সোমবার ৩ পৌষ, ১৪২৫ ১৭ ডিসেম্বর, ২০১৮ সোমবার

মামলায় জর্জরিত রাজশাহীর বিএনপির প্রার্থীরা

বিষেরবাঁশী ডেস্ক: রাজশাহীর ছয়টি আসনে বিএনপির প্রার্থীরা মামলায় জর্জরিত। হলফনামায় মামলা সংক্রান্ত তথ্য গোপনের দায়ে প্রার্থিতা বাতিল হয়েছে ছয় প্রার্থীর। রাজশাহীর ৬টি আসনে এবার বিএনপি থেকে ১৬ জনকে মনোনয়ন দেয়। আর আবু বাক্কার সিদ্দিক নামের আরেক প্রার্থী বিএনপির মহাসচিবের স্বাক্ষর জাল করে মনোনয়নপত্র জমা দেন। বিএনপির এই ১৬ জনের মধ্যে বাছাইয়ে বাদ পড়েন তিন হেভিওয়েটসহ সাতজনের। ফলে এখন বৈধ প্রার্থী রয়েছেন ৯ জন।

হলফনামায় দেখা যায়, অধিকাংশ প্রার্থীরই নামে হত্যা, হত্যাচেষ্টা, জঙ্গিবাদ, নাশকতা, ঋণখেলাপিসহ একাধিক মামলা। কারও কারও হলফনামা মামলার ভারে ন্যুব্জ হয়ে পড়েছে। হেভিওয়েট প্রার্থীদের নামে কমপক্ষে ১০-২৫টি পর্যন্ত মামলাও রয়েছে। রাজশাহী-১ (তানোর-গোদাগাড়ী) আসনে এবার বিএনপির তিন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। বাছাইয়ে সাবেক মন্ত্রী আমিনুল হকের মনোনয়নপত্রটি বাতিল হয়ে যায়। এখন এই আসনে প্রার্থী রয়েছেন দুইজন। বাদ পড়া আমিনুল হকের হলফনামায় দেখা যায়, আয়কর ফাঁকি, জঙ্গিবাদ, নাশকতা, হত্যাচেষ্টাসহ তার নামে মামলা বিচারাধীন রয়েছে ১৯টি। এছাড়াও তিনি ৫টি মামলা থেকে উচ্চ আদালতে খালাস পেয়েছেন। আর তিনটি মামলা থেকে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে তদন্তে।

রাজশাহী-২ (সদর) এই আসনে বিএনপির প্রার্থী দুইজন। এর মধ্যে সাবেক এমপি মিজানুর রহমান মিনুর নামে রয়েছে ১৪টি মামলা। ১০টি বিচারাধীন, চারটি মামলা স্থগিত এবং দুটি মামলায় তিনি খালাস পেয়েছেন। বিএনপির আরেক প্রার্থী সাইদ হাসানের নামে একটি মামলা উচ্চ আদালতে স্থগিত রয়েছে। রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর)আসনে বিএনপির দুই প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিলেও ঋণ খেলাপির দায়ে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমানের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়ে গেছে। তবে তার নামে মামলা রয়েছে দুটি।

এই আসনে বিএনপির মনোনীত অপর প্রার্থী মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল হক মিলন। তার নামে বিচারাধীন মামলা রয়েছে সাতটি। রাজশাহী-৪(বাগমারা) আসনে বিএনপির দু’জন প্রার্থীর মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সাবেক এমপি আব্দুল গফুরের মনোনয়ন বাতিল হয়ে গেছে। তার নামে কোনো মামলা নাই। বিএনপির অপর প্রার্থী আবু হেনা তিনটি মামলা থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন।

রাজশাহী-৫ (পুঠিয়া-দুর্গাপুর)আসনে বিএনপি চার প্রার্থী মনোনয়নপত্র জাম দিয়েছিলেন। ঋণখেলাপি ও তথ্য গড়মিল থাকায় সাবেক এমপি নাদিম মোস্তফার ও মহাসচিবের স্বাক্ষর জাল করে মনোনয়নপত্র দাখিলের অভিযোগে আবু বাক্কার সিদ্দিকের মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে বাতিল হয়ে গেছে। নাদিম মোস্তফার নামে বিচারীধীন মামলা রয়েছে ১৪টি। বিএনপির অপর প্রার্থী নজরুল ইসলামের নামে কোনও মামলা নাই।

রাজশাহী-৬ (বাঘা-চারঘাট) আসনে বিএনপির তিন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। তাদের মধ্যে মামলা ও আইনগত জটিলতায় মনোনয়নপত্র বাতিল হয়ে যায় চারঘাট উপজেলার চেয়ারম্যান আবু সাইদ চাঁদের। তার নামে বিাচারধীন ও তদন্তাধীন মামলা রয়েছে ২০টি। এছাড়াও সাতটি মামলা থেকে খালাস পেয়েছেন। এই আসনে বিএনপির আরেক প্রার্থী নূরুজ্জামান খান মানিক দুটি মামলায় খালাস পেয়েছেন।

রাজশাহী জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম মোস্তফা মামুন বলেন, ‘যাচাই-বাছাইয়ে আমাদের দলের ৭ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। সেসব প্রার্থীরা আপিল করেছে। আশা করি তাদের মনোনয়নপত্র গৃহীত হয়ে নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে। আমাদের মামলাগুলো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে হয়রানি করার জন্য করা হয়েছিল। তাই মামলার সংখ্যাও বেশি।’

নির্বাচন দফতর জানিয়েছে, রাজশাহীর সংসদীয় ছয়টি আসনে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন ৬৮ প্রার্থী। এর মধ্যে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন ৫৩ জন। তবে যাচাই-বাছাইয়ে বাদ পড়ে যান ২৩ প্রার্থী। মনোনয়নপত্র গৃহিত হয়েছে ৩০ প্রার্থীর। যাচাই-বাছাইয়ে বাদপড়া প্রার্থীরা আগামী ৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত আপীলে ফিরে আসার সুযোগ পাবেন।

বিষেরবাঁশী ডেস্ক/সংবাদদাতা/ইলিয়াছ

Categories: সারাদেশ

Leave A Reply

Your email address will not be published.