সোমবার ৩ পৌষ, ১৪২৫ ১৭ ডিসেম্বর, ২০১৮ সোমবার

ছিঁচকে চোর থেকে দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী বুলেট!

বিষেরবাঁশী ডেস্ক: বয়স মাত্র ২৫। নাম মেহেদী ওরফে সৈকত ওরফে জুয়েল মুন্সী ওরফে বুলেট। থাকত তেজগাঁও রেলওয়ে বস্তিতে। ছিল ছিঁচকে চোর। ধীরে ধীরে হয়ে ওঠে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী। সঙ্গে সব সময় অস্ত্র ও গুলি থাকত। এ কারণে তার নাম হয়ে যায় ‘বুলেট’। নামের মতো অস্ত্র চালাতে পারদর্শী ছিল সে। তেজগাঁও, কারওয়ান বাজার, মহাখালী, ধানমন্ডি এলাকায় ছিনতাইসহ নানারকম অপরাধ কর্মকান্ড করে বেড়াত। গড়ে তুলেছিল নিজের নামে ‘বুলেট বাহিনী’।

দীর্ঘদিন ধরেই তাকে খুঁজছিল পুলিশ। শেষ পর্যন্ত ফাঁদ পেতে রুবেল নামে এক সহযোগীসহ বুলেটকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় গোয়েন্দা পুলিশের পল্লবী জোনাল টিম। গত বৃহস্পতিবার তেজগাঁও অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। তাদের কাছ থেকে জব্দ করা হয়েছে একটি রিভলভার, একটি শটগান ও ১০ রাউন্ড শটগানের গুলি। তেজগাঁও থানায় দায়ের করা অস্ত্র মামলায় তিন দিনের রিমান্ডে নিয়ে এই অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।

গোয়েন্দা পুলিশের সিনিয়র সহকারী কমিশনার শাহাদত হোসেন বলেন, বুলেট তেজগাঁও-মহাখালী ও কাওরানবাজার এলাকায় ‘বুলেট বাহিনী’ গড়ে তুলে ছিনতাই-চাঁদাবাজি করত। সে তার নামের মতোই বুলেট চালাত। তাকে অনেকদিন ধরেই গ্রেফতারের চেষ্টা চলছিল। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। রুবেল নামে এক সহযোগীসহ তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তার সহযোগী অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের শনাক্ত করেও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। ডিবি সূত্র জানায়, গোপন সংবাদে গোয়েন্দা পুলিশের পল্লবী জোনাল টিমের সদস্যরা জানতে পারে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চলের পলিটেকনিক কলেজের পেছনে সেন্ট্রাল হাসপাতালের সামনে অস্ত্রধারী কয়েকজন সন্ত্রাসী মিলিত হয়েছে। এই তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তিন যুবককে দেখতে পান গোয়েন্দারা। তাদের একজনের হাতে একটি শপিংব্যাগ ও আরেকজনের হাতে একটি সাদা প্লাস্টিকের বস্তা ছিল। গোয়েন্দারা এগিয়ে গেলে তারা দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করে। পুলিশ দৌড়ে তাদের আটক করে প্লাস্টিকের বস্তার ভেতর থেকে একটি শটগান এবং রুবেলের হাতে থাকা শপিং ব্যাগ থেকে একটি রিভলভার উদ্ধার করে।

ডিবি কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানিয়েছে, তাদের সঙ্গে থাকা আরেক ব্যক্তির নাম আমীর। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সে পালিয়ে গেছে। তারা তিনজন ওই এলাকায় অস্ত্র নিয়ে ছিনতাইয়ের উদ্দেশে মিলিত হয়েছিল। মাঝে মধ্যেই তারা সন্ধ্যার পর আলো-আঁধারির মধ্যে রিকশা আরোহীদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে সর্বস্ব ছিনিয়ে নিত। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পালিয়ে যাওয়া আমীরের কাছ থেকে সে অস্ত্র সংগ্রহ করত। এসব অস্ত্র সে আবার অন্যান্য এলাকার সন্ত্রাসীদের কাছে বিক্রিও করত। অস্ত্র ও গুলি পকেটে নিয়ে ঘুরতে ঘুরতেই তার নাম মেহেদী হাসান সৈকত থেকে বুলেট হয়ে যায়। ওই সূত্রের দাবি, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন এলাকার বিদ্রোহী প্রার্থীর ক্যাডাররা অস্ত্র সংগ্রহ করছে। এই সুযোগে বুলেট আরো কয়েকটি অস্ত্র কিনে এনে রাজনৈতিক ক্যাডারদের কাছে বিক্রি করবার পরিকল্পনাও করেছিল বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছে।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের একজন কর্মকর্তা জানান, বুলেটকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তার অস্ত্র চোরাচালানের নেটওয়ার্ক সম্পর্কেও জানার চেষ্টা চলছে। সে আগ্নেয়াস্ত্রগুলো কাদের কাছ থেকে কিনত এবং কাদের কাছে বিক্রি করত তাদের বিষয়েও খোঁজ-খবর করা হচ্ছে। ওই কর্মকর্তা জানান, নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে, ঢাকার আন্ডারওয়ার্ল্ডে ততই অস্ত্র চোরাচালানের সংখ্যা বাড়ছে। এমনকি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অবৈধ অস্ত্রের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় দামও বেড়ে গেছে।

বিষেরবাঁশী ডেস্ক/সংবাদদাতা/ইলিয়াছ

Categories: অপরাধ ও দুর্নীতি

Leave A Reply

Your email address will not be published.