শনিবার ৯ চৈত্র, ১৪২৫ ২৩ মার্চ, ২০১৯ শনিবার

না.গঞ্জে আসন ৫ প্রার্থী ৩৮, লড়াই হবে ১১ জনে

বিষেরবাঁশী ডেস্ক: আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনে অংশ নিচ্ছেন ৩৮ প্রার্থী। তবে, ভোটের মূল লড়াই হবে ১১জনের মাঝে।

রোববার (৯ ডিসেম্বর) বিকাল পর্যন্ত ১৪ প্রার্থী তাদের মনোনয়ন পত্র প্রত্যাহার করেন। ২৮ নভেম্বর ছিল মনোনয়ন পত্র জমা দেয়ার শেষ। সেদিন মোট ৬১ জন প্রার্থী মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছিলেন। যা, যাচাই বাছাই শেষে ২ ডিসেম্বর বৈধতা পায় ৪৭ প্রার্থী। তবে, আপিল শেষে বৈধ প্রার্থীর সংখ্যা দাড়াঁয় ৫৩ জনে। ৯ ডিসেম্বর প্রত্যাহারের শেষ দিনে নির্বাচনের মাঠে টিকে থাকলো ৩৮ প্রার্থী।

প্রার্থী সংখ্যা ৩৮ হলেও ভোটের মূল লড়াইটা নৌকা-ধানের শীষ-লাঙ্গলের মধ্যেই হবে। তবে, একটি আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ছেড়ে কথা বলবে না।

নির্বাচন কমিশন বলছেন, ৬’শ ৮৩. ১৪ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের নারায়ণগঞ্জ জেলার ৫টি আসনে এবার ২০ লাখ ৩১ হাজার ভোটার। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১০ লাখ ৩৪ হাজার ৫২৫, নারী ভোটারের সংখ্যা ৯ লাখ ৯৭ হাজার ১৬ জন।

এবার নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত ৩৯টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে নারায়ণগঞ্জে প্রার্থী দিয়েছে ১৮টি দল। ২৮ নভেম্বর ছিল মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময়। ওই দিন ৬১টি জনের মনোনয়নপত্র জমা পড়েছিল। এর মধ্যে রাজনৈতিক দলগুলো থেকে জমা পড়ে ৫২টি মনোনয়নপত্র। বাছাইয়ে ১৪ জনের প্রার্থীতা বাতিল হয়। তবে নির্বাচন কমিশনে আপিল করে ৬ নেতা প্রার্থিতা ফিরে পান। সর্বশেষ প্রত্যাহারের শেষ দিন (৯ ডিসেম্বর) আরো ১৪ জনের মনোনয়ন প্রত্যাহার করা হয়।

এবারের নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনে ইসিতে মনোনয়ন জমা দিয়েছেলেন ১০ জন প্রার্থী। এদের মধ্যে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন কাজী মুনিরুজ্জামান, তৈমূর আলম খন্দকার ও মোস্তাফিজুর রহমান ভূইয়া।
আওয়ামীলীগের প্রার্থী গোলাম দস্তগীর গাজী। এছাড়া জাতীয় পার্টি থেকে আজম খান, কমিউনিষ্ট পার্টি থেকে মনিরুজ্জামান চন্দন ও জাকের পার্টি থেকে মাহ্ফুজুর রহমান ছিলেন।
তবে, বিএনপি থেকে কাজী মুনিরুজ্জামানকে আর আওয়ামীলীগ থেকে গোলাম দস্তগীর গাজী চূড়ান্ত ভাবে মনোনীত হন। এ আসনটিতে এবার ভোটের লড়াই হবে তাদের সাথেই।

নারায়ণগঞ্জ-২ (আড়াইহাজার) আসনে মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছেলেন ৮ জন প্রার্থী। এদের মধ্যে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন নজরুল ইসলাম আজাদ, আতাউর রহমান খান ও মাহমুদুর রহমান। আওয়ামীলীগের প্রার্থী নজরুল ইসলাম বাবু। এছাড়া কমিউনিষ্ট পার্টি থেকে রয়েছেন হাফিজুল ইসলাম। তবে বিএনপি থেকে নজরুল ইসলাম আজাদ ও আওয়ামীলীগ থেকে নজরুল ইসলাম বাবুকে চূড়ান্ত করা হয়েছে। ভোটের লড়াই জমে উঠবে দুই নজরুলে।

নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ) আসনে মনোনয়ন জমা দিয়েছিলেন ১৫ জন প্রার্থী। এদের মাঝে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন আজহারুল ইসলাম মান্নান ও আবু জাফর। আর ১৪ দলিয় জোটের প্রার্থী জাতীয় পার্টির লিয়াকত হোসেন খোকা। এছাড়া স্বতন্ত্র থেকে মনোনয়ন কিনেছেন আওয়ামীলীগের সাবেক এমপি আব্দুল্লাহ আল-কায়সার। আসনটির ভোটারদের ধারণা, আল-কায়সার, লিয়াকত হোসেন খোকা ও আজহারুল ইসলাম মান্নানের ত্রিমুখি লড়াই জমে উঠবে।

নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনে মনোনয়ন জমা দিয়েছিলেন ১৬ জন প্রার্থী। এদের মাঝে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন শাহ্ আলম ও মামুন মাহমুদ। বিএনপির মনোনয়ন তালিকায় না থেকে দলের সিদ্ধান্তে স্বতন্ত্র প্রার্থী ছিলেন সাবেক সাংসদ মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন। আর আওয়ামীলীগ থেকে মনোনয়ন জমা দিয়েছিলেন শামীম ওসমান। এছাড়া স্বতন্ত্র থেকে কাউসার আহম্মেদ পলাশ, কমিউনিষ্ট পার্টি থেকে ইকবাল হোসেন, জাতীয় পার্টি থেকে ছালাউদ্দিন খোকা ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ থেকে মনির হোসেন ছিলেন। তবে শেষ মূহুতে বিএনপি জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের প্রার্থী মনির হোসেনকে মনোনয়ন দিয়েছেন। এরই মধ্যে শাহ্ আলম, গিয়াসউদ্দিন ও তার ছেলে মনোনয়ন পত্র প্রত্যাহার করেছেন। তাই এবার আসনটিতে মনির হোসেন ও শামীম ওসমানের মধ্যে ভোটের লড়াই হবে।

আর নারায়ণগঞ্জ-৫ (সদর-বন্দর) আসনে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন ১২ জন প্রার্থী। এদের মাঝে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন আবুল কালাম, সাইদ আহম্মেদ, মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ ও এসএম আকরাম। তবে শেষ পর্যন্ত চূড়ান্ত হয়েছেন এসএম আকরাম। অন্যদিকে আওয়ামীলীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলিয় জোট থেকে ছিলেন জাতীয় পার্টির নেতা সেলিম ওসমান। এছাড়া জাকের পার্টি থেকে মোর্শেদ হাসান, কমিউনিস্ট পার্টি থেকে মন্টু চন্দ্র ঘোষ, বাসদ থেকে আবু নাইম খান বিপ্লব অংশ নিয়েছে। তবে, লড়াই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে সেলিম ওসমান ও এসএম আকরামের।

বিষেরবাঁশী ডেস্ক/সংবাদদাতা/হৃদয়

Categories: নারায়ণগঞ্জের খবর,রাজনীতি

Leave A Reply

Your email address will not be published.