শনিবার ৩ অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ ১৭ নভেম্বর, ২০১৮ শনিবার

ক্ষুধার রাজ্যে পৃথিবী গদ্যময়…

বিষেরবাঁশী ডেস্ক: কথাটি চিরন্তন সত্য। গদ্যময় পৃথিবীতে সে সময় পূর্ণিমার চাঁদকেও মনে হয় ঝলসানো রুটি। কবি সুকান্ত, আপনার দেওয়া এই চিরন্তন বাণী পৃথিবীর অস্তিত্ব বিলোপ হওয়ার আগ পর্যন্ত অমর হয়ে থাকবে। দ্রুত অর্থনৈতিক উন্নয়ন সত্ত্বেও এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলে অর্ধশত কোটি (৪৮ কোটি ৬০ লাখ) মানুষ ক্ষুধার্ত অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে। তথ্যটি জাতিসংঘের। সতর্কবাণী উচ্চারণ করে প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, ২০৩০ সালের মধ্যে সব ধারার অপুষ্টিজনিত সংকট দূর করে ক্ষুধামুক্ত দেশ গড়ার অঙ্গীকার পূরণ করতে না পারলে এশিয়ার দেশগুলো মানবসম্পদের ক্ষেত্রে মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে।

খাদ্য ও কৃষি সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়, পূর্ব ও দক্ষিণপূর্ব এশিয়ায় অপুষ্টিজনিত মানুষের সংখ্যা মহাদেশের অন্যান্য অঞ্চল থেকে তুলনামূলক বিচারে বেশি বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রতিবেদনে আরো উল্লেখ করা হয়, এসব অঞ্চলে এ ক্ষেত্রে কয়েক বছর ধরে কোনো উন্নতি নেই।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ব্যাংকক ও কুয়ালালামপুরে এমন অনেক দরিদ্র পরিবার আছে, যারা তাদের শিশুকে ভালো খাবার দিতে পারে না। ভালো খাদ্যের অভাবে প্রায়ই বিভিন্ন স্বাস্থ্য জটিলতায় পড়ে এসব শিশু। প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, ২০১৭ সালে এখানকার এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি শিশু পর্যাপ্ত খাবার পায়নি। অন্যদিকে, পাকিস্তানে মাত্র ৪ শতাংশ শিশু গ্রহণযোগ্য মাত্রার সর্বনিম্ন পর্যায়ের খাবার পেয়েছে। এসব অঞ্চলে পাঁচ বছরের কম বয়সী প্রায় ৭ কোটি ৯ লাখ শিশু এমন পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছে। সংস্থাটি বলেছে, এমন অবস্থা চলতে থাকলে ২০৩০ সালের মধ্যে ক্ষুধা মুক্তির কোনো সম্ভাবনা নেই।

প্রকৃত অর্থে বণ্টন ব্যবস্থায় যত দিন গরমিল থাকবে, তত দিন ক্ষুধামুক্তির কোনো সম্ভাবনা নেই। আমরা মুখে মুখে বড় বড় কাজের ঘোষণা দিতে পারি এবং তা অবিরাম গতিতে দিয়েই চলেছি। তাদের বচন শুনলে মনে হতে পারে দেশে আর একটি মানুষও অভুক্ত নেই। ক্ষুধামুক্ত দেশেই তাদের বসবাস। এখন তারা বিশ্বকে ক্ষুধামুক্ত করার জন্য কাজ করার আহ্বান জানিয়ে চলেছেন। কিন্তু তাদের মুখ থেকে সম্পদের সুসম বণ্টনের কথা শোনা যায়নি। আর সম্পদের সুসম বণ্টন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হওয়ার আগে যে বিশ্বকে ক্ষুধামুক্ত করা সম্ভব নয়, তা একটি বিজ্ঞানভিত্তিক সত্য। এ সত্যকে অস্বীকার করার ক্ষমতা কারো নেই।

আমরা মনে করি, বিশ্বকে ক্ষুধামুক্ত করতে সর্বাগ্রে প্রয়োজন একটি যৌথ রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। অতঃপর সততার সঙ্গে সে সিদ্ধান্তকে কার্যকর করা। কে কীভাবে কার্যকর করতে চান সে ব্যাপারে আলোচনা হতে পারে। হতে পারে পরীক্ষা-নিরীক্ষা। তবে সিদ্ধান্ত এবং তা কার্যকর করার মূল শক্তিকে হতে হবে শতভাগ সততার একটি নিদর্শন। বাস্তবতা যদিও এর বিপরীতে। তবু প্রত্যাশা করতে দোষ কোথায়! আর সেটি আমরা করতেই পারি।

বিষেরবাঁশী ডেস্ক/সংবাদদাতা/হৃদয়

Categories: খোলা বাতায়ন

Leave A Reply

Your email address will not be published.