সোমবার ৩ পৌষ, ১৪২৫ ১৭ ডিসেম্বর, ২০১৮ সোমবার

মূল্যায়ন না করলে কেউ কাজ করবে না: শামীম ওসমান

বিশেরবাঁশী ডেস্ক: ধানের শীষে ভোট দিলে আমার কোন সমস্যা নাই উল্লেখ করে শামীম ওসমান বলেছেন, ধরেন শামীম হইলো নৌকা আর আপনি ধানের শীষে সাপোর্ট করেন। আপনি কি করলেন, ধানের শীষে ভোট দিলেন। দেন, আমার কোন সমস্যা নাই। কিন্তু একটা জিনিস চিন্তা করবেন, ধরেন কালকে আমি থাকলাম না, এমপি হইলাম না। কিন্তু লোকে বলবে, শামীম ওসমান একটা পাগল-ছাগল ছিল। কারণ লোক ভাববে, এতো এতো কাজ কইরাও সে এমপি হইতে পারলো না তাইলে কাজ কইরা লাভ নাই।

মঙ্গলবার (১৩ নভেম্বর) সন্ধ্যায় ফতুল্লার কুতুবপুর ইউনিয়নের রামারবাগ এলাকায় নির্বাচন উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে কুতুবপুরে দোয়া ও মিলাদের মাধ্যমে কুতুবপুরের লাকীবাজার এলাকা থেকে নির্বাচনী গণসংযোগ শুরু করেন শামীম ওসমান। গণসংযোগ করে লামাপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে স্থানীয় এলাকাবাসী ও নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখেন তিনি।

তিনি আরো বলেন, আপনারা ভালো মনে করলে ভোট দিবেন। কিন্তু আমি ভোট দেন, ভোট দেন বলে নাটক করমু না। আপনারা আমার চেয়ে ভালো বোঝেন। আপনারা দেখছেন কে কাজ করে আর কে করে না। এখন যদি এরপরও আপনারা আমার মূল্যায়ন না করেন তাহলে কেউ কাজ করবে না। কারণ সে ভাববে, কাজ করলেও মানুষ মূল্যায়ন করে না। তাহলে সে ২০ কোটি টাকা খরচ কইরা ২০০ কোটি টাকা নিয়া যাইবোগা। উন্নতি কিছুই হইবো না। তাই আগে দেখবেন কে যোগ্য। আমি যোগ্য না হলে আমাকে সরিয়ে দেন।

মাদক ব্যবসায়ী-সন্ত্রাস-চাঁদাবাজদের হুশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, আমি কোন সন্ত্রাস-মাদক ব্যবসায়ী-চাঁদাবাজ চাই না। এই কাজ যে করবে সে যে কেউ হোক তারে আমি ছাড়বো না। আমার কোন সন্ত্রাসী দরকার নাই। আমি শামীম ওসমান একাই ২০ হাজার সন্ত্রাস মোকাবেলা করতে পারি। দলীয় ক্ষমতা ছাড়াও শামীম ওসমানের একটা ক্ষমতা আছে। আমার তো আর পুলিশ-টুলিশ লাগে না। তিনি আরো বলেন, আমরা যখন ক্ষমতায় ছিলাম না তখন আমাদের কর্মীদের উপর অত্যাচার করছে। আমার বাড়ির যেখানে আমার বাবা বসতো সেখানে গিয়ে প্রস্রাব করছে। কই আমরা তো ক্ষমতায় আইসা কিছু করলাম না। চাইলে তো অনেক কিছু করতে পারতাম। কিন্তু করি নাই। পাপ করলে পাপের ফল পাবে।

শামীম ওসমান তাঁর নির্বাচনী এলাকার উন্নয়নের ফিরিস্তি দিয়ে বলেন আমি গতবার যখন এমপি হইছিলাম তখন ২৬০০ কোটি টাকার কাজ করছি। এরপর বিএনপির লোক এমপি হইলো। কোন কাজ করে নাই। আমি যে কাজ করছি তার ৫০ ভাগের ১ ভাগও করে নাই। এরপর আওয়ামীলীগের থেকে কবরী আইলো। মিথ্যা কথা কইয়া সেও কাজ করে নাই। উল্টা আমার নেতাকর্মীদের জেলে ঢুকাইয়া দিল। আমি এইবার এমপি হয়ে সাড়ে ৭ হাজার কোটি টাকার কাজ করছি। কারণ আমি জানি টাকা কিভাবে আনতে হয়।

এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন, মহানগর আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি চন্দন শীল, যুগ্ম সম্পাদক শাহ্ নিজাম, ফতুল্ল থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি এম সাইফুল্লাহ বাদল, সাধারণ সম্পাদক এম শওকত আলী, জেলা মহিলালীগের সভানেত্রী প্রফেসর শিরিন বেগম, মহানগর যুবলীগের সভাপতি শাহাদাত হোসেন সাজনু ভূইয়া, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সাফায়েত আলম সানিসহ রামারবাগের স্থানীয় আওয়ামীলীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

বিশেরবাঁশী ডেস্ক/সংবাদদাতা/ইলিয়াছ

Categories: রাজনীতি

Leave A Reply

Your email address will not be published.