সোমবার ৩ পৌষ, ১৪২৫ ১৭ ডিসেম্বর, ২০১৮ সোমবার

শামীম ওসমানও নিশ্চিত নন

বিষেরবাঁশী ডেস্ক: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন প্রদানের ক্ষেত্রে নিজস্ব জরিপে এগিয়ে থাকা প্রার্থীদের গুরুত্ব দেবেন বলে জানিয়েছেন সংসদীয় বোর্ডের সভায়। সোমবার রাতে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে আওয়ামী লীগের সংসদীয় মনোনয়ন বোর্ডের এক অনির্ধারিত সভায় এ সংক্রান্ত আলোচনা হয় বলে সূত্র নিশ্চিত করেছে।

জাতীয় সংসদের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ২০৭ নং নির্বাচনী এলাকা নারায়ণগঞ্জ-৪ আসন । ৬ লাখ ৫৩ হাজার ৬৩৯ জন আসনের ভোটারের মন জয় করে জয়ী হতে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন পেতে ইতিমধ্যে দলীয় মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন এ আসনে ২০১৪ সালের নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত এমপি শামীম ওসমান, জাতীয় শ্রমিকলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির শ্রমিক উন্নয়ন ও কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক কাউসার আহমেদ পলাশ, কেন্দ্রীয় অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপকমিটির সদস্য কামালা মৃধা, মহানগর আওয়ামীলীগের সহসভাপতি হালিম শিকদার।

মনোনয়ন বোর্ডের এক অনির্ধারিত সভায় আওয়ামীলীগ সভাপতি শেখ হাসিনা সভায় উপস্থিত মনোনয়ন বোর্ডের অন্যান্য সদস্যদের উদ্দেশে বলেন, মনোনয়নের ক্ষেত্রে আমরা নিজস্ব জরিপকে গুরুত্ব দেব। সে ক্ষেত্রে নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় জনপ্রিয় গণসম্পৃক্ত প্রার্থীদের প্রাধান্য দেয়া হবে।এছাড়া তিনি বলেছেন বলেছেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক হবে। সেক্ষেত্রে প্রার্থী বাঁঁঁছাইয়ে অধিক গুরুত্ব দিতে হবে। দলের যত প্রভাবশালী নেতাই হোক না কেন নির্বাচনী এলাকায় জনপ্রিয়তা, গণসম্পৃক্ততা ও স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে সুসম্পর্ক না থাকলে নির্বাচনে মনোনয়ন দেয়া হবে না বলেও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন।

সভানেত্রীর কথা অনুসারে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে শামীম ওসমানের মনোনয়ন অনেকে নিশ্চিত মনে করলেও তা বাস্তবে অতোটা সহজে মিলবেনা। কেনান দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এমপি হওয়ার পর থেকেই নানা সমালোচনায় প্রশ্নবিদ্ধ হন শামীম ওসমান। যার ফলে কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতাদের তোপের মুখে পড়েন তিনি। এদিকে চলতি বছরের ১৬ জানুয়ারি হকার ইস্যুতে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের (নাসিক) মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর উপর হামলার ঘটনায় মেয়রসহ অর্ধশত আহতের ঘটনায়ও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের কাছে সমালোচিত হন শামীম ওসমান। এ ঘটনার আগের দিনই চাষাড়ায় হকারদের সাথে এক জনসভায় বঙ্গবন্ধু সড়কে হকার বসার নির্দেশ দেন শামীম ওসমান। এছাড়া নমপার্কে এক সভায় তিনি জেলা ও মহানগর আওয়ামীলীগ কমিটি তাঁর প্রেসক্রিপশনে সবাই স্থান পেয়েছে বলে তিনি মন্তুব্য করেন। ফলে স্থানীয় আওয়ামীলীগের শীর্ষ নেতাদের সমালোচনার মুখে পড়েন শামীম ওসমান। এছাড়া শামীম ওসমানের পক্ষে দলীয় মনোনয়ন কেনার দিন শনিবার সরকারী তোলারাম কলেজে পরীক্ষার হলে শামীম ওসমানের পক্ষে প্রচারণা চালাতে গিয়ে তুমুল সমালোচনার মুখে পড়েন মহানগর ছাত্রলীগ সভাপতি হাবিবুর রহমান রিয়াদ।

