সোমবার ৩ পৌষ, ১৪২৫ ১৭ ডিসেম্বর, ২০১৮ সোমবার

ময়মনসিংহ-১ আসনে ধানের শীষ হোক আলী আজগরের

বিষেরবাঁশী ডেস্ক: ময়মনসিংহ-০১ (হালুয়াঘাট-ধোবাউড়া) আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী তিনজনের সবার মনোনয়ন যাচাই-বাছাইয়ে বৈধ হিসেবে টিকেছে। এবারের নির্বাচনে এখানে বিএনপি থেকে তিনজনকে প্রাথমিক মনোনয়ন দেয়া হলেও ধানের শীষের চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মাঠের পোড়খাওয়া নেতা উপজেলা বিএনপির আহবায়ক আলী আজগরকেই প্রথম পছন্দ তৃণমূলের নেতাকর্মীদের। আলী আজগরের জনপ্রিয়তা, নির্বাচনি অভিজ্ঞতা, ব্যক্তি-গোষ্ঠির প্রভাব সব মিলে আলী আজগর প্রার্থী হলে বৈতরণী পাড়ি নিয়ে ভয় আছে স্থানীয় আ.লীগে। তবে শেষ পর্যন্ত আলী আজগরই ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে মাঠে লড়বেন বলে মনে করছেন মাঠ পর্যায়ের বিএনপি নেতাকর্মীরা। স্বাধীনতা পরবর্তীতে এই আসনে দুইবার বিএনপি, একবার জাতীয় পার্টি ও পাঁচবার আ.লীগ প্রার্থীরা বিজয়ী হন। এই আসনটির হালুয়াঘাট উপজেলায় কড়ইতলী ও গোবরাকুড়া দুটি স্থলবন্দর ও ধোবাউড়া উপজেলার কিছু অংশে চিনা মাটির খনি থাকায় বিশেষ গুরুত্ব বহন করে আসছে। আদিবাসী অধ্যুষিত হওয়ায় এ আসন থেকে আ.লীগ নেতা প্রয়াত এড. প্রমোদ মাকিন ৫ বার নির্বাচন করে চার মেয়াদে এমপি নির্বাচিত হন। ২০১৬ সালের ১১ মে এড. প্রমোদ মানকিন এমপি পরলোকগমন করলে আসনটি শূন্য হয়। ২০১৬ সালের ১৮ জুলাইয়ের উপ-নির্বাচনে প্রয়াত এড. প্রমোদ মানকিনের ছেলে জুয়েল আরেং মনোনয়ন পেয়ে অনেকটা হেসে-খেলেই এমপি নির্বাচিত হন। জুলে আরেং এবারও আ.লীগের মনোনয়নে নৌকা নিয়ে লড়বেন। অপরদিকে এ আসনে বিএনপির তিন হেভিওয়েট নেতা আফজাল এইচ খান, সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স ও আলী আজগর প্রাথমিকভাবে দলীয় চিঠি পেয়ে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। যাচাই-বাছাইয়ে টিকেছেনও তারা। আসনটি পুনরুদ্ধারে দলীয় কর্মসূচি, সভা-সমাবেশ ও গণসংযোগের পাশাপাশি ধর্মীয়-সামাজিক-সাংস্কৃতিক উৎসব ও আচার-অনুষ্ঠানে যোগদান, আর্থিক অনুদান প্রদানসহ নানা কর্মকান্ড চালিয়ে মাঠ সঠিকভাবে গুছিয়েছেন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আলী আজগর। এলাকায় তার অবস্থানও অনেক পোক্ত। স্থানীয় বিএনপি নেতাদের দাবি, সকল সময় মাঠে থাকায় তৃণমূল পর্যায়ে তার ব্যাপক গ্রহণ যোগ্যতা রয়েছে। স্থানীয়দের মতে তার নিজস্ব একটি ভোট ব্যাংক রয়েছে। তাছাড়া তিনি সব সময় দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে চলাচল করেন। তাদের সুখে দুঃখে পাশে থাকেন বলে দলীয় নেতাকর্মীদের মন্তব্য। তার সমর্থকদের দাবী আলী আজগর ধানের শীষের মনোনয়ন পেলে নির্বাচনী বৈতরণী পাড়ি দেয়া তার পক্ষে অনেকটাই সহজ হবে। আলী আজগর বলেন, তৃণমূলে আমি কতটা জনপ্রিয় সেটা এ হালুয়াঘাটে বারবার প্রমাণিত হয়েছে। আমি ২০০৬ সালে বিএনপিতে যোগদান করার পর এখানে বিএনপিকে শক্তিশালী করেছি। সাতবার বিভিন্ন নির্বাচনে অংশ নিয়েছি। দু:সময়ে আমি বিএনপি থেকে উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছি। নির্বাচনী বৈতরণী পাড়ি দিতে হলে তৃণমূলে জনপ্রিয় এবং পরীক্ষিত নেতাকে মনোনয়ন দিতে হবে। আমি মনে করি আমাকে মনোনয়ন দিলে আ.লীগের দূর্গ ভেঙ্গে ধানের শীষ এর বিজয় ছিনিয়ে আনতে সক্ষম হবো। তৃণমূলে জনগণের সাথে ছিলাম, আছি এবং থাকবো।

বিষেরবাঁশী ডেস্ক/সংবাদদাতা/ইলিয়াছ

Categories: রাজনীতি

Leave A Reply

Your email address will not be published.