বৃহস্পতিবার ১ অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ ১৫ নভেম্বর, ২০১৮ বৃহস্পতিবার

বৃহস্পতির সেই প্রলয় ঝড়, কাছ থেকে দেখবে নাসার যান

বিষেরবাঁশী ডেস্ক: গত কয়েক শতাব্দীর রহস্যের জট হয়তো খুলে যেতে পারে মঙ্গলবার সাতসকালে। মহাকাশে, গুরুগ্রহ বৃহস্পতির মুলুকে। কেন গত সাড়ে ৩০০ বছর ধরে তুমুল ঝড় বয়ে চলেছে বৃহস্পতির পিঠে সুবিশাল একটা এলাকাজুড়ে, এই প্রথম এত কাছ থেকে তাকে বোঝা, তার কারণ খোঁজার সুযোগ পাবে নাসার পাঠানো মহাকাশযান- জুনো। ঠিক একবছর আগেই জুনো ঢুকে পড়েছিল বৃহস্পতির পাড়ায়! গুরুগ্রহর সবচেয়ে কাছে পৌঁছনোর সাহস দেখিয়েছিল! সেই জুনোই এবার আরও বেশি দুঃসাহসী হতে চলেছে মঙ্গলবার সাতসকালে (ভারতীয় সময় সকাল ৭টা ২৫ মিনিটে)। সাড়ে ৩০০ বছর ধরে চলা বৃহস্পতির সেই প্রলয়ংকর ঝড় পৃথিবী থেকে জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের চোখে প্রথম ধরা পড়েছিল আজ থেকে ১৮৭ বছর আগে, ১৮৩০ সালে।

এমন প্রলয়ংকর, এত দীর্ঘমেয়াদি ঝড় এখন পর্যন্ত এই সৌরমণ্ডলের আর কোথাও, অন্য কোনো গ্রহ বা কোনো ভিন মুলুকে দেখা যায়নি। জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা বৃহস্পতির এই প্রলয়ংকর ঝড়টার নাম দিয়েছেন গ্রেট রেড স্পট (জিআরএস)। যা দেখতে দগদগে লাল ক্ষতের মতো! অ্যারিজোনা থেকে রবিবার আনন্দবাজারকে টেলিফোনে এই খবর দিয়েছেন নাসার জুনো মিশন-এর অন্যতম কার্যনির্বাহী সদস্য, জন্স হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যোতির্বিজ্ঞান বিভাগের এমেরিটাস প্রফেসর ধ্রুবজ্যোতি মুখোপাধ্যায়।

ধ্রুবজ্যোতিবাবুর কথায়, এই প্রলয়ংকর ঝড়টা খুব একটা অল্প এলাকাজুড়ে হচ্ছে না। সেই এলাকাটা কম করে ১০ হাজার বর্গ মাইল বা ১৬ হাজার বর্গ কিলোমিটার! এত বিশাল একটা এলাকাজুড়ে সেই প্রলয়ংকর ঝড়টা বয়েই চলেছে বৃহস্পতির পিঠে গত সাড়ে ৩০০ বছর ধরে। কিন্তু কেন সেই ঝড়টা বয়ে চলেছে এত দিন ধরে, এতটা বিশাল এলাকাজুড়ে, এত দিন তার বিন্দুমাত্র কারণও জানতে পারেননি বিজ্ঞানীরা। এর আগে কোনো মহাকাশযানই গুরুগ্রহর ওই প্রলয়ংকর ঝড়ের এত কাছাকাছি পৌঁছনোর সাহস দেখাতে পারেনি বলে।

এবারের মহাকাশযান জুনোর ভয়ডর কম। গত বছরের ৪ জুলাই রীতিমতো বুক ফুলিয়ে জুনো বৃহস্পতির সবচেয়ে কাছে পৌঁছে যাওয়ার সাহস দেখিয়েছিল। তার পর ধীরে ধীরে সে আরও কাছে গিয়েছে গুরুগ্রহর। পাশ দিয়ে বৃহস্পতিকে চক্কর মারতে মারতে গত এক বছরে আরও পাঁচ বার সে খুব কাছাকাছি এসেছে গুরুগ্রহর। যেন গুরুকে অনেকটাই ছুঁতে পেরেছে! আর এবার সাতসকালে জুনো পৌঁছে যাবে বৃহস্পতির সবচেয়ে স্পর্শকাতর সেই গ্রেট রেড স্পট এর সবচেয়ে কাছাকাছি।

ওই সময় জুনো থাকবে বৃহস্পতির মেঘ-রাজ্যের শীর্ষবিন্দু থেকে ঠিক ২ হাজার ২০০ মাইল বা সাড়ে ৩ হাজার কিলোমিটার ওপরে। চাট্টিখানি কথা! ওই প্রলয়ংকর ঝড়ের অতটা কাছে যাওয়ার সাহস দেখানো কি মুখের কথা? শুধু তাই নয়, ধ্রুবজ্যোতিবাবু জানাচ্ছেন, মাত্র ১১ মিনিট ৩৩ সেকেন্ড সময়ের মধ্যেই জুনো ১০ হাজার বর্গমাইল এলাকাজুড়ে বয়ে চলা বৃহস্পতির ওই প্রলয়ংকর ঝড়ের প্রায় অর্ধেকটাই জরিপ করে নিতে পারবে, চক্কর মারতে মারতে। জুনোক্যাম সহ তার ৮টি গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জাম নিয়ে।

বিষেরবাঁশী ডেস্ক/সংবাদদাতা/হৃদয়

Categories: চিত্র-বিচিত্র,সারাদেশ

Leave A Reply

Your email address will not be published.