শামীম ওসমানের সাথে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী শ্রমিকনেতা কাউসার আহমেদ পলাশ এলাকায় ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ে ব্যাপক জনপ্রিয়। মনোনয়ন পেলে এ আসনে নৌকাকে জেতানোর সক্ষমতা রয়েছে বলে দাবি তার সমর্থকদের। হকার ইস্যুতে শামীম ওসমান যখন কেন্দ্রীয় নেতাদের তোপের মুখে পড়েন। এর কয়েক মাস পরই আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের আকস্মাৎ সফরে আলীগঞ্জ কাউসার আহমেদ পলাশের বাসায় আসেন।

সেতুমন্ত্রীর হঠাৎ আগমনে তখন থেকেই এ আসনে শামীম ওসমানের বিকল্প হিসেবে কাউসার আহমেদ পলাশকে আওয়ামীলীগের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এছাড়া মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন, জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুল হাই, নাসিক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীসহ স্থানীয় আওয়ামীলীগের সমর্থন কাউসার আহমেদ পলাশের জন্য বাড়তি পাওনা হিসেবে কাজ করবে।
এ আসনে আওয়ামীলীগের সম্ভাব্য মনোনয়ন প্রত্যাশী কামাল মৃধাও ব্যাকফুট থেকে হঠাৎ আলোচনায় আসেন। বিশেষ করে এখানে হকার ইস্যুতে শামীম ওসমান সমালোচনায় বিদ্ধ হওয়া।

চলতি বছরের ১৬ জানুয়ারি হকার ইস্যুতে নাসিক মেয়রের উপর আক্রমন হয়। এ ঘটনায় নিন্দার মুখে পড়েন শামীম ওসমান। ঘটনাল একদিন পরই সাবেক ছাত্রলীগ ও যুবলীগ নেতা কামাল মৃধাকে কেন্দ্রীয় অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপকমিটির সদস্য হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

কেন্দ্রীয় পর্যায়ে স্থান পেয়েই এর কয়েকমাস পরেই সাংবাদিক সম্মেলন করে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে প্রার্থীতা করার ঘোষণা দেন কামাল মৃধা। এরপর বিভিন্ন এলাকায় তিনি প্রচারণাও চালিয়েছেন। কামাল মৃধার মতে, তিনি সন্ত্রাসী কার্যক্রম নয়, শামীম ওসমানের ঠিক বিপরীত উল্টো পজিটিভ রাজনীতি করেই মানুষের মন জয় করতে চান। শামীম ওসমানের চেয়ে কয়েকগুন ভালো ফলাফল এনে দিয়ে দলীকে জয়ী করতে পারবেন বলে বিশ্বাস করেন তিনি।

এ আসনে আওয়ামীলীগের সম্ভাব্য মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে রয়েছেন মহানগর আওয়ামীলীগের সহসভাপতি হালিম শিকদার। জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এ আসনে মনোনয়ন পাবেন বলেই বিশ্বাস করেন। তার দাবি তার সাথে তরুণ সমাজ রয়েছে। মনোনয়ন পেলে ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জের বঞ্চিত জনগোষ্ঠীর জন্য কাজ করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তিনি।

১২ নভেম্বর রাতে মনোনয়ন বোর্ডের এক অনির্ধারিত সভায় শেখ হাসিনা বলেন, যে সকল আসনে নতুন প্রার্থী দেয়া হবে সে সকল নতুন প্রার্থীর ক্ষেত্রে তাদের রাজনৈতিক দক্ষতা সক্ষমতা জনপ্রিয়তা গণসম্পৃক্ততা স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে সম্পর্ক ইত্যাদি বিবেচনা করেই মনোনয়ন চূড়ান্ত করা হবে। তবে মনোনয়নের ক্ষেত্রে জনপ্রিয়তা সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য পাবে বলে জানান ঘনিষ্ট সূত্রটি।

জানা গেছে, আগামী শনিবার আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ধানমন্ডি রাজনৈতিক কার্যালয়ে মনেনায়নপ্রত্যাশী প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার নেবে সংসদীয় বোর্ড।

বিষেরবাঁশী ডেস্ক/সংবাদদাতা/হৃদয়

Categories: নারায়ণগঞ্জের খবর,রাজনীতি

Leave A Reply

Your email address will not be published.