছে ৫৫০ টাকা ৬০০ টাকা কেজিতে এবং বাগদা কিনতে হলে প্রতি কেজির দাম পড়বে ৪৮০ থেকে ৫০০ টাকা।

মাংসের মধ্যে মুরগির দাম আছে স্থিতিশীল। গত সপ্তাহের মতো এবারও প্রতি কেজি দেশি মুরগি ৩৮০ এবং ব্রয়লার ১৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে কেজিতে ১০ টাকা দাম বেড়েছে পাকিস্তানি সোনালি মুরগির। এদিকে গরু ও খাসির মাংসের দাম এখন পর্যন্ত না বাড়লেও আগামী সপ্তাহে দাম বাড়তে পারে বলে জানিয়েছেন মাংস ব্যবসায়ীরা।

এখন প্রতি কেজি গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৪৮০ টাকায় আর খাসির দাম প্রতি কেজি ৭৫০ টাকা। কারওয়ান বাজারের মাংস বিক্রেতা কাল্লু মিয়া বলেন, এখনই গরুর মাংসের দাম বেশি। চার-পাঁচ দিন ধরে আমাদের বেশি দামে কেনা লাগছে। তবে আমরা দাম বাড়াইনি। কিন্তু আগামী সপ্তাহেও এমন থাকলে দাম বাড়ানো লাগবে। ঢাকায় পশু সরবরাহ কম থাকার কারণেই এমনটা হচ্ছে বলে জানান এই মাংস বিক্রেতা।

বিষেরবাঁশী ডেস্ক/সংবাদদাতা/হৃদয়

Categories: অর্থনীতি

Leave A Reply

Your email address will not be published.